Alexa কাটা গলা চেপে ধরে ফ্লাইওভার থেকে নামেন পাঠাও চালক, অতঃপর

ঢাকা, বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৩ ১৪২৬,   ১৮ মুহররম ১৪৪১

Akash

কাটা গলা চেপে ধরে ফ্লাইওভার থেকে নামেন পাঠাও চালক, অতঃপর

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৩৭ ২৭ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৯:৫২ ২৭ আগস্ট ২০১৯

নিহত মো. মিলন

নিহত মো. মিলন

রাজধানীর মালিবাগ ফ্লাইওভারে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং পাঠাওয়ের চালককে গলাকেটে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম মো. মিলন (৩৫)। 

রোববার রাতে শান্তিনগর ফ্লাইওভারের ওপরে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. মিলন মিয়া পেশায় ছিলেন একজন প্রাইভেটকার চালক। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় থাকতেন। সংসারের খরচ চালাতে রাতের বেলায় মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং অ্যাপসের মাধ্যমে পাঠাও এবং উবারে যাত্রীসেবা দিতেন। সেই পাঠাওয়ের যাত্রীবেশে থাকা এক ছিনতাইকারীর ছুরির আঘাতে প্রাণ গেল মিলনের। ছিনতাইকারী তার মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো ল ২৬-৪১২৬) ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে রাইড শেয়ারে যাত্রী নিয়ে মালিবাগ থেকে শান্তিনগরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। ফ্লাইওভারে ওঠার পরপরই মিলনের গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে মিলনের। রক্তের বেগ থামাতে মিলন নিজেই গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরে দৌড়ে ফ্লাইওভার থেকে নিচে নামেন। বিষয়টি দেখে দুইজন পথচারী মিলনকে উদ্ধার করে শান্তিনগর মোড়ে টহল পুলিশের কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে মিলনের কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। 

আকার-ইঙ্গিতে হিমেল নামে এক বন্ধুর নম্বর কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাকে জানান তিনি। এরপর দ্রুত মিলনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারে মিলনের গলায় ক্ষত স্থানে সাতটি সেলাই করা হলেও রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি। অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সোমবার সকাল ৬টার দিকে চিকিৎসক মিলনকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহজাহানপুর থানার ওসি শহীদুল হক বলেন, ঘটনার পর মিলনের মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো ল ২৬-৪১২৬) ও মোবাইল ফোন সেট পাওয়া যায়নি। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, মিলনের গলায় ছুরি চালিয়ে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মিলনের বন্ধু অটোরিকশা চালক মো. সিরাজ জানান, তাদের বাসা মিরপুরের গুদারাঘাট এলাকায়। রোববার রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে তাদের কথা হয়। এরপর পৌনে একটা এবং সবশেষ রাত দুইটা ১২ মিনিটে মিলনের সঙ্গে তার কথা হয়।

ওই সময়ে মিলন তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি ১০০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী নিয়ে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনে এসেছেন। যাত্রী নামিয়ে সদরঘাটে যাবেন। তখন তিনি তাকে জানান, উত্তরা থেকে অটোরিকশা নিয়ে সদরঘাটে যাবেন। নাশতা করে ভোরে দুইজনই লঞ্চের যাত্রী নিয়ে ফিরবেন। পরে রাত দুইটা ৩৬ মিনিটে মিলনের আরেক বন্ধু হিমেল ফোনে তাকে ঘটনা জানায়।

সোমবার বিকেলে মিলনের স্ত্রী বাদি হয়ে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে শাহজাহানপুর থানার এসআই আতিক পাঠাও অফিসের তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, ‘মিলন উবার ও পাঠাওয়ের রাইড শেয়ারিংয়ে যাত্রী নিতেন। তবে ঘটনার আগে তিনি কোনো অ্যাপস ব্যবহার করেনি। মিলনের লাস্ট কল ছিল ৭ আগস্ট। হয় এর মাঝে তিনি পাঠাও চালাননি। অথবা চালিয়ে থাকলেও অ্যাপস ছাড়াই যাত্রী পরিবহন করেছেন।’

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ