কুমিল্লায় পাসের হার ৬৫.৪২

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

কুমিল্লায় পাসের হার ৬৫.৪২

 প্রকাশিত: ১১:২৮ ১৯ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ২০:২২ ১৯ জুলাই ২০১৮

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ ভাগ। 

এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৬টি জেলা থেকে মোট পরীক্ষা দিয়েছে ১ লক্ষ ৩ হাজার ৬৬৬ জন। আর পাস করেছে ৬৭ হাজার ৮২০ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ ভাগ। আর এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯৪৪ জন। পাস এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যার দিক থেকে গত বছরের তুলনায় এবার বেশ ভাল করেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড।

গত বছর মোট পরীক্ষা দিয়েছিল ১ লক্ষ ৩৭২ জন। আর পাস করেছিল ৪৯ হাজার ৭০৪ জন। পাসের হার ছিল ৪৯ দশমিক ৫২ ভাগ। আর জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ছিল ৬৭৮ টি। যা এবারের চেয়ে ২৬৬ জন কম।

এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাস করেছে ১৪টি কলেজ আর  শূন্যে পাসের কলেজ সংখ্যা হলো ২টি। এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে খারাপ করেছে ইংরেজি বিষয়ে। এ বিষয়ে পাসের হার হল শতকরা ৭৩ ভাগ। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান জানান, ইংরেজীতে বেশিসংখ্যক পরীক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে শিক্ষা বোর্ড।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লা সূত্রে জানা যায়, এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কুমিল্লা , চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী এই ৬টি জেলার ৩৮১টি কলেজের ১ লক্ষ ৩ হাজার ৬৬৬ জন  এবার এইচএস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিল ৩০ হাজার ৩৬৮ জন। আর  মেয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ৩৭ হাজার  ৪৫২ জন। মোট পাসের হার ৬৫.৪২ ভাগ। এর মধ্যে ছেলে ৬৩.৪৯ ভাগ এবং মেয়ে ৬৭.০৮ ভাগ।

বিভাগওয়ারী ফলাফল

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এবার বিভাগওয়ারী ফলাফলে সবচেয়ে ভাল ফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগ। এ বিভাগ থেকে মোট পরীক্ষা দিয়েছে ২২ হাজার ৪৮৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১১ হাজার ৮৩৪ আর ছাত্রী ১০ হাজার ৬৫৩। এ বিভাগে পাস করেছে ১৮ হাজার ৬৭৬ জন। পাসের হার ৮৩.০৫ ভাগ। এর মধ্যে ছাত্র ৯ হাজার ৭৪৭ জন আর ছাত্রী পাস করেছে ৮ হাজার ৯২৯ জন।  এ বিভাগে জিপিএ ৫ মেয়েছে ৭৯৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪১৭ আর ছাত্রী ৩৮২ জন। মানবিগ বিভাগ থেকে মোট পরীক্ষা দিয়েছে ৪৩ হাজার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৪ হাজার ৯০২ আর ছাত্রী ২৮ হাজার ৮৫৬জন। পাস করেছে ২৪ হাজার ৭৭৩ জন। পাসের শতকরা হার ৫৬.৬১ ভাগ। এর মধ্যে ছাত্র পাস করেছে ৭ হাজার ৬১৮ জন আর ছাত্রী পাস করেছে ১৭ হাজার ১৫৫ জন। এ বিভাগে জিপিএ ৫ মেয়েছে ৫৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৫ আর ছাত্রী ৩৮ জন। বানিজ্য বিভাগে মোট পরীক্ষা দিয়েছে ৩১ হাজার ৪২১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২১ হাজার ৯৫ আর ছাত্রী ১৬ হাজার ৩২৬ জন। পাস করেছে ২৪ হাজার ৩৭১ জন। এর মধ্যে ছাত্র  পাস করেছে ১৩ হাজার ৩ জন আর ছাত্রী পাস করেছে ১১ হাজার ৩৬৮ জন। এ বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৯ আর ছাত্রী ৬৩ জন।

ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে

এবার এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাস এবং জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এবার মোট ছেলে পরীক্ষা দিয়েছে ৪৭ হাজার ৮৩১ জন। আর পাস করেছে ৩০ হাজার ৩৬৮ জন। পাসের হার ৬৩.৪৯ ভাগ। আর মেয়ে পরীক্ষা দিয়েছে  ৫৫ হাজার ৮৩৫ জন। পাস করেছে ৩৭ হাজার ৪৫২ জন। পাসের হার  ৬৭.০৮ ভাগ। এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতেও ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। মোট ৯৪৪টি জিপিএ ৫ এর মধ্যে এবার ছেলেরা পেয়েছে ৪৬১ টি আর মেয়েরা পেয়েছে ৪৮৩টি।

কুমিল্লা বোর্ডে সেরা কুমিল্লা জিলা

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৬টি জেলার মধ্যে এবার এইচেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে  বোর্ড সেরা জেলা নির্বাচিত হয়েছে কুমিল্লা জেলা। আর ৬ জেলার মধ্যে সর্বনিম্ম  ফলাফল করেছে ফেনী জেলা। জেলাওয়ারী ফলাফল হলো, নোয়াখালী জেলা থেকে এবার মোট ৪৫টি কলেজের ১৮ হাজার ৫৭৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১১ হাজার ২২২ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। পাসের শতকরা হার ৬০.৪০ ভাগ। ফেনী জেলার ৪০টি কলেজ থেকে এবার ১০ হাজার ৬২৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫ হাজার ৪০১ জন। পাসের শতকরা হার  ৫০.৮২ ভাগ। লক্ষ্মীপুর জেলার ৩২টি কলেজ থেকে এবার ৯ হাজার ২১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫ হাজার ৪৮১ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। পাসের হার ৫৯.৪৯ ভাগ। চাঁদপুর জেলার ৬২টি কলেজ থেকে এবার মোট পরীক্ষা দিয়েছে ১৪ হাজার ৮৭৫ জন। পাস করেছে ১০ হাজার ৩৮৩ জন।পাসের শতকরা হার ৬৯.৮০ ভাগ। কুমিল্লা জেলার ১৪৯টি কলেজ  থেকে ৩৫ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৬ হাজার ২৫৯ জন।  । পাসের শতকরা হার ৭৩.৫৮ ভাগ। এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৫৩টি কলেজ থেকে এবার ১৪ হাজার ৬৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৯ হাজার ৭৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ ভাগ।

বোর্ডের সেরা ১৪ কলেজ

এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে ৩৮১টি কলেজ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ১৪টি কলেজ শতভাগ পাস করার গৌরব অর্জন করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ কলেজ গুলোই হলো কুমিল্লা জেলার। শতভাগ পাস করা কলেজ গুলো হলো, ইস্পাহানী স্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা, সোনার বাংলা কলেজ, কুমিল্লা, জুরানপুর আদর্শ কলেজ কুমিল্লা, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কলেজ, কুমিল্লা, শশীদল আলহাজ্ব আবু তাহের কলেজ কুমিল্লা, আবদুল ওহাব কলেজ, চাটখিল, নোয়াখালী, ড. মনসুর উদ্দিন মোল্লা কলেজ, চাঁদপুর, ছৌট্রতুলাগাঁও মহিলা কলেজ, বেগম রাবেয়া গার্লস কলেজ, কুমিল্লা, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ,কুমিল্লা, মোয়াজ্জেম হোসেন কলেজ, গঙ্গামন্ডল মডেল কলেজ এবং  বগৈর গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা,

শূণ্য পাস করা দুই কলেজ

এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবার সঙ্গে কমেছে শূণ্য পাস করা কলেজের সংখ্যাও। ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে একটি ছাত্রও পাস করেনি এমন কলেজের সংখ্যা ছিল ৩টি। এবার একটি কমে হয়েছে ২টি। শুণ্য পাস করা কলেজ দুটি হলো, কৃঞ্চনগর আবদুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কমলনগর কলেজ লক্ষ্মীপুর।

চার বছরের মধ্যে সেরা ফল

এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড গত চার বছরের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষায় সেরা ফলাফল অর্জন করেছে। ২০১৫ সালে এ বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৯.৮০ ভাগ, ২০১৬ সালে ছিল ৬৪.৪৯ ভাগ, ২০১৭ সালে ছিল ৪৯.৫২ ভাগ এবং চলতি বছর ফলাফল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫.৪২ ভাগ।

ফলাফল বিশ্লেষনে গত চার বছরের মধ্যে এবার পাসের হারের দিক থেকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড ভালো করলেও কুমিল্লার সুশীল সমাজ এ ফলাফল এ সন্তুষ্ট নয়। তাদের বক্তব্য, শতকরা ৩৪.৫৮ ভাগ পরীক্ষার্থী কিভাবে ফেল করল তা বোর্ডকে খুঁজে বের করতে হবে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আমীর আলী চৌধুরী বলেন, গত বছর থেকে এবার পাসের হার বেড়েছে ভাল কথা। কিন্তু দেখতে হবে ৩৪ দশমিক ৫৮ ভাগ পরীক্ষার্থী কেন ফেল করেছে। এত অধীক সংখ্যক পরীক্ষার্থী ফেল করাটা মোটেও্র কাম্য হতে পারে না।

ইংরেজীতে বেশি ফেল

এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজিতে শতকরা ২৭ ভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। এত অধিক সংখ্যক পরীক্ষার্থী কেন ফেল করেছে জানতে চাইলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান জানান, ইংরেজিতে বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে শিক্ষা বোর্ড।

তিনি বলেন, ইংরেজি বিদেশি ভাষা হওয়াতে এ বিষয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের একটা ভীতিও কাজ করে। আগামীতে যেন এ বিষয়ে খারাপ না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখবে বোর্ড।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর