কুড়িগ্রামে ধরলার ভাঙন, আতঙ্কিত গ্রামবাসী

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২২ ১৪২৬,   ১১ শা'বান ১৪৪১

Akash

কুড়িগ্রামে ধরলার ভাঙন, আতঙ্কিত গ্রামবাসী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৪৯ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৮:৫৭ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শুকনো মৌসুমে কুড়িগ্রামের ধরলা নদীর ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন তিন গ্রামের মানুষ। হুমকিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 

নিজেদের ঘর-বাড়ি আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করতে নদী পাড়ে জড়ো হয়ে দ্রুত ভাঙন রোধের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা শুকনো মৌসুমে ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই সব হারাতে হবে তাদের।

বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউপির মোগলবাসা ঘাটে ভাঙন রোধের দাবিতে মানববন্ধনে আসা তিন গ্রামের মানুষ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই আশঙ্কার কথা জানান।

শত শত শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধিরা ধরলা নদীর ভাঙন কবলিত তীরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কষ্টের কথা প্রকাশ করেন। 

তাদের আকুতি, আমরা কিছুই চাই না। প্রধানমন্ত্রী যেন নদী ভাঙনের কবল থেকে আমাদের ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, মসজিদ, মন্দির রক্ষায় যেন দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। 

জানা গেছে, গত এক মাস ধরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউপির কিসামত, কিসামত মোগলবাসা ও সিতাইঝাড় গ্রামে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ধরলা নদীর ভাঙনে এরইমধ্যে কয়েক’শ ঘর-বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। 

ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে তিন গ্রামের পাঁচ শতাধিক ঘর-বাড়ি, মোগলবাসা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, খেলার মোড় মাদরাসা, সেনের খামার উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, সন্নাসীর পাঠ মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির, ঐতিহ্যবাহী মোগলবাসা হাট, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। 

গত এক বছরে ধরলা নদীর ভাঙন এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তীর রক্ষা বাঁধের একেবারে কাছে চলে এসেছে। এ অবস্থায় ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে বাঁশের বান্ডেল দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও তা কোনো কাজে আসছে না।

মোগলবাসা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হাই জানান, বিদ্যালয়ে ১২শ শিক্ষার্থী। নদী বিদ্যালয়ের সন্নিকটে চলে এসেছে। এখনই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমের আগেই বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। 

মোগলবাসা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বাবলু জানান, ধরলার ভাঙনে এরই মধ্যে মোগলবাসা ইউপির বেশকিছু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে শুকনো মৌসুমেই আরো বেশকিছু ঘর-বাড়ি ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধরলা গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। দ্রুত এ ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের কাছে জোর দাবি করছি।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, মোগলবাসার ইউপির ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী প্রতিরোধের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধরলার ভাঙন রোধে ওই এলাকায় অস্থায়ীভাবে কাজ শুরু করা হবে। 

তিনি আরো বলেন, ধরলার ডানতীর রক্ষা প্রকল্প নামে স্থায়ী প্রতিরোধের জন্য একটি প্রকল্প একনেকে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রকল্পটি পাশ হলে মোগলবাসাসহ ধরলার ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে