কল পেলেই বিনামূল্যে অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছে বাড়িতে 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১০ ১৪২৭,   ০৭ সফর ১৪৪২

ঢাকার পর এবার চট্টগ্রামে

কল পেলেই বিনামূল্যে অক্সিজেন পৌঁছে দিচ্ছে বাড়িতে 

ঢাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ২২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:৫০ ২২ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনার এই সময়ে করোনা রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে প্রকৃতির দান এই অক্সিজেন নিতে হয় কৃত্রিমভাবে। উচ্চমূল্য দিয়েও সময়মতো সিলিন্ডার পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে যায় প্রয়োজনপ্রার্থীদের। করোনা রোগীদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় এই অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন তরুণ। যার নাম দিয়েছে ‘জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা’।

জরুরি মুহূর্তে বাজারের উচ্চমূল্য আর অপ্রতুলতার কারণে যথাসময়ে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে না পারার বিষয়টি চিন্তায় এনেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে তারা। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করতে যখন করোনা রোগীদের নাভিশ্বাস উঠছে তখন জরুরি প্রয়োজন মুহূর্তে বিনামূল্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছেন এই তরুণ দল।

সেবামূলক এই কাজ করতে কোনো ফি কিংবা জামানত না নিয়ে রোগীর প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি ছুটে যাচ্ছেন তারা। সেবা পেতে শুধুই প্রয়োজন হয় চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র। সীমাবদ্ধতার কারণে শর্ত হিসেবে থাকে সেবা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করা। 

মানবিক এই সেবার তিন তরুণ হলো– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদ্য সাবেক স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সা'দ বিন কাদের চৌধুরী, সদ্য সাবেক ডাকসু সদস্য রফিকুল ইসলাম সবুজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স। 

সেবাটি ঢাকা কেন্দ্রিক চালু হলেও রোববার (১৯ জুলাই) থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও চালু করা হয় সেবাটি। ধীরে ধীরে সারাদেশে সেবাটি চালু করা হবে জানিয়ে সাদ বিন কাদের চৌধুরী বলেন, 'আমরা প্রতিটা বিভাগেই এই সেবা চালু করতে চাই। করোনার হটস্পট চট্টগ্রামে তাই আমরা ঢাকার পর শুরু করতে যাচ্ছি। ধারাবাহিকভাবে চালু হবে সব বিভাগে। এরপর হয়তো রাজশাহী বা রংপুরেও আমরা চালু করবো। আমরা চাই মহামাররি এই সময়ে একজন মানুষও যেন অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু বরণ না করে।’

সারাদেশে এই সেবাটি পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা। মহামারির এই সময়ে একজন মানুষও যেন অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু বরণ না করে সেই প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। পুরো সংকট সময়ে মানবতার সেবা করে যেতে চান তারা। 

অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়লেই নির্দিষ্ট নাম্বারে একটি ফোন কল। কল পেয়েই সিলিন্ডার হাতে বাইক নিয়ে ছুটে রোগীর ঠিকানার উদ্দেশ্যে। পৌঁছে দেয় অক্সিজেন সিলিন্ডার। ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র আর জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে সিলিন্ডার দিয়ে আসেন তারা।

ব্যক্তিগত উদ্যোগ, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে ১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও ২৫ টি সিলিন্ডার নিয়ে এখন কাজ করছেন তারা। তবে তাতেও সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সেবাপ্রদানকারীরা। স্বল্প সংখ্যক সিলিন্ডার নিয়ে পুরো ঢাকা শহরে সেবা প্রদান করা হয়ে উঠছে দুঃসাধ্য। তাই সিলিন্ডারের জন্য সামর্থ্যবান ও ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আহ্বানও জানায় তারা। 

সেবা কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে সাদ বিন কাদের চৌধুরী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ফুসফুস আক্রান্ত হয় বলে অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। শুধু করোনা রোগীই নয়, অন্যান্য রোগীর জন্যও অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে তারাও বিনামূল্যে জয় বাংলা অক্সিজেন সেবা নিতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক সাপোর্টের জন্য আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকার ফলে আমরা কেবল জরুরি প্রয়োজনে এটা দিতে চাই। আমাদের দেয়া অক্সিজেন সিলিন্ডারটি সর্বোচ্চ একদিন (২৪ ঘণ্টা) রাখা যাবে। এর মধ্যে অন্য কোথাও থেকে সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করতে রোগীদের অনুরোধ করি যেহেতু আমাদের সিলিন্ডার স্বল্প। রাজধানীর যেকোনো এলাকা থেকে ০১৬২৩০০০১০০, ০১৬৭৭১২৫৭৫৮, ০১৭২৫৩৪৩০৩৮ নম্বরে ফোন করলে তাৎক্ষণিকভাবে রোগীর বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেয়া হবে। 

সিলিন্ডারের ব্যবস্থা কিভাবে করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রোববার সা’দ বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে ২৫টি সিলিন্ডার আছে। আমরা নিজেরা ব্যক্তিগত অর্থায়নে ৬টি সিলিন্ডার কিনেছি, লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান জামাল ভাই ৭টি, একজন ব্যবসায়ী ১০টি এবং আমাদের দুইজন বড় ভাই ২টি সিলিন্ডার প্রদান করেছেন। 

সংকটের এই সময়ে ঝুকিপূর্ণ সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকার অনুভূতি সম্পর্কে সাবেক এই ডাকসু সম্পাদক বলেন, যাদের সেবা দেয়া হচ্ছে তাদের অনুপ্রেরণাই আসলে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করছে। আসলে মানুষের আশীর্বাদ এবং অনিঃশেষ ভালোবাসা আমাদের সামনে আরো ভালোভাবে কাজ করার প্রেরণা জোগাচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর/এসআর