ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

কিডনি দেবেন বোন, টাকা নেই চিকিৎসার

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লাললমনিরহাট ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ২০:৩৬ ১১ জুলাই ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছোট ভাইয়ের দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে কিডনি দেবেন বোন। ভারতে চিকিৎসা করাতে খরচ হবে প্রায় ৮-৯ লাখ টাকা। সেই টাকা তো বোনের কাছে নেই।

এমনকি পরিবারের সবকিছু বিক্রি করেও এত টাকা হবে না। ফলে কিডনি দিয়েও চিকিৎসার টাকার অভাবে ছোট ভাইকে বাচাঁতে পারবে কিনা জানেন না বোন। বড় বোন আয়শা আক্তারের আকুতি কিডনি আমি দেব। চিকিৎসার টাকা কে দেবে? আমার ভাইটিকে বাঁচান, কেউ সহযোগিতা করুন। আপনাদের সামন্য সহযোগতিায় আমার ভাইটি বেঁচে যাবে। অল্প বয়েসে সে দুনিয়া থেকে চলে যাবে এটা কোনভাবেই মানতে পারছি না। টাকা হলেই আমার ভাইটি বেঁচে যাবে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রুতিধর গ্রামের কলেজছাত্র মোজাহারুল ইসলামের (১৯) দু’টি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দ্রুতসময়ে অন্তত একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তা না হলে তাকে বাঁচানো যাবে না। সে কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক ডিগ্রী কলেজের ছাত্র।

মোজাহারুলের পরিবার ডেইলি বাংলাদেশকে জানায়, কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক ডিগ্রী কলেজ থেকে চলতি বছর অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মোজাহারুল ইসলাম। পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। প্রথমে তার পরিবার ভেবেছিল চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, মোজাহারুলের দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। মোজাহারুলের স্বপ্ন ছিল, পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন হয়তো পূরণ হবে না। বর্তমানে মোজাহারুল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

মোজাহারুলের বাবা প্রান্তিক কৃষক। চাষাবাদ করে কোনোমতে সংসার চলে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম মোজাহারুল। সন্তানের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে জানার পর মা-বাবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে মোজাহারুলকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে আছে পরিবারের সদস্যরা। ধার-দেনা ও অন্যের সহযোগিতা নিয়ে মোজাহারুলকে রংপুর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে মে মাসে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপলো হাসপাতালে নিয়ে যায়।

চেন্নাইয়ের চিকিৎসকরা পরিবারকে জানিয়েছেন, মোজাহারুলকে বাঁচাতে কমপক্ষে জরুরি ভিত্তিতে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। আর কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন ৮-৯ লাখ টাকা। যদি কিডনি কিনতে হয় সেক্ষেত্রে দ্বিগুণ টাকা লাগবে। এ অবস্থায় একটি কিডনি দিয়ে ভাইকে বাঁচাতে চান বড় বোন আয়শা আক্তার। এখন কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ৮ লাখ টাকা সহযোগিতা পেলেই বেঁচে যাবেন কলেজ ছাত্র মোজাহারুল।

এ নিয়ে মোজাহারুলের বড় বোন আয়শা খাতুন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ছোট ভাইয়ের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। কিডনি কিনে তা প্রতিস্থাপন করে তাকে বাঁচানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। আমরা গরিব। দিন এনে দিনে খাই। কিভাবে কিডনি কিনব, কেমন করে ভাইকে বাঁচাব? কোনো উপায় নেই। তাই ভাইকে বাঁচাতে আমি আমার একটি কিডনি দিতে চাই। কিন্তু সেই কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন টাকা।

মোজাহারুলের বাবা মমেদ আলী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ জোগাড়ের সামর্থ্য আমাদের নেই। এ অবস্থায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সকলেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো বোনের দেয়া কিডনিতে বেঁচে যাবে ভাই। তাই আমার আবেদন আপনারা একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমার ছেলেকে বাঁচান।

এলাকাবাসীর আবেদন অসুস্থ মেধাবী ছাত্র মোজাহারুলকে বাঁচাতে সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। তাকে সাহায্য পাঠানো যাবে বিকাশ নম্বর-(০১৭৩৭৯৯৭৮৯৩)। এছাড়া লালমনিরহাটের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কালীগঞ্জ শাখার  সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ৯১৭৫-এ তাকে সাহায্য পাঠানো যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ