কাটা মাথা সংগ্রহ করা তার নেশা!

ঢাকা, রোববার   ১৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৩ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

কাটা মাথা সংগ্রহ করা তার নেশা!

লাইফস্টাইল ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৩ ২৬ মে ২০১৯   আপডেট: ১৪:৪৫ ২৬ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে বিশ্ব জুড়েই ট্যাটুপ্রেমীর সংখ্যা বেড়েছে। রুচি ও আভিজাত্য ট্যাটু আজকাল ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ। শুধু ট্যাটু আঁকাই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। যেমন কাটা মাথার সংগ্রহ যা এই ট্যাটুর সাথেই জড়িত! বিশ্ব ইতিহাস বলছে, এ সময়ের জনপ্রিয় ট্যাটু বা উল্কি প্রথম আঁকানো হয়েছিল প্রায় ১৪ হাজার বছর আগে। যদিও ওই যুগে নিজের গোত্রের লোক ট্যাটু আঁকাতো পরিচয় হিসেবে বা নিছক ধর্মীয় কারণে।

মৃত মানুষের মাথাকে মোকোমোকাই বলা হয়। ১৮৬৪ সালে ব্রিটিশ মেজর জেনারেল হোরাশিও গর্ডন রবলে কর্মসূত্রে নিউজিল্যান্ডে কয়েক বছর কাটান। সেখানে তিনি দেখতে পান মাওরি উপজাতির শরীরে বিশেষত পুরো মুখ জুড়ে নানা অদ্ভুত আঁকাবুকি। মূলত উপজাতিদের এ গোষ্ঠী নিজেদের আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে ট্যাটু আঁকাতো। বিশেষ করে মুখে যে চিরস্থায়ী ট্যাটু করতো সেটিকে টা-মোকো বলে।

খুব পছন্দ হওয়াতে জেনারেলের নিজেরই হাতে কিছু ট্যাটু এঁকে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে এই এঁকে আনা ট্যাটুর বিবরণ লেখার চেষ্টা করলেও তিনি স্পষ্টভাবে কিছু বুঝতে পারছিলেননা। তাই অদ্ভুত এক কান্ড করে বসলেন গর্ডন, তিনি মাওরিদের কাটা মাথা সংরক্ষণ করা শুরু করেন। মাথার ভেতরের পচনশীল অংশ যেমন: চোখ, ঘিলু, চামড়া এগুলো বের করে বিশেষ গাছের ছাল ও আঠার সাহায্যে মাথা সংরক্ষণ করতেন তিনি। আর এতেই কিছু মাথা বছরের পর বছর অবিকৃত থেকেছে।

গর্ডন প্রায় ৩০ থেকে ৪৫টি মাথা সংরক্ষণ করলেও সবগুলো আর অক্ষত নেই। এই মাথাগুলোকেই বলা হয়- মোকোমোকাই। উল্কি করা মাথার কয়েকটি এখনো আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। সুযোগ পেলে দেখে আসতে পারেন কাটা মাথার সেই বিশেষ উল্কিগুলো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস