Alexa কুমিল্লায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতার মোটরসাইকেল বহরে হামলা, আহত ৬

ঢাকা, সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

কুমিল্লায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতার মোটরসাইকেল বহরে হামলা, আহত ৬

 প্রকাশিত: ২১:০১ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭   আপডেট: ১৪:১৮ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অহিদুর রহমান জয়ের মোটরসাইকেল বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জয়ের অনুসারী অন্তত ছয় জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছেন। হামলায় এক ছাত্রলীগকর্মীর হাতের রগ কেটে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলা সদরের মনোহরগঞ্জ বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামছুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা অহিদুর রহমান জয় অভিযোগ করে বলেন, ‘সোমবার বিকালে প্রায় ২০টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে বের হই আমরা। মোটরসাইকেল বহরটি উপজেলা সদরের মনোহরগঞ্জ বাজারে উত্তর মাথায় সিএনজি স্ট্যান্ডে পৌঁছালে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের ভাতিজা আমিরুল ইসলামের নির্দেশে উপজেলা ছাত্রলীগকর্মী রুবেলের নেতৃত্বে সাত-আট জন সন্ত্রাসী হঠাৎ রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

অহিদুর রহমান জয় বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমার কর্মীদের মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা রামদা দিয়ে কুপিয়ে ছাত্রলীগকর্মী ওমর ফারুকের হাতের রগ কেটে দেয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমাদের ছয় জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমাদের ছয়-সাতটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। একটি মোটরসাইকেলে আগুনও দেওয়া হয়েছে।’ আমিরুল ইসলাম নিজেও এক পর্যায়ে হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জয় জানান, আহত ওমর ফারুককে চিকিৎসার জন্য লাকসামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে লাকসাম উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শিহাব খান তাকে চিকিৎসা করতে বাধা দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পর ওমর ফারুককে ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হয়। বিষয়টি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগকর্মী রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আরেক অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় জড়িত কিনা এটা এলাকার মানুষ দেখেছে। আমরা বরং ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব অপি বলেন, ‘আমি ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। আমরা এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি কমিটি করব। এরপর সঠিক তথ্য জেনে এ বিষয়ে আমাদের মতামত জানাবো।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মো. সামছুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছয়টি মোটরসাইকেল মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি। আরও একটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।’ এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আর কে

Best Electronics
Best Electronics