.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

হতাশায় ডুবছে পৃথিবী!

 প্রকাশিত: ১৭:০৪ ৭ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:০৪ ৭ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহিত

ছবি: সংগৃহিত

পৃথিবী জুড়ে প্রায় ১২১ মিলিয়ন বা ১২ কোটি ১০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে হতাশাগ্রস্ত। যদিও তাদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশেরও কম মানুষ চিকিৎসা সেবার সুযোগ পায়।

বাকি ৭৫ শতাংশ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক লোক হতাশার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে!

শারীরিক অসুস্থতার গুরুত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি মানসিক অসুস্থতার গুরুত্ব আরো বেশি। কারণ মানসিকভাবে কেউ সুস্থ না হলে তার পক্ষে নিজ শরীরের যত্ন নেয়াটাও দুষ্কর হয়ে পড়ে। আর মানসিক অসুস্থতার প্রধান কারণ হলো হতাশা। তবে 'হতাশ লাগছে' আর 'হতাশ হওয়া'র মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

প্রায় প্রত্যেকেরই যেকোনো কারণে মন খারাপ থাকতে পারে। পরীক্ষায় অসন্তোষজনক নম্বর, চাকরি হারানো,ঝগড়াঝাটি প্রভৃতি কারণে এমনকি বৃষ্টির দিনেও অনেকের মন খারাপ হয়ে যেতে পারে। কখনো মন খারাপ হওয়ার আসলেই কোনো কারণ থাকেনা। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো দুঃখী ভাব আমাদের মধ্যে হুট করেই চলে আসে। পরিস্থিতি পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে আবার মন ভালো হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে হতাশার ব্যাখা দেয়া হয়েছে অন্যভাবে। এটা সম্পূর্ণই একধরনের মেডিকেল ডিজঅর্ডার। নারীদের ক্ষেত্রে হতাশ হওয়ার মাত্রা বেশি থাকে। কারণ পুরুষের চেয়ে তারা বেশিরভাগ সময় ঘরেই কাটায়। তাছাড়া সাংসারিক নানা সমস্যার কারণেই নারীদের মধ্যে হতাশাজনিত ব্যাধির জন্ম হতে পারে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো ঘটনা পুরুষের চেয়ে নারীর ওপর বেশি প্রভাব ফেলে। এতে করে তাদের হতাশ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকাংশে বেড়ে যায়। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস বা অতিমাত্রায় কাজের চাপ কিংবা দুঃশ্চিন্তা তাদের মধ্যে হতাশার জন্ম দিতে পারে। মস্তিষ্কই নিয়ন্ত্রণ করে যাবতীয় মানসিক বিষয়। মস্তিষ্কে রয়েছে অসংখ্য শিরা-উপশিরা আর স্নায়ু। মন খারাপ বা অতিরিক্ত হতাশায় স্নায়ুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। একটি স্নায়ু অপর স্নায়ুকে প্রভাবিত করে, ফলে অপর স্নায়ুগুলো দুর্বল হয়ে যায়, এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে অন্য অঙ্গগুলোর ওপর। ফলে দেহ তার স্বাভাবিক কাজকর্মের গতি হারিয়ে ফেলে। আর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ত্বক ও চুলের ওপর। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আর হতাশার ফলে ত্বক অকালেই বৃদ্ধ হয়ে পড়ে। দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো দুর্বল হওয়ার জন্য চুলও ঝরতে শুরু করে, যার কারণে হারিয়ে যায় চুলের ঔজ্জ্বল্য। ত্বকে সৃষ্টি হয় অজস্র ভাঁজ এবং বলিরেখা। কিছু মারাত্মক রোগ এবং মানসিক বৈকল্যের ঝুঁকি বাড়ায় হতাশা। মানুষ হতাশ হয়ে পড়লে তাদের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা, নেশাগ্রস্ত হওয়া, ডায়াবেটিস ও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এসব কারণে বিশ্বে প্রতিবছর বড় অংশের মানুষ মারা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, মোটের ওপর বিশ্বে সরকারগুলো তাদের স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের মাত্র ৩ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যয় করে, যা দরিদ্র দেশগুলোতে ১ শতাংশেরও কম। আর উন্নত দেশগুলোতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ব্যয় করা হয়।বাস্তবতার যাঁতাকলে পড়ে আমাদের জীবন প্রায়ই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তখন আমরা  হাসতে ভুলে যাই, স্বাভাবিক চিন্তা করার শক্তি হারিয়ে ফেলি এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মানুষ এতটাই ভেঙে পড়ে যে কাছের কিংবা দূরের সকলের কথা ভুলে গিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। মানুষের গড় আয়ু খুব অল্প সময়ের, তাই মানসিক অসুস্থতার এই প্রধান কারণ হতাশাকে দূরে ঠেলে দিয়ে আশার প্রদীপটাকে জ্বেলে রাখার চেষ্টা সর্বদা করা উচিত। হতাশা কাটানোর জন্য মানুষ যুগে যুগে অনেক কিছুরই সহায়তা নিয়েছে। তবে পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন, ব্যস্ততা, বাস্তববাদী আচরণ, চা-কফি পান কমিয়ে দেয়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো ইত্যাদি কার্যকলাপে  হতাশা অনেকটাই কমে আসে বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস