Alexa কিশোরগঞ্জে ২১ প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম বাতিল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৮ সফর ১৪৪১

Akash

কিশোরগঞ্জে ২১ প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম বাতিল

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৮:৫২ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:৫২ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৫৫ জন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৩৪ জনের মনোনয়ন ফরম বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি, আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেয়া, স্বাক্ষর না থাকা,  ঋণখেলাপী ও বিলখেলাপির কারণে ২১ জনের মনোনয়ন ফরম বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই শেষে কিশোরগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার ও ডিসি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

কিশোরগঞ্জ-১(সদর ও হোসেনপুর) আসনে ১৩জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ না করায় বিএনপির বিকল্পপ্রার্থী মো. শরীফুল ইসলাম ও সোনালী ব্যাংকের ঋণখেলাপির কারণে একই দলের বিকল্পপ্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়।

তাছাড়া আয়করের কাগজপত্র জমা না দেয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মোস্তাইন বিল্লাহ, একই কারণে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইউসুফ ও আয়ের উৎস বিবরণীতে স্বাক্ষর না থাকায় জেএসডির অ্যাডভোকেট মুহ. আবদুর রহমানের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়।

এ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের মূলপ্রার্থী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, একই দলের বিকল্পপ্রার্থী  মো. মসিউর রহমান হুমায়ুন, বিএনপি প্রার্থী মো. রেজাউল করিম খান চুন্নু, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মো. আমিনুল ইসলাম তারেক, গণতন্ত্রী পার্টির ভূপেন্দ্র চন্দ্র ভৌমিক দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মহিউদ্দিন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মুহাম্মদুল্লাহ জামী।

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ড. মিজানুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। কিন্তু তাঁর মনোনয়ন ফরমে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উল্লেখ করায় মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র ও আয়-ব্যয়ের ফরম পূরণ না করায় বিএনপির বিকল্পপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম সুমনের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়।

তাছাড়া আয়ের উৎসের কাগজে স্বাক্ষর না থাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ডা. এমানুল হক ইদ্রিছ ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. আম্মান খান ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান নয়ন, শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র জমা না দেয়া ও এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় গড়মিল থাকায় তার মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়।

 এ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় পার্টির মো. মুজিবুল হক, বিএনপির জালাল মো. গাউস, গণতন্ত্রী পার্টির দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া. জাসদের মো. শওকত আলী, জেএসডির মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলমগীর হোসাইন।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী সুরঞ্জন ঘোষের মনোনয়ন ফরম, আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী না থাকায় বাতিল করা হয়েছে। এ আসনের বৈধ প্রর্থীরা হচ্ছেন, আওয়ামী লীগের রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, বিএনপির ফজলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খায়রুল ইসলাম ঠাকুর।

কিশোরগঞ্জ-৫(বাজিতপুর-নিকলী) আসনের একমাত্র নারীপ্রার্থী জাসদের সেলিনা সুলতানার মনোনয়ন ফরম আয়ব্যয়ের কাগজপত্র জমা না দেয়ায় বাতিল করা হয়। তিনি ছাড়া এ আসনের বাকি ৯জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বৈধরা হলেন, আওয়ামী লীগের মো. আফজাল হোসেন, বিএনপির শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, একই দলের বিকল্পপ্রার্থী মাহমুদুর রহমান উজ্জ্বল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. ফরিদ আহাম্মদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইব্রাহীম, গণতন্ত্রী পার্টির মো. গাজী এনায়েতুর রহমান, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির খন্দকার মোছলেহ উদ্দিন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শাহ আলম।

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে দুজনের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়। তাদের মধ্যে ২ হাজার টাকা বিদ্যুৎবিল খেলাপির কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ মুছা খান ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আয়ুব হুসেনের হলফ নামায় স্বাক্ষর না থাকায় মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়।

এ আসনে বৈধরা হচ্ছেন, বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফুল আলম, আওয়ামী লীগের নাজমুল হাসান পাপন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ মুছা খান, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. রুবেল হোসেন ও জাতীয় পার্টির নূরুল কাদের সোহেল।         

রিটার্নিং অফিসার ও ডিসি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, যাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে। তরা ইচ্ছে করলে আগামী তিন দিনের মধ্যে সচিব নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ