Alexa কিট সংকটে মণিরামপুর হাসপাতাল

ঢাকা, বুধবার   ২০ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

কিট সংকটে মণিরামপুর হাসপাতাল

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৪ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩৮ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ব্যবহৃত কিটের সংকট রয়েছে। এতে হাসপাতালে আসা রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীরা হাসপাতালের বাইরে পরীক্ষা করাচ্ছেন। 

বুধবার মণিরামপুর হাসপাতালে সেবা না পেয়ে ১১ রোগীকে হাসপাতালের বাইরের ক্লিনিকে পরীক্ষা করান স্বজনরা। এছাড়া ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি না করার অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজন।

উপজেলার ভরতপুর গ্রামের বাবুল আকতার জানান, বুধবার সকালে জ্বরে আক্রান্ত শিশু সালমা ও জান্নাতিকে নিয়ে মণিরামপুর হাসপাতালে যান। চিকিৎসক কাদের ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে ল্যাব সহকারী আনিস জামানের কাছে পাঠান। তখন কিট নেই বলে দুই শিশুকে ফেরত পাঠান আনিস। পরে হাসপাতালের বাইরে আনিসের পরিচালিত ‘দি প্যাথ’ নামের একটি ক্লিনিক থেকে প্রায় ১২০০ টাকা দিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয়।

ভরতপুর গ্রামের আব্দুল জলিল জানান, হাসপাতালে সুযোগ না পেয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে দুই বার তার স্ত্রী নার্গিস বেগমকে ‘দি প্যাথ’ থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। এছাড়া মঙ্গলবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে গেলে রোগীর অবস্থা ভাল বলে বাড়িতে ফেরত পাঠান চিকিৎসক। বুধবার সকালে নার্গিস বেগমের প্রচন্ড জ্বরের সঙ্গে কয়েকবার বমি হয়। তখন তাকে হাসপাতালে আনলে ভর্তি করেন চিকিৎসকরা।

মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব সহকারী আনিস জামান বলেন, সাতজনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয়েছে। আর কিট না থাকায় পাঁচজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, অর্থ সংকট রয়েছে। তাছাড়া সবসময় কিট পাওয়া যায় না। আজ ১০০ কিট কিনতে আনিসকে বলা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার সকালে হঠাৎ মণিরামপুর হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায়। কিট সংকট দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায় বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট কেনার খরচ সরকার বহন করে। দুই দিন আগে সব টিএইচওদের নিয়ে ডিজি মহোদয় ভিডিও কনফারেন্স করেছেন। সেখানে অর্থ ছাড়ের কথা বলেছেন তিনি। টাকা পাওয়ার আগে কিট সংকট হলে সব টিএইচও ব্যক্তিগত খরচে কিট সংগ্রহ করবেন বলে কথা দিয়েছেন। মণিরামপুর হাসপাতালে কিট সংকটের বিষয়ে টিএইচও’র সঙ্গে কথা হয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা কমলেও আবারো বাড়তে শুরু করেছে। হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, গত দেড় মাসে মণিরামপুর হাসপাতালে ৬০০ রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন হাসপাতালে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ পর্যন্ত মণিরামপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে দুই শিশুসহ সাতজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ