করোনা: সাত কলেজে তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা, উৎকণ্ঠায় শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনা: সাত কলেজে তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা, উৎকণ্ঠায় শিক্ষার্থীরা

ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৫৫ ২৯ এপ্রিল ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সাত কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা। সর্বশেষ গত ১০ এপ্রিল অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আগে থেকেই সেশনজটে জর্জরিত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য এ যেন মরার উপর খরার ঘা। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি উন্নতি না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা করছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

ইডেন মহিলা কলেজের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের মার্কেটিং বিভাগের  শিক্ষার্থী শাহনাজ আক্তার বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকলে আগে থেকেই সেশনজটে ভুক্তভোগী সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আরো দুর্ভোগ বাড়বে। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে ক্যারিয়ার গঠনেও আমরা পিছিয়ে পড়বো। আমাদের অনলাইনে ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হোক এবং খোলার সঙ্গে সঙ্গে যথাসময়ে পরীক্ষা নেয়া হোক।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ইমন হোসেন বলেন, আমাদের নতুন সেশনগুলোতে সেশনজট না থাকলেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা হবে না। এতে আমাদের সেশনজটে পড়তে হবে।

বন্ধ হয়ে গেছে ২০১৭ সনের মাস্টার্স পরীক্ষা। এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের মাস্টার্স ১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী রেজওয়ান ইসলাম বলেন, আমাদের ২০১৭ সালের পরীক্ষা ২০২০ সালে হচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। সেশনজটের কারণে আমাদের সরকারি চাকরির বয়সও শেষ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সেজন্য সরকারি চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি প্রয়োজন।

বন্ধ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হলে অনলাইনে সাত কলেজের একসঙ্গে ক্লাস নেয়া যায় কিনা জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, সাত কলেজের বিষয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও এখনো অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে না আমাদেরকেও কোনে নির্দেশনা দেয়নি। তবে ফেসবুকে ডিপার্টমেন্ট ভিত্তিক ক্লাস নেয়া যায় কিনা সেটা আমরা বিবেচনা করে দেখবো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সাত কলেজের সমন্বিত কোন উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে কবি নজরুল কলেজ অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট)  প্রফেসর আইকে সেলিম উল্ল্যাহ খন্দকার বলেন, আমরা তো সেশনজটের সমস্যাগুলো প্রায়ই কাটিয়ে উঠছিলাম। এখন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে সমস্যা বাড়বে। দেখি ৫ মে’র পর অফিস খুললে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিটিং করে কি সিন্ধান্ত নেয়া যায় এবং কলেজ খুললে অবশ্যই আমরা ক্রাশ প্রোগ্রামে যাবো।

তিনি আরো বলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা হয়েছে। অফিস খুললে আটকে থাকা রেজাল্টগুলো হয়ে যাবে। ৫ মে পর্যন্ত সরকারি বন্ধ। এর আগে তো অফিস খোলার কোনো সিস্টেম নেই।

করোনাভাইরাসের কারণে আটকে থাকা রেজাল্টের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহলুল হক চৌধুরী বলেন, রেজাল্ট প্রকাশে আমাদের কতগুলো স্টেপ ফলো করতে হয়। ৭-৮ দিন আরো দেখবো এরপর রেজাল্ট অনলাইনে দিয়ে দিব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম