কুমিল্লায় চালু হচ্ছে করোনা রোগীর চিকিৎসা 

ঢাকা, শনিবার   ১১ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৭ ১৪২৭,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কুমিল্লায় চালু হচ্ছে করোনা রোগীর চিকিৎসা 

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৬ ২৭ মে ২০২০   আপডেট: ১৪:৪৬ ২৭ মে ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) ১ জুন থেকে চালু হচ্ছে করোনা রোগীর চিকিৎসা। এরইমধ্যে ১০টি আইসিও বেডসহ ১৫৪টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ফলে উপকৃত হবে কুমিল্লা অঞ্চলের ৬০ লাখ মানুষ। 

বুধবার ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কুমেক পরিচালক ডা. মজিবুর রহমান এসব কথা বলেন। 

ডা. মজিব বলেন, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটিতে আইসিও স্থাপন হয়নি। পরিচালক হিসেবে যোগদানের পরই আইসিও স্থাপনের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করি। কারণ শুধুমাত্র আইসিও না থাকার কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। ফলে একজন রোগী ঢাকায় পাঠানোর সময় রাস্তায় মারা যাচ্ছেন। কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আকম বাহা উদ্দিন বাহার এর প্রচেষ্টায় আমরা ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসিও বেড স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। 

করোনা রোগীদের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কতটুকু প্রস্তুত জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য এরইমধ্যে ৩৭ জন চিকিৎসক এবং ৬৩ জন নার্স নিয়োগ দিয়েছি। ১০টি আইসিও বেডসহ ১৫৪টি বেড শুধু করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করেছি। 

কুমেক পরিচালক বলেন, আইসিও’র ১০ বেডসহ করোনার ১৫৪টি বেড যখন চালু হবে তখন কুমিল্লার ৬০ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। যে কোনো প্রয়োজনে সেবা নিতে পারবে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ। এরইমধ্যে কুমিক হাসপাতালে ২০ জন আর কুমেক হাসপাতালের অধীন ফোর্টিজ হাসপাতালে আছে ৮ জন। এই ২৮ জন করোনা রোগী এখন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মজিব রহমান বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিন শতাধিক চিকিৎসক নার্স করোনার ঝুঁকির মধ্যেও সেবা দিচ্ছেন। ঈদের দিন সবাই যখন ঘরে সময় কাটাচ্ছেন আমিসহ আমার চিকিৎসকরা তখন হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে। কারণ, আমি আমার চিকিৎসা জীবনে সব সময়ই চেষ্টা করে আসছি যে, আমার নূন্যতম অবহেলার কারণে যাতে একটি জীবনও হারিয়ে না যায়।

চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত জেলা কুমিল্লা। এই বিষয়টি একজন চিকিৎসক হিসেবে আপনি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে কুমেক পরিচালক ডা. মজিব রহমান বলেন, ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে কাছের কুমিল্লা। এ দুই জেলায় যখন করোনা সংক্রমণের পর বাসিন্দারা কুমিল্লায় আসতে শুরু করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে দেবিদ্বারের নবিয়াবাদে আসেন জীবন সাহা। তিনি প্রথম দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। চান্দিনার একটি ক্লিনিকে টেস্ট করার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসা হয়। তাকে এখানে ভর্তি না করে পাঠানো হয় ঢাকায়। ফলে রাস্তায় তিনি মারা যান। জীবন সাহা কুমিল্লায় প্রথম সংক্রমিত করে গেছেন। শুরুতেই যদি দেবিদ্বারকে জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করা যেতো তাহলেও কিছুটা সুফল পাওয়া যেত। এখন দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও চান্দিনা উপজেলা নিয়ে প্রশাসনের কঠোর সিদ্ধান্তে আসা উচিৎ। 

কুমেক পরিচালক বলেন, করোনা রোগীদের অবহেলা না করে তাদের সাহস দিন, উৎসাহ দিন। নিয়ম মেনে চলতে সহায়তা করুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম