.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৪ রজব ১৪৪০

কুষ্টিয়ায় চালের দাম বৃদ্ধি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ২০:৩৭ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২০:৩৭ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ায় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম প্রতি বস্তায় দাম বেড়েছে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে। কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর। এখানকার চালকল মালিকদের দাবি ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বেড়েছে। ধানের বাজার বেড়ে গেলে চালের বাজার আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মিলার ও মিল মালিক সমিতির নেতারা। 

গত বছরের জুনের পর ডেকে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চালের বাজার স্থিতিশীল ছিল। বিগত দুই বছরের তুলনায় চালের দাম সর্বনিম্ন ছিল এ সময়টাতে। বাইরের দেশ থেকে অব্যাহত চাল আসা ও অভ্যন্তরীণ বাজারের ধান ও চালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দামও কমে আসে। দেশি চালের কেনাবেচাও কমে যায় যে কোনো সময়ের তুলনায়। খাজানগরের সাড়ে তিন শতাধিক মিলের প্রচুর চালের মজুদ হয়ে যায়। এ সময় আঠাস, কাজললতা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকার নিচে। আর সরু চালে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকার সামান্য বেশি।

খাজানগরের মিল মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, ২০১৮ সালের চালের বাজার স্বাভাবিক ছিল। নির্বাচনী বছর হওয়ায় সরকার চালের বাজারকে ব্যাপক নজরদারিতে রাখে। অনেক মিলে অভিযান চালানো হয়। বাইরে থেকে চাল আনা হয়। এসব কারণে বাজার বাড়েনি। বরং বেশি দামে ধান কিনে মিল মালিকরা কম দামে চাল বিক্রি করেছেন। এখন ধানের সংকট আছে। আর বিভাগীয় ও জেলা শহর গুলোর আড়তে চালের চাহিদা থাকায় মোকামে কিছুটা দাম বেড়েছে। তবে যে দাম বেড়েছে সেটা যৌক্তিক। 

চালের দাম বাড়ার খবরে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বড় বড় শহরের পাইকাররা গত দুই সপ্তাহে বিপুল পরিমান চাল খাজানগর মোকাম থেকে কিনে নিয়ে গেছে। খাজানগরের মিলগুলো এখন চাল শূন্য বলা যায়। 

ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিল মালিকরা এখন ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা বেশি ধান কিনে স্টক করে চাল তৈরি বাজারে ছাড়লে দাম পাওয়া যাবে। তবে সরকার যে কোনো সময় বাইরে থেকে কম দামে আমদানির সুযোগ দিলে তখন দেশি চাল বিক্রি কমে যেতে পারে। তখন লোকসানে পড়তে হতে পারে। এ কারণে অটো চালকল মালিকরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। তারা প্রতিদিন ধান সংগ্রহ করছেন। যে দামে ধান কিনছেন সেই অনুপাতে উৎপাদন করে বাজারে চাল ছাড়ছেন।
জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, গত বছর দেশি চালের বাজার ছিল যে কোনো সময়ের তুলনায় কম। সাধারণ মানুষ অনেক সস্তায় চাল ক্রয় করতে পেরেছে। এছাড়া গত বছর আবহাওয়া ভাল থাকা কোনো দুর্যোগ না হওয়ায় দেশি ধানের উৎপাদন হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। খুচরা পর্যায়ে চাষিরা ধানের দাম পাইনি। পানির দামে ধান বিক্রি করতে হয়েছে তাদের। এখন ধানের দাম বাড়ায় চালের দাম বাড়ছে। 

খাজানগরের অটো রাইস মিলগুলোতে কাজললতা চাল বিক্রি হয়েছে ৪৫টাকা কেজি। আর সরু চাল বিক্রি হয়েছে ৪৯ টাকা কেজি। নভেম্বর মাসে কাজললতা বিক্রি হয়েছে ৩৯ টাকা থেকে ৪০ টাকায়। আর মিনিকেট বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৪৪ থেকে ৪৭ টাকা পর্যন্ত। তখন ধানের দাম ছিল হাজারের নিচে। এখন সরু ধান বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকায়। আর কাজললতা বিক্রি হচ্ছে হাজারের নিচে। আর স্বর্ণা মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকায়। ধানের দাম পড়ছে ৭০০ টাকার মত। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর