Alexa কাঁদলেন দণ্ডপ্রাপ্তরা, স্বজনদের গড়াগড়ি

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৭ ১৪২৬,   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

নুসরাত হত্যা

কাঁদলেন দণ্ডপ্রাপ্তরা, স্বজনদের গড়াগড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৩ ২৪ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় শুনে আদালতের কাঠগড়ায় দণ্ডপ্রাপ্তরা উচ্চস্বরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন- তারা নির্দোষ, তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে, তারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় আসামিদের। কাঠগড়া থেকে পুলিশ ভ্যানে ওঠা পর্যন্ত উচ্চস্বরে চেঁমামেচি করতে দেখা যায় তাদের।

রায়ের খবর জানাজানি হলে আদালত চত্বরে উপস্থিত আসামিদের স্বজনরা চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন। এসময় অনেককে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে দণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের নির্দোষ দাবি করতে শোনা যায়।

প্রিজনভ্যানে করে আসামিদের কারাগারে নেয়ার সময় তাদের স্বজনদের কান্নাকাটি, চিৎকার, চেঁচামেচিতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

১৬ আসামি হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদরাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদরাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল। এদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহানকে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বাঁধা হয়। পরে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ৮ এপ্রিল তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আট জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যুর পর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ মামলায় মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম তদন্ত শেষে ২৯ মে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অভিযোপত্রভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১২ জন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন।

এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নুসরাতের বাবা মাওলানা একেএম মুসা মানিক। ডেইলি বাংলাদেশকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মেয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত ১৬ জনের ফাঁসির রায়ে আল্লাহর কাছে সন্তুষ্ট প্রকাশ করছি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

তিনি আরো বলেন, আসামিদের ফাঁসি কার্যকরের আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ