কল্পনাকেও হার মানায় ‘অ্যাপল পার্ক’

ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২১ ১৪২৬,   ১০ শা'বান ১৪৪১

Akash

কল্পনাকেও হার মানায় ‘অ্যাপল পার্ক’

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:২৭ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, অ্যাপল পার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা স্টিভ জবস চেয়েছিলেন এমন একটি অফিস তৈরি করতে, আপাতদৃষ্টিতে যাতে সেটাকে অফিস বলে মনে না হয়। সেটি যেন হয়ে ওঠে প্রকৃতি, স্থাপত্য ও প্রযুক্তির এক অসাধারণ মেলবন্ধন। 

অ্যাপলের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস যে আধুনিক স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর আসল নাম অ্যাপল পার্ক।  

এর রেপ্লিকা তৈরি করতেই লেগেছে প্রায় দুই বছর। প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ পরিচালিত হয় সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে। পার্কের ভবনের দরজার হাতল তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় দেড় বছর।

এছাড়া এতে পার্ক করা যায় একসঙ্গে ১৪ হাজার ২০০ গাড়ি। বিশাল এই ক্যাম্পাসের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে রয়েছে ১ হাজারেরও বেশি সাইকেল।

স্টিভ জবসের স্বপ্নের প্রকল্প অ্যাপল পার্ক

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের নবনির্মিত প্রধান কার্যালয় অ্যাপল পার্ক। নতুন এই ক্যাম্পাসটি অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে। এটি ইনফিনিট লুপ নামে পরিচিত প্রথম ক্যাম্পাসের এক মাইল দূরে।  

প্রায় ১৭৫ একর এলাকা জুড়ে অবস্থান করছে এই ক্যাম্পাস। গোলাকার ও চারতলা এই ভবনটির চারদিকে রয়েছে সবুজের ছোঁয়া।  

২০০৬ সালে অ্যাপলের সাবেক সিইও স্টিভ জবসের কাছ থেকে নতুন ক্যাম্পাসের ঘোষণা আসে। মূলত স্টিভ জবস তার জীবনের শেষ দুই বছর এই অ্যাপল ক্যাম্পাস নিয়েই কাজ করে গেছেন। মৃত্যুর মাস চারেক আগে তিনি কোপার্টিনো সিটি কাউন্সিল থেকে অনুমতি পাওয়ার জন্য এ ভবনের বিস্তারিত তথ্য জমা দেন।  ২০০৯ সালে এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেন তিনি বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি নরম্যান ফস্টারকে। 

স্টিভের আমল থেকে অ্যাপলের ডিজাইন টিমের কাণ্ডারি ও প্রধান নকশাবিদ জনি আইভ। এ পর্যন্ত অসংখ্য অ্যাপল পণ্যের নকশা করেছেন জনি আইভ। মূলত, অ্যাপল পণ্যের ‘দৃষ্টি নান্দনিকতা’র বিষয়টির দেখভালের মূল দায়িত্বই তার। পর্দার পেছনে থেকে অ্যাপল পার্কের নকশা মূলত তিনিই করেছেন।   

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁকানো কাচের কাঠামো

পুরো ক্যাম্পাসের মধ্যমণি একটি কেন্দ্রীয় চারতলা বৃত্তাকৃতি ভবন, যার অফিস স্পেস প্রায় ২৮ লাখ বর্গফুট বা দুই লাখ ষাট হাজার বর্গমিটার। ব্যাসার্ধ প্রায় এক মাইল। এর দেয়াল তৈরি করা হয়েছে শুধু কাচ দিয়ে। এর ভেতরের যে পার্টিশন, সেখানেও ব্যবহার করা হয়েছে কাচ।  

স্টিভ জবস থিয়েটার

বেঁচে থাকতেই শুরু করে গিয়েছিলেন স্বপ্নের এই ভবনের কাজ। তবে শেষ করে যেতে পারেননি তিনি। তাই তার প্রতি সম্মান, ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এখানে করা হয়েছে আরেকটি স্থাপনা। যার নাম স্টিভ জবস থিয়েটার। সিলিন্ডার শেপের এই অডিটোরিয়ামে প্রায় এক হাজার লোকের আসন রয়েছে। আসনগুলো চামড়ার তৈরি। প্রতিটি আসন তৈরি করতে খরচ হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ টাকা। থিয়েটারটি অবস্থান করছে মাটির নিচে। আর সেখানে প্রবেশ করতে হলে যেতে হয় বিশেষ এক ধরনের লিফটের মধ্য দিয়ে।  

অ্যাপলের নতুন এই ক্যাম্পাস তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। এখানে ১৫ হাজার লোক যাতে দুপুরের খাবার খেতে পারেন, তার জন্য রয়েছে বিশেষভাবে ডিজাইন করা অফিসের সঙ্গে মানানসই পরিবেশবান্ধব ৫০০ টেবিল।

অ্যাপল পার্কের ভবন স্বাভাবিকভাবেই বায়ু চলাচলযুক্ত। যার ফলে এটিতে শীতলকরণ যন্ত্র বা গরম করার যন্ত্র ব্যবহার করতে হয় না। বছরের প্রায় ৯ মাসই তাই এ ভবনে এসি চালানোর প্রয়োজন পরে না।  

সবুজের ছোঁয়া ও বিশুদ্ধ পানি

পুরো অ্যাপল ক্যাম্পাসের প্রায় আশি ভাগ এলাকা জুড়ে রয়েছে সবুজের ছোঁয়া। লাগানো হয়েছে খরা প্রতিরোধী প্রায় ৯ হাজার গাছ। এর জন্য সাহায্য নেয়া হয়েছে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির। প্রধান ভবনের মাঝখানে মূল বাগান জুড়ে করা হয়েছে বিভিন্ন জাতের আপেলগাছ। পাশাপাশি রয়েছে খেজুর ও জলপাই, অ্যাপরিক্টের বাগানও। মাঝখানের ওই বাগানে রয়েছে বিশাল একটি পুকুর। যেহেতু পুরো ক্যালিফোর্নিয়াতেই রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা, আর পুরোপুরি এই ক্যাম্পাস চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ১,৫৭,০০০ গ্যালন পানির প্রয়োজন হবে। তাই এখানে ব্যবহৃত পানি পরিশোধন করে ব্যবহার করা হয়।

তবে এই ক্যাম্পাসটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। তাই বলে পরিদর্শকদের একেবারে হতাশ করতে চায় না এই প্রতিষ্ঠান। সাধারণ মানুষদের জন্য রয়েছে একটি ভিজিটর সেন্টার। পুরোটা স্বচ্ছ কাচ দিয়ে ঘেরা। সেখানে পাওয়া যায় অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্য ও টি-শার্ট। রয়েছে ক্যাফে। ছবি তোলার সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য।  

এছাড়া  নিরাপত্তার বিষয়টিকে অ্যাপল খুবই গুরুত্বসহকারে আগেও নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে। তাই এ ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে নেওয়া হবে, এটাই স্বাভাবিক। নতুন এ ভবনে শুধু এখানকার কর্মীরাই প্রবেশাধিকার রাখেন। তবে সবার সব জায়গায় প্রবেশের অধিকারও নেই। প্রতিটি কর্মীকে তার নির্দিষ্ট এলাকা ভাগ করে দেয়া রয়েছে। সেই এরিয়ার বাইরে তিনি প্রবেশ করতে পারবেন না কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ