কুৎসিত দেখাতে সুন্দরী এই নারীরা মুখের বিকৃতি ঘটায়!

ঢাকা, বুধবার   ০৩ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪২৭,   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কুৎসিত দেখাতে সুন্দরী এই নারীরা মুখের বিকৃতি ঘটায়!

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০০ ৫ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৪:১১ ৫ এপ্রিল ২০২০

ছবি: আপাতানি নারীরা

ছবি: আপাতানি নারীরা

মানুষ সুন্দর হতে কতো কিছুই না করে! বর্তমানে তো সুন্দর হওয়ার আশায় মানুষ নিজের আসল চেহারাও প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে বদলে ফেলে। তবে এমন নারীদের সম্পর্কে জানেন কি, যারা সুন্দর হয়েও কুৎসিত দেখানোর আশায় মুখের বিকৃতি ঘটায়? কেন তারা এমন অমানবিক কাজ করে? তবে জেনে নিন-

আপাতানি নারীশরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গে বিভিন্ন প্রকার উল্কি আঁকা কিংবা ছিদ্র করা অনেক আদি নৃগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। যেগুলো স্বাভাবিক দৃষ্টিতে অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে। ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার সুবানশ্রি জেলায় বসবাসকারী নৃগোষ্ঠী আপাতানি উপজাতি। 

কাপড় বুনছেন এক আপাতানি নারীআপাতানি জনগণ কৃষি কাজ এবং মাছ ধরার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। তবে তারা কৃষি কাজ করতে কোনো পশু বা যন্ত্রের সাহায্য নেয় না। আপাতানিদের জীবন ধারণ পদ্ধতি বেশ আকর্ষণীয়। তাদের ঐতিহ্যবাহী সাজ-পোশাকেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ধর্ম বিশ্বাসে তারা প্রকৃতি পূজারী। চন্দ্র ও সূর্য তাদের প্রধান উপাস্য। পশুবলি আপাতানি উপজাতির বিশেষ ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম। সাধারণত শূকর বলিদানেই তারা অভ্যস্ত। 

আপাতানি বয়স্ক নারীরাআপাতানিরা ছোট প্রাণী শিকার করে তাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দেবতাকে উৎসর্গ করে। তারা অশুভ শক্তিকে ভয় পায় এ জন্য তাদের গত্রের কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে মৃতের কবরে পশুর কঙ্কাল উৎসর্গ করা হয়। আপাতানি উপজাতির নারীরা একটি অদ্ভূত রীতি পালন করত। যার চিহ্ন এখনো তারা শরীরে নিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা মুখে উল্কি আঁকত এবং নাকের দুই পাশেই ছিদ্র করে বড় বড় প্লাগ ব্যবহার করত। এর পেছনে একটি অদ্ভূত ইতিহাস বিদ্যমান আছে। 

তারা কুৎসিত দেখাতে মুখ বিকৃত করেছিলআপাতানি উপজাতির মেয়েরা উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর নারীদের চেয়ে অনেক সুন্দরী ছিল। তাদের সৌন্দর্য সর্বত্র চর্চিত হত। আপাতানি নারীদের সৌন্দর্যের এতটাই খ্যাতি ছিল যে অন্যান্য উপজাতির পুরুষরা তাদের অপহরণ করে নিয়ে যেত। এমনকি তাদের স্বামীরাই তাদের সৌন্দর্য নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়ত। এর থেকে বাঁচার জন্যই জন্ম নেয় এই অদ্ভুত প্রথার। 

বৃদ্ধ নারীরা মাঠেও কাজ করেনিজেদেরকে অসুন্দর দেখাতে আপাতানি নারীরা মুখ জুড়ে দাগ কাটত এবং নাক ছিদ্র করে ভিতরে কাঠের প্লাগ ব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীকালে এটিই ঐতিহ্যবাহী রীতিতে পরিণত হয়। তবে আপাতানি উপজাতির বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সেই রীতির প্রচলন নেই। ১৯৭০ এর দশকে ভারত সরকার শরীর ছিদ্র করার মত অমানবিক রীতি পালনের উপর নিষেজ্ঞা জারি করে। এর পর থেকে আপাতানিদের মধ্য থেকে প্রচলনটি উঠে যায়। 

বর্তমানে আপাতানি নারীতবে শেষ প্রজন্মের আপাতানি নারীদের মধ্যে যারা নাক ছিদ্র করেছিলেন তাদের শরীরে এখনো তা বিদ্যমান রয়েছে। এজন্য আপাতানি বৃদ্ধা নারীদের মুখে অতীতের সেই রীতির চিহ্ন বর্তমানেও দেখা যায়। বর্তমানে আপাতানি উপজাতির মধ্যেও অধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। তারা অরুণাচল প্রদেশের অগ্রসর উপজাতির একটি। তবে তারা এখনো নিজেদের অনেক আদিম রীতিনীতিও আঁকড়ে ধরে আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস