করোনা: সন্দেহ হলেই নিন ব্যবস্থা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৯ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৫ ১৪২৭,   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনা: সন্দেহ হলেই নিন ব্যবস্থা

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৭ ২৩ জুন ২০২০   আপডেট: ১৪:৫৯ ২৩ জুন ২০২০

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

করোনায় কাঁপছে পুরো বিশ্ব। জ্বর এবং শুকনো কাশি বা শরীর ব্যথার মত দু-একটি উপসর্গ দেখা দিলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। এরমধ্যে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় এবং সেবা না পাওয়া নিয়ে নানা অভিযোগ তো আছেই। এমন পরিস্থিতিতে কি করবেন অনেকেই তা নিয়ে সংশয়ে আছেন।

আপনি যদি বুঝতে পারেন আপনার মধ্যে করোনা সংক্রমণের একাধিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। চলুন জেনে নিই নিজেকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহ হলে কি ব্যবস্থা নিতে হবে-

প্রথমেই আলাদা হয়ে যান: করোনা সংক্রমণের প্রথম লক্ষণ জ্বর এবং শুকনো কাশি ছাড়াও পেশীতে ব্যথা, গলা ব্যথা, স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি না থাকা, শ্বাসকষ্ট, কখনো পেট খারাপ ও বমি বা বমি বমি ভাব থাকতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কেউ যদি নিজের মধ্যে এ রকম একাধিক লক্ষণ দেখতে পান, তাহলে শুরুতেই 'সেলফ-আইসোলেশনে' চলে যান, অর্থাৎ নিজেকে পরিবারের বাকি সদস্যদের কাছ থেকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলুন। সম্ভব হলে আলাদা একটি ঘরে থাকুন। খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধ ঘরের দরজার বাইরে রেখে যাবেন পরিবারের সদস্যরা। এই ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে অন্যদের থেকে অন্তত ছয়ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন এবং মাস্ক পড়ুন।  এতে পরিবার, কর্মস্থল, এবং আশপাশের মানুষের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাবে।

নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে: এখন সাধারণভাবে জ্বরের সঙ্গে আরো এক বা একাধিক উপসর্গ দেখা গেলে কোভিড-১৯ ধরে নিয়েই ব্যবস্থা নিতে হবে অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতে নমুনা পরীক্ষা করানো যায়। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৬২ টি সরকারি পরীক্ষাগারে করোনাভাইরাস নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার মধ্যে ৩২টি ঢাকায়। সেক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া হটলাইন নম্বরে ফোন দিয়ে, অথবা স্থানীয় সিভিল সার্জন কিংবা সিটি কর্পোরেশনে যোগাযোগ করতে হবে। সরকারি পরীক্ষাগারে বিনামূল্যে নমুনা পরীক্ষা করানো যাবে। বেসরকারিভাবে নমুনা পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করালে ৩,৫০০ টাকা এবং বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ বেঁধে দিয়েছে সরকার।

গরম পানি দিয়ে গার্গল ও ভাপ নিতে হবে :  নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়েছেন, কিন্তু তার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত বসে না থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে কিছু কাজ করতে হবে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে গরম পানি দিয়ে গার্গল করা। দিনে অন্তত চার থেকে ছয়বার গার্গল করুন। এছাড়া দিনে কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিন।

পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে: এসময় ইমিউনিটি অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খেতে হবে। এজন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার, স্যুপ, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান।

নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা সামাজিক মাধ্যমে কারো শেয়ার করা প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খেতে নিষেধ করছেন। টেলিফোনে কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, নিজের উপসর্গ ও লক্ষণ অনুযায়ী ওষুধ খাবেন। তবে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি জাতীয় ওষুধের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, তাই সেটি প্রেসক্রিপশন ছাড়াও খেতে পারেন।

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা খেয়াল রাখুন: শরীরে অক্সিজেনের মাত্রার ওঠানামা খেয়াল রাখতে হবে। পালস অক্সিমিটার নামে ছোট একটি মেডিকেল যন্ত্র এক্ষেত্রে হাতের কাছে রাখতে পারেন। আঙুলের মাথায় লাগিয়ে হৃৎস্পন্দন ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপা যায়। 

সাধারণত পালস অক্সিমিটারে ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ অক্সিজেন মাত্রাকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ শতাংশের কম হলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, বুক-ব্যথা, কিংবা হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস