.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

কুকুরের আবেগ!

সৌমিক অনয়

 প্রকাশিত: ১১:২৬ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১১:২৬ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রাণীজগতে মানুষের সবচেয়ে নিকটতম প্রাণী হলো কুকুর। মানুষের বিশ্বস্থ বন্ধুও বটে। মানবসভ্যতার শুরু থেকেই কুকুর মানুষের সঙ্গী। সময়ের  বিবর্তনে মানুষ জঙ্গলের নির্মম পরিবেশ থেকে বেড়িয়ে তৈরি করেছে বিশাল এক সভ্যতা। আর সেই সভ্যতায় কিছু গৃহপালিত পশু-পাখির সঙ্গে জায়গা পেয়েছে কুকুরও। অনেকেই গৃহপালিত কুকুরকে নিজের সন্তানসম আদরে লালন করে থাকেন। কুকুরকে ভালোবেসে জায়গা করে দেয় নিজের বেডরুমেও। কুকুরও তার মালিককে সমপরিমাণই ভালোবাসা ফেরত দেয়। আবার অনেক কুকুরের মালিক মনে করে যে কুকুর মানুষের অনেক ভাষাই বুঝে। কিন্তু আসলেই কী কুকুর এতটা বুদ্ধিমান? আসলেই কী কুকুর বুঝতে পারে মানুষের আবেগ? বিজ্ঞানের কল্যাণে যদিও এসকল প্রাশ্নের জবাব পাওয়া সম্ভব! তো জেনে নেয়া  যাক নিকটতম বন্ধু কুকুরের বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে-

বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ প্রাণীদের মস্তিস্ক ও স্নায়ুর কার্যকলাপ সম্পর্কে অনেকটাই জানতে পেরেছে। এম আর আই বা ম্যাগনেটিক রিজোনেন্স ইমেজিং এর সাহায্যে মস্তিস্কের স্নায়ুর অনুরণন বোঝা যায়। আর স্নায়ুর অনুরণন থেকে কোনো প্রাণীর আবেগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০১৫ সালে  বিজ্ঞানী ম্যাকগ্রাউন কুকুরের বুদ্ধিমত্তা এবং ব্যবহার নিয়ে তার গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে। তার গবেষণা অনুযায়ী, কুকুর মানুষের সংস্পর্শে এলে কুকুরের মস্তিস্কে স্নায়ুর অনুরণন বেড়ে যায়। এছাড়াও বেড়ে যায় শরীরের রক্তপ্রবাহ। এছাড়াও তার গবেষণায় কুকুর সম্পর্কে অরো অনেক চমকপ্রদ তথ্য জানা যায়। কুকুরেরও মানুষের মত হতাশ হওয়ার প্রবণতা রয়েছে এবং যখন কোনো কুকুরকে মানুষ নিজের পোষা প্রাণী হিসেবে গ্রহণ করে তখন কুকুরের হতাশার পরিমাণ পুরোপুরি কমে যায়। কুকুর সম্পর্কে আর কিছু গবেষণায় জানা যায়, কুকুর মানুষের আবেগ বুঝতে পারে এবং কুকুর মানুষের মানসিক অবস্থা অনুধাবন করেই তার সঙ্গে যথাযথ ব্যবহার করে। কিন্তু কুকুর কতটা বুদ্ধিমান?

মিনিসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০০৯ সালের এক গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, কুকুর প্রায় ২ থেকে ৩ বছরের মানব শিশুর সমপরিমান বুদ্ধিমান। একটি পূর্ণবয়স্ক কুকুরের ২৫০ টি শব্দ এবং ইশারা বোঝার ক্ষমতা রয়েছে। একারণেই খুব সহজেই কুকুরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে অনেক যাবতীয় কাজ করানো যায়। আরেকটি গবেশনায় দেখা যায়, কুকুরের গণনা এবং সহজ গাণিতিক সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা  রয়েছে। একইসঙ্গে কুকুরের রয়েছে ঈর্শান্বিত হওয়ার এবং সমব্যাথি হওয়ার  ক্ষমতা। একারণেই যখন মালিক অন্য কুকুর বা প্রাণীকে আদর করে তখন সেই কুকুর ঈর্ষান্বিত হয় এবং মালিকের মনোযোগ পাওয়ার জন্য নানান কার্যকলাপ করে। আবার মালিক বা অন্য মানুষের সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা হলে উত্তজিত হয় এবং মালিককে মানসিক সাহায্য করার চেষ্টাও করে। বিজ্ঞানের কল্যাণে কুকুরের মস্তিস্ক সম্পর্কে আমরা অনেকটাই জানতে পেরেছি। হয়তো সময়ের সঙ্গে আমাদের এই বন্ধু সম্পর্কে আরো অনেক অবাক করা তথ্য আবিষ্কার হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস