কাতারে জিয়ার মৃত্যুতে বাড়িতে শোকের মাতম

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

কাতারে জিয়ার মৃত্যুতে বাড়িতে শোকের মাতম

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১১ ১৯ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পরিবারের অভাব দূর করতে নয় মাস আগে ধার দেনা করে কাতারে পাড়ি জমায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জিয়া খান। 

সে গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দির আব্দুর রাজ্জাক খানের ছেলে। 

গত ৫ মে প্রথম তারাবির রাতে মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় হঠাৎ স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হন জিয়া খান। প্রায় ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটার দিকে মারা যান। 

তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পরিবার। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রোববার দুপুরে গোয়ালন্দ শহরের কুমড়াকান্দি গ্রামে জিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে তিন শিশু মেয়ে নিয়ে কান্না করছেন জিয়া খানের স্ত্রী বিউটি আক্তার। প্রতিবেশী অনেকে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সে ভাষা কারো জানা নেই। জিয়ার মা অনেক আগে মারা গেছে। বাবা আব্দুর রাজ্জাক দিন মজুর। সকালেই কাজে গেছেন।

জিয়ার স্ত্রী বিউটি আক্তার বলেন, সংসারে তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে রিয়া আক্তার এ বছর পঞ্চম শ্রেণি পাশ করার পর মাদরাসায় ভর্তি করেছি। দ্বিতীয় মেয়ে আফরোজা আক্তার এ বছর পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে তাকেও মাদরাসায় দিয়েছি। ছোট মেয়ে জান্নাতি স্কুলে যায় না। 

পাঁচ সদস্যের সংসারে অনেক কষ্টে ধার দেনা করে কাতার গেছে তার স্বামী। কাতার বারোয়া লেবার ক্যাম্পে মিকমিট কোম্পানিতে রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতো সে। যে হারে বেতন দেয়ার কথা ছিল তা থেকে অনেক কম দেয়া হতো।

অসুস্থ হওয়ার আগে মুঠোফোনে ম্যাঞ্জারে জিয়া বলেছিল, ‘আমি কেবল ডিউটি শেষ করেছি। কিছু টাকা পাঠিয়েছি তা দিয়ে তিন মেয়ের ঈদের কাপড় কিনে দিও। বেশি দামি না কিনে কম দামের দিও। ভালো কাপড় কিনে দেয়ার সামর্থ নেই। সারা মাস চলবো কিভাবে? ওই দিন সকালে ফোনে বলেছিল, “১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। সাবধানে টাকা তুইলো। হিসেব করে খরচ কইরো। আমার জন্য দোয়া কইরো। সবাইকে দেখেশুনে রেখ”। 

প্রথম তারাবি নামাজ পড়ার সময় স্ট্রোক করলে তার এক রুমমেট ফোনে জানায়। এরপর কাতারের আহম্মদ হাসপাতালে লাইফ সাপোটে রাখা হয়। শুক্রবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ফোন আসে সে মারা গেছে। এখন আমি এ তিন মেয়ে নিয়ে কিভাবে চলবো? আমি আমার স্বামীর লাশ ফিরে পেতে চাই।

প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন জানান, জিয়া খুবই ধর্মভীরু ও সরল মনের মানুষ ছিল। দেশে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতো। সংসারের চালাতে গিয়ে অনেক টাকা দেনা হয়ে পড়ে। শ্বশুর বাড়ির সহযোগিতায় ধার দেনা করে কাতার যায়। এখন তার সংসার দেখার মতো কেউ নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ