কর্মচারী হয়ে রানিকে বিয়ে, অতঃপর...

ঢাকা, সোমবার   ২৫ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭,   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

কর্মচারী হয়ে রানিকে বিয়ে, অতঃপর...

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫০ ৭ মে ২০২০   আপডেট: ১৫:২৮ ৭ মে ২০২০

ছবি: দ্য টিউডর ছবির পোস্টার

ছবি: দ্য টিউডর ছবির পোস্টার

রাজাদের জীবনযাপন সম্পর্কে জানার আগ্রহ সবার মনেই রয়েছে। তাদের বিলাসিতা, আনড়ম্বরপূর্ণ জীবন ধারণ সবার মনেই কৌতূহলের জন্ম দেয়। অষ্টম হেনরি আর টিউডারসদের কথা নিশ্চয় অনেকেই জেনে থাকবেন! তাদের নিয়ে ইতিহাসে রয়েছে নানা মুখরোচক কাহিনী। 

তবে কখনো কি মনে হয়েছে কেন অষ্টম হেনরি এবং তার পরিবারকে টিউডারস বলা হয়? কোথা থেকেই টিউডারসরা এসেছে? এর সূচনা হয়েছিল কীভাবে আর কে ই বা করেছিলেন? আপনার সব কৌতূহল মেটাতেই আজকের লেখা। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক টিউডার রাজবংশের গোঁড়াপত্তনের কাহিনী- 

ইংল্যান্ডের সিংহাসনে টিউডর রাজবংশের প্রতিষ্ঠা লাভ করা ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। ইংল্যান্ডে দীর্ঘকালব্যাপী যে অরাজকতা নৈরাজ্য তথা বিশৃঙ্খলা বিরাজমান ছিল, টিউডর রাজবংশের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার অবসান ঘটে। টিউডাররা মূলত ওয়েলসের বাসিন্দা। তবে তারা ঠিক রাজবংশীয় ছিল না। 

টিউডার রাজবংশ ১৪৮৫ সালে ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং আয়ারল্যান্ড শুরু হয়। রাজা হেনরির সিংহাসনে প্রবেশের মাধ্যমেই টিউডার বংশের গোঁড়াপত্তন ঘটে। তবে তখনো এর নামের সঙ্গে টিউডার যুক্ত হয়নি। রাজা প্রথম হেনরি তার মায়ের দিক থেকে সিংহাসনে বসেন।  

রাজা অষ্টম হেনরি ও তার স্ত্রী অ্যান বোলেনগুইয়েনডের রাজপুত্র লিলিওলিন দ্য গ্রেট এবং তার পুত্রদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এডনিফিড ফাইচানই। তিনি রাজ দরবারে একইসঙ্গে উপদেষ্টা, কূটনীতিক, চাকর এবং কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করতেন। এডনিফিড ফাইচানই ছিলেন টিউডারস রাজবংশের প্রথম ব্যক্তি সিনফ্রিগ আব ইওরওয়ার্থের পুত্র। 

তিনি ছিলেন গুইয়েনডের প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এডনিফিড ফাইচান দেহুবার্থের লর্ড রাইস এপ গ্রুফাইডের কন্যা গেনেলিয়ানকে বিয়ে করেন। এতে করে তার পরিবারের সামাজিক যোগাযোগ বেড়ে যায় অনেকখানি। এডনিফিডের ছয় ছেলে তারা সবাই গুইয়েনডের রাজকুমারদের সেবায় নিয়োজিত ছিল। 

এডনিফিডের জ্যেষ্ঠ পুত্র গোরনউই গুইয়েনডের প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তার বাবার স্থানেই পরবর্তীতে তিনি কাজ করেন। তিনি আইনী ও কূটনৈতিক ক্ষমতাসহ প্রধান উপদেষ্টা এবং কাউন্সিলর পদ পেয়েছিলেন। তার পুত্র টিউডর হেন নামে পরিচিত ছিলেন। 

তিনি ছিলেন অ্যাংলেসির পেনমিইনড্ডের লর্ড। তার অবস্থান পরিবারের সামাজিক মর্যাদা আরো বাড়িয়ে দেয়।টিউডর হেনের নাতি টিউডর ফাইচান গুইয়েনডের মার্গারেট ফেরচ থমাসকে বিয়ে করেন। তিনি ছিলেন তৃতীয় এডওয়ার্ডের বংশধর।  

টিউডর রাজবংশটিউডর ফাইচান এবং মার্গারেটের পাঁচ ছেলে ছিল। যারা তাদের কাজিন ওভেন গ্লেন্ডওয়ারের বিদ্রোহে সক্রিয় ছিল। এটিই ছিল এই পরিবারের ক্রমাগত উত্থানের মূল চাবিকাঠি। গ্লেন্ডওয়ার বিদ্রোহের পরে ওয়েলশবাসীদের উপর কর্তৃত্ব পায়। রাজা প্রথম হেনরি ছিলেন তাদের সন্তান। এখান থেকেই চলতে থাকে টিউডার রাজবংশ।  

ফরাসী যুদ্ধে রাজা পঞ্চম হেনরির মৃত্যু হয়। এরপর ওয়েন এপি মেরেডিড এপ টিউডর নামে এক রাজকর্মচারীকে তার বিধবা স্ত্রী রানি ক্যাথরিন গোপনে বিয়ে করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুজনকে বিবাহিত থাকতে দেয়া হয় এবং তাদের সন্তানদের বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল। 

তাদের দুইটি পুত্র সন্তান হয়। এডমন্ড এবং জ্যাস্পার টিউডর। যারা রাজা ষষ্ঠ হেনরির ভাই হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছিল। তারা রাজা ষষ্ঠ হেনরির কাছ থেকে যথাক্রমে রিচমন্ড ও পেমব্রোকের আর্ল পদে অধিষ্ঠিত হন। রাজা সপ্তম হেনরির সময় ইংল্যান্ডে এক নতুন শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। 

তার শাসনকালে ইংল্যান্ডে শাসনতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বেশ কিছু আধুনিক পদক্ষেপ নেয়া হয়। এই জন্যই সপ্তম হেনরির প্রতিষ্ঠিত রাজতন্ত্রকে নব্য রাজতন্ত্র নামে অভিহিত করা হয়। টিউডর বংশের শাসনকালেই আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কৃত হলে যুক্তিবাদী জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা শুরু হয়। এটিও ছিল রাজা সপ্তম হেনরির শাসনামলে। 

টিউডার রাজবংশের সবচেয়ে আলোচিত রাজা ছিলেন রাজা অষ্টম হেনরি। তিনি তার জীবনের নানা কাহিনী দিয়ে ইতিহাসের নানা অধ্যায়ে আজো জীবিত রয়েছেন। তার পুরো জীবনই ছিল নানা মুখরোচক কাহিনীতে ভরপুর। তার মেয়ে দ্বিতীয় এলিজাবেথ স্ত্রী অ্যান বোলেন রয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

সূত্র: বিবিসি, হিস্টোরিএক্সট্রা

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস