কাবা মুসল্লিহীন হওয়ায় প্রধান ইমাম সুদাইসির আবেগঘন প্রার্থনা

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২২ ১৪২৬,   ১১ শা'বান ১৪৪১

Akash

কাবা মুসল্লিহীন হওয়ায় প্রধান ইমাম সুদাইসির আবেগঘন প্রার্থনা

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৪ ২২ মার্চ ২০২০  

‘আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই, কোনো ভরসা নেই, যিনি মহান ও সর্বশক্তিমান।’

‘আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই, কোনো ভরসা নেই, যিনি মহান ও সর্বশক্তিমান।’

শায়খ ড. আব্দুর রহমান সুদাইসি। মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম তিনি। করোনা ভাইরাসের কারণে দিন দিন কাবা শরিফ ও মসজিদে নববী মুসল্লিহীন হয়ে যাওয়ায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তার আবেগমাখা প্রার্থনা সবার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। করোনা থেকে বাঁচতে এ দোয়া বিশ্ববাসীও অনুসরণ করে আল্লাহর কাছে আকুতি মিনতি করে প্রার্থনা করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তিনি এসব প্রার্থনা করেন। দোয়ায় তিনি বলেন,

- হে আল্লাহ! আপনার ঘর থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করবেন না।
- হে আল্লাহ! আমাদের পাপের কারণে পবিত্র মসজিদের নামাজের জামাত থেকে বিরত করবেন না।
- হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমাদের আবার ফিরিয়ে নিন।
- হে আল্লাহ! আমাদের তাওবা কবুল করুন।
- হে আল্লাহ! আমাদের এবং মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের মহামারি ও দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে হেফাজত করুন।

কাবা শরিফের প্রধান ইমাম শায়খ আব্দুর রহমান আস-সুদাইসির আবেগঘন এ আহ্বানগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এভাবেই ওঠে এসেছে। আল্লাহর কাছে তিনি আরো আহ্বান করেন-

- হে আল্লাহ! মুসিবত দিন দিন কঠিন থেকে কঠিন হচ্ছে। চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। তুমি ছাড়া আমাদের ফরিয়াদ শোনার আর কেউ নেই হে আল্লাহ!, তুমি ছাড়া আর কে আছে? হে আল্লাহ! যার কাছে আমরা সাহায্য চাইবো।

- হে আল্লাহ! আমাদের এ অবস্থার ওপর দয়া করুন। আমাদের অক্ষমতাগুলো দূর করে আমাদের ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! তুমিই আমাদের অভিভাবক।

শায়খ সুদাইসি আবেগঘন সেরা যে আবেদনে মুসলিম হৃদয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে তাহলো-

‘হে আল্লাহ! এই বিপদ মহামারির কারণে তোমার ঘরে যেতে না পারার ব্যাথা আর সইতে পারছি না। হে মহান শক্তিমান, দয়া করে এই মহামারি দূর করে দাও।’

এদিকে কাবা শরিফের আজান পরিবর্তন সম্পর্কে টুইটে তিনি আরো লেখেন, ‘আজ থেকে আমরা মুয়াজ্জিনকে এ শব্দ বলতে শুনবো যে, ‘সাল্লু ফি রিহালিকুম’। অর্থাৎ নিজ নিজ জায়গায় নামাজ পড়ে নাও’।

আরেক টুইটে তিনি লেখেন,

‘তুমি থাকতে কার কাছে অভিযোগ করব আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কার কাছে হাত পাতবো হে আল্লাহ! তুমিই তো একমাত্র মাবুদ। তোমাকে ছেড়ে আমরা কার এবাদত করব? তোমার ওপরই আমাদের সব আশা-ভরসা। হে আল্লাহ! আমাদের সেসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত কর, যারা নেয়ামত পেলে শোকর আদায় করে। বিপদে সবর করে। গোনাহ হয়ে গেলে তওবা করে।

প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাসের এ বিপদ মুহূর্তে তিনি বেশি বেশি এ দোয়া পড়তে গুরুত্বারোপ করেন। আর তাহলো-

لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِالله

উচ্চারণ : ‘লা হাউলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।’

অর্থ : ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই, কোনো ভরসা নেই, যিনি মহান ও সর্বশক্তিমান।’

এ দোয়া সম্পর্কে তিনি টুইটে লেখেন-

‘লা হাওলা’ পড়ার মাধ্যমে কত বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং আল্লাহর প্রশান্তি, দয়া ও মদদ পাওয়া যায় তা যদি মানুষ জানতো তবে এ দোয়া এমনভাবে পড়তো যে, মুহূর্তের জন্য বিরাম নিতো না। বরং চলতে ফিরতে, উঠতে বসতে সব সময় ‘লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম’ পড়তো।

করোনা থেকে মুক্তিতে তিনি আল্লাহর কাছে এভাবে আবেদন করেন-

‘হে আল্লাহ! তোমার কাছেই আমানত রাখছি এই পবিত্র নগরী হারাম শরিফ ও তার বাসিন্দাদের। নারী পুরুষ যুবক-বৃদ্ধ-শিশু, ঘর-বাড়ি, আকাশ-মাটি সবকিছুই তোমার কাছে আমানত রাখলাম। দয়া করে তুমি এগুলোকে মহামারি থেকে হেফাজত কর। তোমার মহান কুদরতে তুমি করোনাভাইরাস দূর করে দাও।’

পরিশেষে সবার জন্য সাহস যোগাতে আশ্বস্থ করে লেখেন-

বিপদ যত বড় হোক, তা চিরদিনের নয়। বরং বিপদ যত বড় হোক না কেন, আল্লহর রহমত তার চেয়ে অনেক বড়। আল্লাহর ইচ্ছায়, আমাদের মুক্তি অতি কাছেই। সুতরাং হতাশ হবেন না। অধৈর্য হবেন না। অস্থিরতা প্রকাশ করবেন না। আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকুন। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর নিজের সবকিছু সমার্পণ করুন। অন্যকেও আল্লাহর ওপর ভরসা করতে নিশ্চিন্ত করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে