কলাপাড়ার মুজিব নগরের আতঙ্ক টিনু-তুহিন বাহিনী

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪২৭,   ১২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কলাপাড়ার মুজিব নগরের আতঙ্ক টিনু-তুহিন বাহিনী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৬:১৩ ১২ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

পান থেকে চুন খসলেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে সদ্য কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউপির শাহজাদা পারভেজ টিনু বাহিনী। 

চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং সুদের টাকা আদায় থেকে শুরু করে মাঝে মধ্য ভাড়ায়ও চলে এ বাহিনীর অস্ত্রের মহড়া। 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ‘মুজিব নগর’ ধানখালীর আতঙ্ক হয়ে উঠেছে এ বাহিনী। সংশ্লিষ্ট এলাকা ছাড়াও তাদের বিচারণে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে উপজেলাবাসী। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউপি মুজিব নগর হিসেবে পরিচিত। সে মুজিব নগরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেলেও অজ্ঞাত কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয় না। অতিসম্প্রতি এ বাহিনীর অস্ত্রের তাণ্ডব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরা হলে উপজেলাবাসী ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। 

২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর পটুয়াখালী জেলা পুলিশের উদ্যোগে কলাপাড়া সুধীজনদের নিয়ে বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি শফিকুল ইসলামের এক বিশাল জনসভায়  আয়োজন করা হয়। 

ওই সভায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে এ কিশোর বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেন। ওই দিন তারা দাবি করেন অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়না। দিনে দিনে এ বাহিনীর দৌড়াত্ম বেড়েই চলছে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর কলাপাড়া পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আর.পি.সি.এল কোম্পানির নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রবাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লি., আমির ইঞ্জিনিয়ারিং লি. ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লি.সহ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে লিখিত চুক্তিবদ্ধ হয়ে সাফ ইজারা নিয়ে লোন্দা খেয়াঘাট থেকে ওই কোম্পানির যাবতীয় মালামাল পরিবহনকাজে নিয়োজিত হয় ধানখালীর শহিদুল ইসলাম।

কিন্তু এ খেয়াঘাটটি জবর দখল নিতে চায় শাহাজাদা পারভেজ টিনু বাহিনী। শহিদুল ইসলামের কাছে ওই ঘাট থেকে লভ্যাংশের ৬০ ভাগ অর্থ দাবি করা হলেও তা মেনে নেয়া হয়। কিন্তু ঘটনার দিন আকস্মিক টিনু মৃধার চাচাতো ভাই তুহিন মৃধা নেতৃত্বে তুহিনের তার ছেলে লিয়ন মৃধা এবং মাসুম সরদার,তারেক মৃধা, রাকিবুল মৃধা ফেরদৌস তালুকদার বশির হাওলাদার, নজরুল হাওলাদার, জাহিদ, শুভ, সাইফুল, লিমন, সোহানসহ ২০-২৫ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে প্রায় ঘণ্টা ব্যাপী ওই এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

ঘাটটি দখল নিতে আতঙ্কের এক পর্যায় শহিদুল ইসলামের ছেলে আতিকুর রহমানের শিমুলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে। তাৎক্ষণিক শিমুল পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা ও পায়রা বন্দর পুলিশ ক্যাম্পের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এসব অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

এঘটনায় কলাপাড়া থানায় গত ৫ জানুয়ারি একটি জিডিও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন হামলার শিকার শিমুল (জিডি নং-১৯১/২০)। 

এর আগে কয়েকদফা এ বাহিনীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেয়া হলেও প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

এছাড়াও গত ৫ জানুয়ারি জবর দখলের ঘটনায় অন্তত সহস্রাধিক নারী তুহিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে। ওই কর্মসূচিতে অভিযোগ করা হয়, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রিক এলাকায় জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা পরিশোধ না করে তুহিন বাহিনী জমিতে জোর করে বালু ভারাটের কাজ করছে। প্রতিবাদ করা হলে তাদের বিরুদ্ধে উল্টো হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়। 

এব্যাপারে আর.পি.সি.এল‘র সহযোগী ঠিকাদার খাঁন কোম্পানির সাইট ম্যানেজার ইকবাল বাহার চৌধুরী (ভুলু) জানান, তাকে দিয়ে মামলা করানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারে অভিযোগ কোম্পানীর কাছ থেকে টাকা নিলেও তুহিন মৃধা তাদের অর্থ পরিশোধ করেনি।  

এ প্রসঙ্গে তুহিন মৃধা দাবি করেন, তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি এর কোনো প্রমাণ নাই। ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। অর্থ কেলেঙ্কারী ঘটনায় অভিযুক্ত অপর ব্যক্তি সাইদুল ফরাজীর দাবি করেন, তিন লাখ টাকার একটি রফাদফা আর.পি.সি.এল‘র মধ্যে হয়েছে,কিন্তু তার সঙ্গে তিনি জড়িত নয়। 

এছাড়া গত ২০১৯‘র ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় অভিযুক্ত তুহিন মৃধা তার বাহিনী নিয়ে কলাপাড়া-লোন্দা ব্রিজ এলাকার আতিকুর রহমান নামে এক কলেজ প্রভাষককে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় মামলা হলে পুলিশ তুহিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, শাহাজাদা পারভেজ টিনু তার বাহিনী নিয়ে প্রতিনিয়িত মোটরসাইকেল ও অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় ভয়-ভীতির তাণ্ডব চালায়। এছাড়াও শাহাজাদা পারভেজ টিনু মিয়ানমারে চার পাচারের ঘটনায় র্দীঘদিন জেলে ছিল বলে একটি সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছিল। 

এ প্রসঙ্গে শাহজাদা পারভেজ টিনু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বাহিনী বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াজের লোক। আমার আত্মীয় হলেও তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। 

এ প্রসঙ্গে ধানখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ তালুকদার জানান, এ বাহিনী অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় তাণ্ডব সৃষ্টি করে আসছে। ঘাট দখল নিতে এ বাহিনীরা দ্বন্দ্ব সংঘাত চলমান রয়েছে। এর সুরাহ হওয়া দরকার। তা না হলেও বড় ধনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা রয়েছে। 

এ ঘটনায় কলাপাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, উল্লেখিত ঘটনায় থানায় একটি জিডি হয়েছে। প্রসিকিউশনের জন্য আদালতের অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকবার উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান চালায়। কিন্তু তারা গা ঢাকা দিলে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ