কুতুবদিয়ায় রোগীদের ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৩ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

কুতুবদিয়ায় রোগীদের ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ

কুতুবদিয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:১৪ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৭:১৪ ৯ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

 

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় গত ডিসেম্বর মাসে ৩১৬ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে নিউমনিয়ায় আক্রান্ত ১৪ জন শিশু রয়েছে।

হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১০ জনেরও বেশি লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন বছর শুরুর প্রথম সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ জনের বেশি। এসব রোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন হাসপাতাল থেকে তাদেরকে কোন ওষুধ দেয়া হয়না এবং সেবার মানও আশানুরূপ নয়।

কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ঠান্ডাজনিত কারণে রোটা ভাইরাসের সংক্রমনের ফলে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ডায়রিয়া ও নিউমনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি বাড়ে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

রোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। কোন রোগীকে সরবরাহকৃত ওষুধ হাসপাতালের বাহির থেকে কিনতে হয়না। প্রত্যেক ডায়রিয়া রোগীকে জিংক ট্যাবলেটসহ অন্য ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে হাসপাতালের সেবার মান অন্য সময়ের চেয়ে অনেক ভালো। পর্যাপ্ত নার্সরা দিন-রাত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

৭ জানুয়ারি হাসপাতালের সরেজমিনে গেলে উপজেলার লেমশীখালী ইউপির বাসিন্দা হাদিছা বেগম বলেন, ৫ মাসের শিশু রায়হানকে নিয়ে গত শুক্রবার থেকে তিনদিন ধরে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছি। হাসপাতাল থেকে কয়েকটি খাবার স্যালাইন ও জিংক ট্যাবলেট দিয়েছে। বাকি সব ওষুধ ফার্মেসি থেকে এনেছি। দিনে একবার চিকিৎসকের দেখা পেলেও নার্সরা খবর নেন না বলে জানান তিনি। 

কুলছুমা বেগম বলেন, গত ৬ জানুয়ারি দেড় বছরের শিশু সন্তান নাহিমকে নিয়ে হাসপাতালে আসি। শিশুকে হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি নার্সদের বারবার ডাকার পরেও সাড়া পাইনি।

উত্তর ধুরুং থেকে আসা নুসরাত বলেন, ৫ মাসের শিশুকে নিয়ে তিনদিন ধরে হাসপাতালে আছি। শিশুদের গ্যাস দেয়ার জন্য নেবুলাইজার থাকার পরে বাইরের ডায়াগনিস্ট থেকে নিয়মিত শিশুকে গ্যাস দিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জয়নাল আবেদীন বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট আছে ঠিকই। কিন্তু রোগীদের সেবার কোন ঘাটতি হচ্ছে না। রোস্টার অনুযায়ী ডাক্তার ও নার্সরা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। সন্ধ্যায় নিয়মমাফিক বিদ্যুতের কম ভোল্টেজ ও দিনে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে হাসপাতালে থাকা নেবুলাইজার রোগীদের কোন কাজে আসছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম