কুড়িয়া পাওয়া সেই নবজাতকের নাম রাখা হলো মুজিবুর

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

কুড়িয়া পাওয়া সেই নবজাতকের নাম রাখা হলো মুজিবুর

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৮:৫১ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৯:০১ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

খাল থেকে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক

খাল থেকে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতক

মা ভেবে ছিলেন রাতের অন্ধকারে জন্ম নেয়া নবজাতককে খালে ফেলে দিলে তার নিশ্চিত মৃত্যু হবে। শিয়াল-কুকুরে খেয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। তাতে কলঙ্কের কালিমা লেপন থেকে মুক্তি পাবেন।

কথায় বলে ‘রাখে আল্লাহ, মারে কে’। মহান সৃষ্টিকর্তার উপর অসীম বিশ্বাস থেকে সৃষ্ট সেই কথাই আবার প্রমাণ হলো। সারা রাত হিংস্র জন্তুর চোখ আড়াল করে ভোরের সূর্য উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটফুটে সেই নবজাতক আশ্রয় পেল আরেক মায়ের কোলে। কুড়িয়ে পাওয়া ওই নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘মুজিবুর রহমান’।

গত ৫ ফেব্রয়ারি ভোরে চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা-টাটেরা গ্রামের একটি খাল থেকে এক ছেলে নবজাতককে উদ্ধার করেছিল মনোয়ারা বেগম নামে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। পরে ওই নবজাতকের দায়িত্ব নেন বাড়েরা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. শাহিন আলম।

ওয়ার্ড মেম্বার শাহিন আলম জানান, আমার নয় বছর বয়সী এক মেয়ে আছে। তার নাম ফাহমিদা আক্তার সুমা। আমার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার ওই শিশুটির নাম রেখেছে ‘মুজিবুর রহমান’। 

কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মেরে ফেলতে অনেক ষড়যন্ত্র করেছিল পাকিস্তানি শত্রুরা। কিন্তু শত চেষ্টা করেও শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারেনি। জাতির পিতা শত বাধা উপেক্ষা করে নিজের জীবন বাজি রেখে দেশকে শত্রু মুক্ত করে দেশের স্বাধীনতা এনেছেন। 

এক মা সমাজের কলঙ্ক থেকে নিজে মুক্তি পেতে তার সন্তানকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করে। সন্তান জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাতের অন্ধকারে কাদা-পানির খালে ফেলে দিয়েছিল। মাঘের কনকন শীতে নির্জন অন্ধকারে পড়ে থাকা ওই শিশুটিও জন্মের পর থেকে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। তাই ওর নাম রাখা হয়েছে ‘মুজিবুর রহমান’। 

শাহিন আলম আরো বলেন, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শিশুটিকে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি চান্দিনার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেই। ৪-৫ দিন পর সে আবারো অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবির পর্যবেক্ষণ শিশু ইউনিটে ১০দিন চিকিৎসা শেষে বাড়িতে আনি। আল্লাহর রহমতে এখন অনেকটা ভালো আছে মুজিব। শিশু মুজিবের সুস্থতায় সবার কাছে দোয়া চান ওই ওয়ার্ড মেম্বার।

শিশুটিকে কুড়িয়ে নিয়ে নিজের সন্তানের স্নেহে লালন পালন করায় ওয়ার্ড মেম্বার শাহিন আলম এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ