Alexa কিছু রহস্যময় হত্যাকাণ্ড, যার কারণ এখনো অজানা (পর্ব-২)

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৩ ১৪২৬,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

কিছু রহস্যময় হত্যাকাণ্ড, যার কারণ এখনো অজানা (পর্ব-২)

অনন্যা চৈ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৩৮ ১৬ জুন ২০১৯   আপডেট: ০৯:৩৮ ১৬ জুন ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রথম পর্বের পর

কেইটলান আর্কুটে হত্যাকাণ্ড

কেইটলান আর্কুটে। তিনি বিখ্যাত ইয়ং অ্যাডাল্ট আমেরিকান সাহিত্যিক লুইস ডানক্যানের কন্যা। তার মৃত্যুও এখনো অজানা। ১৯৮৯ সালের ১৬ জুলাই রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ডিনার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন কেইট। কিন্তু হুট করেই রাস্তার মধ্যে তার ড্রাইভারের লুকিং গ্লাস দিয়ে দুটি বুলেট তার মাথায় আঘাত করে। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি কোমাতে পড়ে যান। পরবর্তী দিন তার ব্রেইন ড্যামেজ হয়। এরপর তিনি মারা যান। এর কিছুদিন পরেই পুলিশ প্রমাণ ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খোঁজা শুরু করে। প্রথমে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় আসে কেইট প্রেমিক ডুন গুয়েন’র নাম। 

সে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত পিস্তলের সঙ্গে তার হাতের ছাপ পরীক্ষা করে পুলিশ। কিন্তু কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। তার প্রেমিক নির্দোষ প্রমাণিত হন। অন্যদিকে কেট এবং গুয়েনের শেয়ার করে থাকা অ্যাপার্টমেন্টেও কোন জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তবে ঘটনার পাঁচ দিন পরে গুয়েন আলোচনায় আসার মত কিছু করে ফেললেন। নিজের পাকস্থলীতে নিজেই ছুরি চালিয়ে আত্নহত্যা করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু সে যাত্রায় বেঁচে গেলেন। অন্যদিকে, পুলিশ পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বেশিদূর অগ্রসর হতে পারলেন না।  

এরপর মা লুইস এবং কেইটের বড় বোন রবিন নিজের হাতে এই মামলার দায়িত্ব নিলেন। তারপর তারা কেটের বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে জানতে পারলেন, গুয়েন কিছুটা গোমর রেখে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ভালো মানুষের আড়ালে অন্য এক মানুষ ছিলেন তিনি। গুয়েন একটি মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের ভুয়া ইন্সুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ভুয়া গাড়ি পুড়িয়ে টাকা উপার্জন করতেন। 

অন্যদিকে তিনি জানতেন তাকে কেট হত্যাকাণ্ডে কোন না কোন সময় শূলে চড়ানো হতে পারে। তাই তিনি পাকস্থলীতে আঘাত করে আত্নহত্যার ঘটনা সাজিয়েছিলেন। তবে মজার ব্যাপার হলো- এই ঘটনায় তার পাকস্থলীতে আঘাত লাগেই নি। যাই হোক, পুলিশের কাছে এসব প্রমাণ উপস্থাপন করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে সব উড়িয়ে দেয়া হয়।

রবিনের তদন্তে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। যেমন, কেটের বাড়িওয়ালার কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, কেট তার প্রেমিককে নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত ছিলো। তার বন্ধুরা বহুবার তাকে ঘরের তালা পরিবর্তন করতে বলেছিলো। 

অন্যদিকে, কেট মারা যাওয়ার রাতে তার এক বান্ধবী গুয়েনের কাছ থেকে ফোন কল পায় যেখানে গুয়েন কেট ডেড বলে চিৎকার করেছিলো। কিন্তু পরে দেখা যায়, গুয়েন এই ফোন কল কেট মারা যাওয়ার খবর পাবার আগেই করেছিলো। যখন কেটের বন্ধু এই তথ্য পুলিশ ও গোয়েন্দাদের দেয় তখন তারা এটি গ্রহণ করেনি। 

মা-মেয়ের এই তদন্তে একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়। পুলিশের কাছে থাকা প্রমাণ ও চিরকুটের হাতের লেখা আলাদা ছিলো। এসব কারণে লুইস বিশ্বাস করেন, পুলিশের অবহেলার কারণে এই হত্যাকাণ্ডের কোন কূল-কিনারা হয়নি। তবে তিনি নিজ দায়িত্ব তদন্ত চালিয়ে যান। ২৫ বছর তদন্ত চালানোর পর, ২০১৬ সালে লুইস মারা যাওয়ায় এই হত্যা রহস্যও আধারেই থেকে যায়।

ক্যারেন কাপচিনেট হত্যাকান্ড

ক্যারেন কাপচিনেট। তিনিও শিকাগোর বিখ্যাত কলামিস্ট ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব আর্ভ কাপচিনেট-কন্যা। ১৯৬৩ সালের ২৮ নভেম্বর তাকেও নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর আগের রাতে ক্যারেন লস্ট ইন স্পেস এর কাস্ট মেম্বার মার্ক গোড্ডার্ড ও তার স্ত্রীর সঙ্গে তাদের বাড়িতে ডিনারে অংশ নেন। এই দম্পতি কাছ থেকে জানা যায়, ডিনারের সময় ক্যারেন অনেক অন্যমনস্ক ছিলেন। তিনি খাবার খাচ্ছিলেন না এবং বারবার কেঁদে দিচ্ছিলেন। কারণ হিসেবে ক্যারেন বলেন, কেউ একজন একটি বাচ্চাকে তার ঘরের দরজার কাছে রেখে দিয়েছে, আর সেই বাচ্চাটির জন্যে তার খারাপ লাগছে।

পরে ক্যারেন ডিনার শেষে রাত ৮.৩০ মিনিটে নিজ বাসায় ফেরেন। বাড়ি ফিরে গোড্ডার্ডকে ফোন করার কথা থাকলেও তিনি আর ফোন করেননি। বাসায় ফিরেই তিনি লেখক এডওয়ার্ড স্টিফেন এবং অভিনেতা রবার্ট হাথাওয়ের সঙ্গে যোগ দেন। স্টিফেন এবং হাথাওয়ে গোয়েন্দাকে বলেন, তারা তিনজন একসঙ্গে ড্যানি কে শো দেখেন এবং রাত ১১.১৫-র দিকে ক্যারেনের বাড়ি ত্যাগ করেন। তাদের তথ্য মতে, এরপর ক্যারেন ঘুমিয়ে যান।  

৩০ নভেম্বর গোড্ডার্ড ক্যারেনের অ্যাপার্টমেন্টে আসেন। কারণ ২৮ তারিখ বাসায় আসার পরেও ক্যারেন তাকে ফোন করেননি। তাই তিনি নিজেই বাসায় আসেন। এসে দেখেন ক্যারেনের ঘরে ঢুকতেই তার রক্তেমাখা অনাবৃত দেহ। এরপর পুলিশকে খবর দেন তিনি। পুলিশ প্রাথমিক অবস্থায় ড্রাগের ওভারডোজকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে গোড্ডার্ড ও প্রেমিককে বলা দরজার সামনে পড়ে থাকা শিশুর ঘটনার কোন সত্যতা পায়নি পুলিশ। তবে সেসময় ক্যারেনের প্রেমজীবন ভালো যাচ্ছিলো না। যার কারণে প্রেমিক অ্যান্ড্রু প্রাইনকেই প্রধান সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। 

এদিকে, ক্যারেনকে জীবিত দেখা শেষ দুজন ব্যক্তি প্রাইনের বন্ধু। তবে তদন্তের অগ্রগতি এখনো সন্দেহ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। এর কারণ হলো, ১৯৮৮ সালের আর্ভ কাপচিনেট ক্যারেনকে নিয়ে লেখা একটি স্মৃতিচারণে প্রধান সন্দেহভাজন প্রাইঙ্কে নির্দোষ বলে দাবী করেন। এরপর ক্যারেন হত্যাকাণ্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হলো, ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত পেন জোনেসের একটি বক্তব্যে। 

তিনি বলেন, ক্যারেনের হত্যার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জন কেনেডির গুপ্তহত্যার অনেকখানি যোগসূত্র রয়েছে। তিনি বলেন, জন কেনেডিকে হত্যার বিশ মিনিট আগে একজন অপরিচিত মহিলা লোকাল অপারেটরকে ফোন দিয়ে হত্যার ব্যাপারে জানায়। তার দাবি, এটি ক্যারেন ছিলো। তিনি আরো দাবি করেন, ক্যারেনের বাবা এইসব গুপ্তহত্যা সম্পর্কে জ্যাক রুবির কাছ থেকে আগেই কিছু খবর পেতেন। এই সূত্রে ক্যানেডির হত্যার কথাও তিনি জানতেন। যার কারণে ইতালি-আমেরিকান মাফিয়া এই হত্যাকান্ড চালায়। তবে আর্ভ কাপচিনেট এমন দাবি নাকোচ করেন। ফলে এই হত্যাকাণ্ড অমিমাংসিতই থেকে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ