Alexa কান্না থামছে না রাধানগরে

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

কান্না থামছে না রাধানগরে

শাহজাদা এমরান, কুমিল্লা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৫ ১২ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১২:৪৯ ১৩ জুলাই ২০১৯

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

একদিকে আষাঢ়ের বৃষ্টি। অন্যদিকে বৃষ্টির চেয়েও ভারী পানি ঝরঝর করে পড়ছে নাজমা আক্তারের পরিবারে। নাজমা বেঁচে নেই। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার আছে চার সন্তান। সবার চোখেই এখন মা হারানোর কান্না। এই চার সন্তানের কান্নার শব্দ আর টিনের চালে পড়া বৃষ্টির পানির শদ্ধ যেন একাকার হয়ে আছে রাধানগর গ্রামে।

রাধানগর গ্রামটি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় অবস্থিত।

১০ জুলাই বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার, শাহ আলমের ছেলে আবু হানিফ এবং স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করে রিকশাচালক মোখলেছ। সবাই রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা। মোখলেছ এই গ্রামের মুর্তজ আলীর ছেলে। পেশায় একজন রিকশাচালক। এ সময় আহত হন আব্দুল লতিফ, মাজেদা বেগম, নুরুল ইসলাম, রাবেয়া বেগম, ফাহিমা, জাহানারা বেগম, লোকমান হোসেনসহ ৭জন। আহত মাজেদা বেগমের অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ওই সময় গণপিটুনীতে ঘাতক মোখলেছ ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে নাজমা আক্তারের বাড়ি গেলে দেখা যায় তার অসহায় অবুঝ চার শিশু সন্তানের ভয়ার্ত চেহারা।

নাজমার চার সন্তান। দুই ছেলে, দুই মেয়ে। জান্নাত সবার বড়। রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সে। ছোট ভাই নাজমুল হাসান সপ্তম শ্রেণি ছাত্র। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে আবু নাঈম। সবার ছোটো সানজিদা আক্তার পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে।

জান্নাত আক্তার জানায়, মা নেই। বাবা, দাদীও হাসপাতালে। যে মানুষটা সবসময় আমাদের পরিবারের খোঁজখবর নিতো তার হাতেই আমার মায়ের প্রাণ গেলো। সেই মোখলেছ কাকা কিভাবে আমার মাকে খুন করলো! মাকেই সবচেয়ে বেশি কুপিয়েছে সে। তার পরিবারে সঙ্গে আমাদেরই সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিলো।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন রিকশাচালক বাবা নুরুল ইসলাম, দাদী মাজেদা বেগম।

মোখলেছের মেয়ে জান্নাতের সঙ্গেই পড়ে। সেই সুবাধে মোখলেছের ঘরে আসা যাওয়া ছিলো তার। জান্নাত জানায়, ঘটনার দিন বুধবার সকাল ৮টার দিকে আমি মোখলেছের ঘরে যাই। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করে ভাত খেয়েছি কিনা, না খেয়ে থাকলে তাদের ঘরে ভাত খেতে। আমি বলি না মোখলেছ কাকা, আমি আম মুড়ি খেয়ে এসেছি, এখন ভাত খাব না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তাদের ঘর থেকে এসে স্কুলে চলে যাই আমি। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ছোট ভাই আবু নাঈম স্কুলে আমাকে জানায় মোখলেছ আমার মাকে খুন করেছে। বাবা ও দাদীকেও দা দিয়ে কুপিছে। দৌড়ে এসে দেখতে পাই বাড়ির সামনে রাস্তায় মায়ের রক্তমাখা নিথর দেহ পড়ে আছে। কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না মোখলেছ কাকা  কিভাবে আমার মাকে এত নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করলো।

জান্নাত আরো জানান, আমার ছোট ভাইবোন গুলো কিছুই মুখে দিতে চায় না। শুধু মা মা করে। মা কে দেখতে চায়। বাবা কে দেখতে চায়। আমারই বা বয়স কত। মাত্র ১০ম শ্রেনীতে পড়ি। কি উত্তর দিব ভাই বোনদের। এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে জান্নাত। তার বুক ফাটা কান্নার আওয়াজ প্রকম্পিত হয়ে উঠে আকাশ বাতাস। যেই সান্তনা দিতে আসে সেই কাপড় দিয়ে চোখ মুছে।

স্থানীয় আবদুল হাকিম বলেন, তাদের কি সান্তনা দিব। এই মা হারা এতিম শিশুদের দেখলে নিজেই তো সান্তনা খুঁজে পাই না।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, চার হত্যাকাণ্ডে দেবিদ্বার থানায় দুটি মামলা হয়েছে। তবে মামলা দুটি অধিকতর তদন্ত ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লাকে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।


ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম