.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯ এর উদ্বোধন

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ১৭:২৮ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩২ ৯ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চাকায় গতি আনতে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান তিনি। 

বুধবার বিকেলে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি।

এসময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়িক আয়োজন। উৎপাদক-রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসাধারণকে একক প্লাটফর্মে সমবেত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে এই বাণিজ্য মেলা। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও তাদের পণ্যের প্রচার-প্রসারের সুযোগ পান।

এ প্রেক্ষিতে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদারের আহ্বান জানান আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে এরইমধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারসহ বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে আরো ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার জন্য কাজ করছে সরকার। এছাড়া প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পের প্রসারে সারাদেশে স্থাপন করা হচ্ছে হাইটেক পার্ক। সরকারের এসব বহুমুখী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ও অর্থনীতির দ্রুত বিকাশে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

আবদুল হামিদ বলেন, মেলায় উৎপাদকরা মানসম্মত, উদ্ভাবনী ও ফ্যাশনেবল পণ্যসম্ভার ক্রেতা দর্শনার্থীদের সম্মুখে উপস্থাপনের যেমন সুযোগ পায় তেমনি দর্শনার্থীরাও পণ্যের মান ও দামের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করার সুযোগ লাভ করে। এবারের বাণিজ্য মেলা উৎকৃষ্ট মানের পণ্যসম্ভার ও সেবা প্রদর্শনের মাধ্যমে আরো আকর্ষণীয় হবে।

মেলা চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য এই মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

এবারই প্রথম বাণিজ্য মেলার টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে প্রতি টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ টাকা। বাণিজ্য মেলায় আগ্রহীরা যে কোনো স্থান থেকে ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্য্যমে মেলার টিকিট কিনতে পারবেন। ওয়েব ঠিকানা www.e-ditf.com এ ব্রাউজ করে অনায়াসেই জানা যাবে মেলা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। এছাড়া মোবাইল অ্যাপস E-DITF ব্যবহার করেও জানা যাবে আনুষঙ্গিক তথ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ আয়োজনে ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।

এবারের বাণিজ্য মেলার প্রধান আকর্ষণ মেট্রোরেলের আদলে তৈরি করা মূল ফটক। সেই সঙ্গে রয়েছে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের নানা থিম।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এরইমধ্যে মেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আজ দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনও করেছেন। এসময় তিনি মেলা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।

তথ্যমতে, এবারের বাণিজ্য মেলায় সব মিলিয়ে ৫৫০টি স্টল থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে- সংরক্ষিত মহিলা স্টল ২০টি, প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৮টি, সাধারণ প্যাভিলিয়ন ১৮, সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন ২৯টি, প্রিমিয়ার স্টল ৬৭টি, রেস্টুরেন্ট তিনটি, সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন ৯টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৬টি, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৬টি, সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন ৯টি, বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল ১৩টি, সাধারণ স্টল ২০১টি ও ফুড স্টল ২২টি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআইএস