Alexa কুমিরের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে ফিরলেন গৃহবধূ

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৬ ১৪২৬,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

কুমিরের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে ফিরলেন গৃহবধূ

 প্রকাশিত: ১০:৩৫ ২১ অক্টোবর ২০১৭  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

কুমিরের সঙ্গে তুমুল লড়াই করে প্রাণে বেঁচে ফিরলেন এক গৃহবধূ৷ গুরুতর জখম নমিতা বেরা কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে পাথরপ্রতিমার অচিন্ত্যনগর এলাকার পাখিরালা নদীর তীরে৷ নমিতার বাঁ পায়ের একাধিক জায়গা খুবলে নিয়েছে কুমির৷ তাঁর শারিরীক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিত্স‌ে করা জানিয়েছেন৷

সকাল তখন দশটা৷ অন্যান্য দিনের মতো এ দিন সকালে বাড়ির পাশে পাখিরালা নদীর তীরে ছাগল চরাতে গিয়েছিলেন নমিতা৷ তিনি তখন একাই ছিলেন৷ বিশাল চেহারার পূর্ণ বয়স্ক একটি কুমির যে শিকারের টানে নদী থেকে পাড়ে উঠে ঘাপটি মেরে শুয়েছিল , তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি নমিতা৷ আচমকা তাঁর বাঁ পায়ে কামড় বসায় কুমির৷ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেও পারেননি৷ এরপর পা ধরে টেনে হিঁচড়ে কুমিরটি তাঁকে নদীর জলে নামিয়ে নিয়ে যায়৷ শরীরের সব ক্ষমতা দিয়ে নমিতা কুমিরটিকে মারতে থাকেন৷

কুমিরও তাঁর পায়ের একাধিক জায়গায় কামড় বসায়৷ যন্ত্রণায় নমিতা চিত্কার জুড়ে দেন৷ সেই চিত্কার শুনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক হাতে লাঠি , বাঁশ ইত্যাদি নিয়ে দৌড়ে আসেন৷ গলা সমান জলে নেমে তাঁরা কুমিরটির উপর চড়াও হন৷ ক্রমাগত মার খেয়ে কুমির নমিতার পা ছেড়ে রণে ভঙ্গ দেয়৷ প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে কুমিরে মানুষে লড়াই চলে৷ এরপর রক্তাক্ত নমিতাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় স্থানীয় পাথরপ্রতিমা ব্লক হাসপাতালে৷ ধীরে ধীরে নমিতা নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকায় সন্ধ্যায় তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে৷ অ্যাম্বুল্যান্সে শুয়ে ক্ষীণ কণ্ঠে নমিতা বলেন , ‘আগে কখনও কুমিরের মুখে পড়তে হয়নি৷ যখন বুঝতে পারলাম কুমির পায়ে কামড়েছে , তখন প্রাণে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করি৷ এক সময় বাঁচার হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম৷ আমার চিত্কার শুনে কয়েকজন যুবক চলে আসায় আমি প্রাণে বেঁচে যাই৷ ’

নমিতার স্বামী সুধাংশু পেশায় দিনমজুর৷ তাঁদের চার ছেলেমেয়ে৷ বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে৷ অভাবের সংসার৷ দিনমজুরি করে কোনও মতে সংসার চলে৷ সুধাংশু জানান , এর আগে কুমির একবার তাঁর গোটা তিনেক ছাগল টেনে নিয়ে গিয়েছিল৷ তাদের আর খোঁজ মেলেনি৷ স্ত্রীকে নিয়ে সুধাংশু কলকাতায় এসেছেন৷ তিনি বলেন , ‘হাসপাতালে কত দিন থাকতে হবে , কে জানে৷ তবু ভাগ্য ভালো , আমার স্ত্রী প্রাণে বেঁচে এসেছে৷ আর কেউ যেন এ ভাবে কুমিরের আক্রমণের শিকার না হয়৷’

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই