Alexa কুমিল্লায় টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ চরমে

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

কুমিল্লায় টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ চরমে

 প্রকাশিত: ১৯:২৬ ২২ অক্টোবর ২০১৭  

টানা বর্ষণে সড়কে জলাবদ্ধতা

টানা বর্ষণে সড়কে জলাবদ্ধতা

কুমিল্লা প্রতিনিধি: দুই দিনের টানা বর্ষণ আর জলাবদ্ধতায় কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন হাজার হাজার কর্মজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নগরবাসী।

এদিকে রাস্তা ভাঙার কারণে কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চাঁদপুর এবং কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পদুয়ার বাজার এলাকায় যানবাহন গর্তে আটকে যেতে দেখা যায়।

টানা বর্ষণে ভাঙা রাস্তার খাদে পড়ে জলাবদ্ধতার মধ্যেই আটকে আছে আঞ্চলিক গাড়ি

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নগরীর ডিসি রোড, কালিয়াজুরি মাজার রোড,নজরুল এভিনিউ,রানীর বাজার, ভিক্টোরিয়া ডিগ্রি কলেজ রোড, স্টেশন রোড, ইপিজেড এলাকা, ছাতিপট্টি, হাউজিং এস্টেট, কাটাবিল, রেসকোর্স, স্টেডিয়াম মার্কেট,বিসিক শিল্পনগরী, সংরাইশ, জগন্নাথপুর, পাথুরিয়াপাড়া, শুভপুর,সুজানগর, ধর্মপুর, টমছমব্রিজ, শাকতলা ও ঠাকুরপাড়ার বিভিন্ন নিচু এলাকা হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। যানবাহন চলাচলসহ স্বাভাবিক চলাফেরা বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া কোথাও বাসায় ড্রেনের ময়লা পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন ভাঙা রাস্তার গর্তে পড়ে যানবাহন উল্টে যেতে দেখা গেছে। খুব প্রয়োজন না পড়লে লোকজন বাসা থেকে বের হয়নি। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো।

জলাবদ্ধতার বিষয়ে স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান- সামান্য বৃষ্টিতে মার্কেট এলাকা হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। এতে দোকানের ভিতরে ইলেক্ট্রনিক মালামালে পানি লেগে জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কুমিল্লা পদুয়ার বাজার এলাকার শাহ ফযসাল কারীম বলেন, এই এলাকায় যানবাহন আটকে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। রাতে এই এলাকা দিয়ে এখন বাস চলাচল কমে গেছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

সুজন কুমিল্লার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মায়মুনা আক্তার রুবী বলেন, জলাবদ্ধতা কুমিল্লা নগরবাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে কুমিল্লা নগরবাসী এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে না।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ বড়ুয়া বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা ড্রেনের রুটিন ওয়ার্ক গুলো করছি। এছাড়া টমছম ব্রিজের দিকের বড় খালও পরিষ্কার করছি। এদিকে
কার্তিকের শুরুতে কুমিল্লায় বিরামহীন বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় রবিশস্যসহ বোরো আমনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত তিন দিন ধরে সারা দেশের মতো কুমিল্লায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে কৃষক সম্প্রদায়ের কপালজুড়ে।

কুমিল্লা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রোপা আমনসহ অন্যান্য মিলিয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ২শ ২২ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও রবিশস্যর টার্গেট ছিলো ১৩ হাজার হেক্টর। গত তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২শ৫২ হেক্টর ধান ও ৭৬ হেক্টর রবিশস্য আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা কি পরিমাণ হবে তা বৃষ্টি থেমে না যাওয়া পর্যন্ত জরিপ করা সম্ভব না।

কৃষি ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড.শাহিনুল ইসলাম জানান, কার্তিক মাসে টানা বৃষ্টির মত এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে রোপা আমন ও রবিশস্যর কিছুটা ক্ষতি হবেই। তবে এ এ বছর রোপা আমন রবি শস্যর যে টার্গেট রয়েছে তাতে এখন পর্যন্ত ২শ ৫২ হেক্টর ধান ও ৭৬ হেক্টর রবিশস্য আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে জরিপ করা হচ্ছে। বৃষ্টি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তা পুরোপুরি বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের বিষয়ে যত ধরনের সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।

বৃষ্টি যদি আরো দু’একদিন স্থায়ী হয় তাহলে রবিশস্যর ক্ষয়ক্ষতির কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে শাক-সবজির দামে সাধারণ জনগণের নাভিশ্বাস উঠবে বলে মনে করছেন সবজি বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরকে/টিআরএস/এসআই