Exim Bank
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ মে, ২০১৮
iftar

কায়কোবাদ ফ্যাক্টর

 শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১২, ১৬ মে ২০১৮

৪৮২ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মুরাদনগর উপজেলা কুমিল্লা-৩ আসন। গত ৪৬ বছরেও এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করতে পারে নি বলে জানা গেছে।

এবারো বিএনপি ও জোটের একক প্রার্থী  আলহাজ্ব শাহ মোফাজ্জ্বল হোসাইন কায়কোবাদ। বিপরীত দিকে আওয়ামী লীগে দলীয় প্রার্থী কে হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জাহাঙ্গীর আলম সরকার আর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের এমপি ইউছুফ আবদুল্লাহ হারুনের মধ্যে চলছে মনোনয়ন যুদ্ধ।

মুরাদনগরে বিএনপি ওজোটের একক প্রার্থী আলহাজ শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। দীর্ঘদিন ধরে  তিনি অসুস্থ হয়ে সৌদী আরবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রবাস জীবন যাপন করলেও বিদেশ থেকেই মুরাদনগরের পুরো রাজনৈতিক কার্যক্রম তিনি মনিটরিং করছেন প্রতিনিয়ত। নিয়মিত কর্মী সভাগুলোতে মোবাইলের মাধ্যমে বক্তব্য রাখছেন। কর্মীদের বক্তব্য ৫ বারের এমপি কায়কোবাদকে হারতে পারবেন কেউ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির এফবিসিসিআইএর সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ-সম্পাদক ইউছুফ আবদুল্লাহ হারুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর থেকে এমপি নির্বাচিত হন। পরে আবশ্য তাকে আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এখানে বরাবরই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন কোন্দল লেগেই আছে। বর্তমান এমপি ইউছুফ আবদুল্লাহ হারুন আর কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত-কোন্দল লেগেই আছে। একাধিকবার ঘটেছে এই দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। কমিটিগুলোর একক নিয়ন্ত্রণ জাহাঙ্গীর আলম সরকারের। অপর দিকে এমপি ইউছুফ আবদুল্লাহ হারুনও উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রতিটিতে পৃথক কমিটি করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাহাঙ্গীর আলম সরকারের অনুসারী সৈয়দ আহমেদ হোসেন আউয়াল বলেন, মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ চলছে জাহাঙ্গীর আলম সরকারের নেতৃত্বে। এমপি হারুন বিএনপি- জামায়াতের সন্ত্রাসীদের নিজ পক্ষে টেনে এখন তাদের আওয়ামী লীগ বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন।

এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের গ্রুপের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি  আবুল কালাম আজাদ বলেন, মুরাদনগরে আওয়ামী লীগের কোনো গ্রুপিং নেই। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে এমপি ইউছুফ আবদুল্লাহ হারুন সাহেবের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

আগামী নির্বাচনে কে মনোনয়ন পেলে আসনটি উদ্ধার করতে পারবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান এমপি হারুন জননেত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা নিয়ে এলাকায় উন্নয়নের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সুতরাং আশা করি তিনি মনোনয়ন পাবেন এবং জয়লাভ তিনিই করবেন।

এখানে জাতীয় পার্টি  (এরশাদ) থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী আক্তার হোসেন।

মুরাদনগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে সাবেক এমপি কায়কোবাদ একটি ফ্যাক্টর। বর্তমানে তিনি ২১ আগষ্ট মামলার আসামী এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাহিরে রয়েছেন। কায়কোবাদ বিহীন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কোন্দলে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগের জন্য যতটা সহজ হবে তার চেয়ে অনেক কঠিন হবে যদি বিএনপির কায়কোবাদ নির্বাচনী মাঠে নামে। সুতরাং বিএনপির আলহাজ্ব শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদকে মোকাবেলা করতে হলে অবশ্যই এক মঞ্চে আসতে হবে এমপি হারুন আর জাহাঙ্গীর আলম সরকার। অনাথ্যায় পরাজয় অবধারিত বলে জানিয়েছেন খোদ আওয়ামী লীগেরই নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/আরআর

সর্বাধিক পঠিত