Alexa কিশোরকে বিয়ে করতে এসে বিপাকে বিবাহিত নারী!

ঢাকা, সোমবার   ১৮ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৩ ১৪২৬,   ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

কিশোরকে বিয়ে করতে এসে বিপাকে বিবাহিত নারী!

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৪ ৮ নভেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মাত্র ছয় মাস আগে ইমোতে চট্টগ্রামের এক বিবাহিত গার্মেন্টস কর্মীর সঙ্গে কিশোর পারভেজ মিয়ার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। এরপর পারভেজ ওই নারীকে বিয়ে করতে আখাড়ড়ায় নিয়ে নিয়ে আসে। তবে পরিস্থিতি জটিল হলে ওই নারীকে রেখে পালিয়ে যায় পারভেজ। ফলে প্রেমিককে না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রেমে সাড়া দেয়া নারী।

ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার মনিয়ন্দ গ্রামে। কথিত প্রেমিক পারভেজ ওই গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে। প্রমিক পালিয়ে যাওয়ার পর একই গ্রামের জঙ্গু মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই নারী। 

ভুক্তভোগী নারী জানান, তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির বালিয়াগাঁও গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে থাকেন। এছাড়া তিনি গার্মেন্টেস কারখানায় চাকরি করতেন। মাস ছয়েক আগে ইমোর মাধ্যমে পারভেজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় প্রেমে রূপান্তরিত হয়। প্রেমের একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাসে রোববার নারীকে চট্টগ্রাম থেকে আখাউড়ায় নিয়ে আসে পারভেজ। দুই সহযোগীসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার লতুয়ামোড়ার ইকবাল হোসেনের বাসায় উঠে পারভেজ। পরে ওই নারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে যায় পারভেজ ও তার সহযোগীরা। এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা স্বর্ণগুলোও নিয়ে যেতে চায়। 

তিনি আরো জানান, ছয় মাসের আগে পরিচয় হয়। দুই মাস আগে অন্য একজনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পারভেজ বিয়ের আশ্বাস দিলে আগের সংসার ছেড়ে চলে আসেন তিনি। কিন্তু আসার পর থেকে সে ও তার সহযোগীদের আচরণ সন্দেহ হয়। এ অবস্থায় তাদের সঙ্গে আসতে চাননি তিনি। পরে ইকবাল হোসেন তাকে মনিয়ন্দে তার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে আসে। ওই বাড়ির পাশেই পারভেজের বাড়ি। সেখানে পৌঁছার পর থেকে পারভেজ পালিয়ে গেছে। 

মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মেয়েটি আমার বাড়ি থেকে আসতে চায়নি। কিন্তু পারভেজসহ তার সহযোগীরা জোর করে নারীকে নিয়ে আসতে চেয়েছে। আমি তাকে উদ্ধার করে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে আসি। কিন্তু এখনো মেয়েটির কোনো গতি হয়নি। মেয়েটির পরিবারের লোক এখানে আসছে।

স্থানীয় যুবক এম কে সোহেল বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিক বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো ধরনের সমাধানে আসা যায়নি। ছেলেটি মাত্র দশম শ্রেণিতে পড়ে। অন্যদিকে মেয়েটির আরেকটি বিয়ে হয়েছে। এ অবস্থায় তাদের বিয়ে দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় আপুসী মিয়া বলেন, মেয়েটি তিনদিন ধরেই পারভেজের পাশের বাড়িতে রয়েছে। কিন্তু তার বিষয়ে কোনো সুরাহা হচ্ছে না। ছেলের বাড়ির লোকেরা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ছেলেটাও বাড়িতে নেই।

এ ব্যাপারে পারভেজের ভাই সাগর মিয়া কোনো কথা বলতে রাজি হননি। মেয়েটি এভাবে চলে আসা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পারভেজের অবস্থান সম্পর্কে তিনি কিছুই জানাননি। 

মনিয়ন্দ ইউপির চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টির কোনো সমাধান করা যায়নি। পারভেজের বাড়ির পাশেই মেয়েটি অবস্থান করছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়দের দায়িত্ব দিয়েছি।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ