Alexa কলেজছাত্রী মুক্তি হত্যার নেপথ্যে প্রতিহিংসা, জলাশয়

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

কলেজছাত্রী মুক্তি হত্যার নেপথ্যে প্রতিহিংসা, জলাশয়

 প্রকাশিত: ১৮:৫২ ৩১ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ২০:০৬ ৩১ আগস্ট ২০১৮

নিহত মুক্তির পরিবার

নিহত মুক্তির পরিবার

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় নাগডেমড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার চারদিনেও শোক কাটেনি। মুক্তিযোদ্ধা কন্যা পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্রী মুক্তি খাতুন। 

শুক্রবার সরেজমিন সাঁথিয়া ও পাবনার একদল জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক নাগডেমড়া মোজাম্মেল হকের বাড়িতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বজনরা। 

মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বলেন, আমার মেয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আমার বংশ আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ভক্ত আওয়ামী লীগ পরিবার। ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি নাগডেমড়া নির্বাচন কেন্দ্রে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম। নির্বাচনে প্রতিপক্ষ ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট. শামসুল হক টুকু এমপি। নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ কর্তৃক হ্ইাকোর্টে দায়ের করা মামলায় আমি স্বাক্ষী ছিলাম। তখন থেকেই নাগডেমড়া গ্রামের বাসিন্দা নাগডেমড়া ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড  আওয়ামী লীগের সভাপতি  আব্দুস ছালাম আমাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে টার্গেট করে। সালাম একজন সুবিধাবাদী চরিত্রের লোক। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সে  তার ভোল বদলিয়ে ওই দলে যোগ দেয়। সে একজন হাইব্রিড আওয়ামী লীগার। 

নাগডেমড়া ই্উনিয়ন ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী জানান, ছালাম প্রথমে জাতীয় পার্টি করে। পরবর্তিতে বিএনপি এবং ২০০১ সালে জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন। রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ২০০৮ সালে সে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নাগডেমড়া ইউপি আওয়ামী লীগের ১নং ওয়ার্ড সভাপতি হন। তার গ্রুপের আয়নাল, জাহেদ, সাচ্চু ও আবু খাঁটি জামাত ও মাসুদ বিশ্বাস বিএনপি। ওই গ্রামের  নজরুল ইসলামের ছেলে ছালামের চাচাতো ভাই  আপন বলেন, ছালাম একজন ধান্দাবাজ, ক্ষমতালোভী।

স্থানীয়রা জানায়, নাগডেমরা গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে করে দু’গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই জলাশয়টি প্রথমে মোজাম্মেল হক গ্রুপের লোকজনের দখলে ছিল। এটি দখলে নিতে যায় ছালাম গ্রুপের লোকজন। এ নিয়ে দু’গ্রুপের বিরোধের সূত্রপাত। এই বিরোধের জেরে গত ২৮ ও ২৯ জুলাই দু’গ্রুপ এক অপরের বাড়িতে হামলা চালায়। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের দুটি মামলা হয়। এই হামলায় মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেলের বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুরও লুটপাট করে ছালাম গ্রুপ। লুটপাটের পর ছালাম গ্রুপের ভয়ে মোজাম্মেল হক পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। 

মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল জানান, ১২ আগস্ট সাঁথিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আঃ মজিদ ও নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ কোন অসুবিধা হবেনা মর্মে আমাকে আশ্বস্ত করে বাড়িতে রেখে যায়। বাড়িতে রেখে যাওয়ার পর ছালাম গ্রুপ আমাকে হত্যার হুমকি দিলে আমি থানায় জিডি করি। এতে রাগান্বিত হয়ে ছালাম গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১৯ আগস্ট ৩০-৪০ জনের একটি দল আমার বাড়িতে হামলা চালায়। ওরা আমাকে ও আমার ছেলেদের খুঁজতে থাকে। প্রাণ ভয়ে আমরা বড়াল নদী সাঁতরিয়ে ওপাড়ে চলে যাই। হামলাকারীরা বাড়িতে কোন পুরুষ না পেয়ে রাজনেতিক প্রতিহিংসার ঝাল মেটাতে আমার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে মুক্তির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর আহত মুক্তিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সাঁথিয়া হাসপাতালে ও পরে ওই দিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ২৭ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় মুক্তি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

এদিকে ছালামের বৃদ্ধ মা জহুরা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ওই মেয়ের ক্যান্সার ছিল। আমার ছেলেদের ফাঁসানোর জন্য মোজাম্মেল নিজেই ওর মেয়েকে পুড়িয়ে মেরেছে। ও আর মুসলমান নাই, হিন্দু হয়া গ্যাছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম