কাঁটাতারের বেড়া ভাষাকে রুদ্ধ করতে পারে না: প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৬ ১৪২৬,   ১৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

কাঁটাতারের বেড়া ভাষাকে রুদ্ধ করতে পারে না: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৫ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নাগরিকত্ব সব দেশের জনগণের অধিকার উল্লেখ করে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেছেন, কোনো দেশের নাগরিকত্ব হরণ সমুচিত নয়। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বাংলা ভাষাপ্রেমী মানুষের ভাষাকে রুদ্ধ করতে পারে না, পারে বিভেদ সৃষ্টি করতে।

শুক্রবার বেনাপোল সীমান্তের নো ম্যানসল্যান্ডে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ১৯৫২’র ভাষা সংগ্রামের পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা এসেছে। এই স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের জনগণ ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাই স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক, নাড়ির সম্পর্ক। এ জন্য আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। বাঙালির অর্জনকে দুই বাংলা একসঙ্গে পালন করছি, এটা খুবই গর্বের বিষয়। দুই দেশের সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মৈত্রীতে এটা অনুপ্রেরণা যোগাবে। 

এ সময় পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, বাঙালিরা ভাষা ও স্বাধীনতার জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। ভাষা আর স্বাধীনতার জন্য এত ত্যাগের নজির পৃথিবীতে অন্য কোথাও নেই। এ জন্য আপনারা গর্বিত জাতি। 

এদিন মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দুই বাংলার হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে যশোরের বেনাপোলের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। ভাষার টানে ভৌগোলিক সীমারেখা ভুলে বেনাপোল-পেট্রোপোল চেকপোস্টের নো মান্সল্যান্ডে মিলিত হয়  দুই বাংলার হাজারো মানুষ।

এদিন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানের সুর ছিল সবার মুখে-মুখে।

দুই বাংলার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ীসহ সরকারের প্রতিনিধিরা বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  

সকাল সাড়ে ১০টায় বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শুন্যরেখায় (নোম্যান্সল্যান্ড) অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

আলাদা মঞ্চের অনুষ্ঠানে দুই দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ভাষা শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন সংগীত। এদিন ক্ষণিকের জন্য হলেও স্তব্ধ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক সীমারেখা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- যশোর-১ (শার্শা) আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন- বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন, বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল জলিল, যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক মো. সেলিম রেজাসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।

ওপার বাংলার অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী শ্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বনগাঁ পৌরসভার পৌরপ্রধান শংকর আঢ্য, সাবেক এমপি শ্রীমত্যা মমতা ঠাকুর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রীমতি বীনা মন্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি শ্রী কৃষ্ণ গোপাল ব্যানার্জি, জেলা পুলিশ সুপার শ্রী তরুণ হালদার, ১৭৯ বিএসএফ-এর সহকারী কমান্ডার শ্রী শিব নারায়ণ, পেট্রোপোলের সহকারী কাস্টমস কমিশনার শ্রী মিহির কুমার চন্দ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই