করোনা সংক্রমণে কাশির ধরন কেমন, শুকনো নাকি ভেজা?

ঢাকা, সোমবার   ০১ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭,   ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনা সংক্রমণে কাশির ধরন কেমন, শুকনো নাকি ভেজা?

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:০৮ ৩০ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১১:০৮ ৩০ মার্চ ২০২০

ছবি: করোনাভাইরাসে কাশি

ছবি: করোনাভাইরাসে কাশি

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে প্রত্যেক দেশের মানুষই একে অন্যের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছে। কেউ রয়েছেন লকডাউনে আবার কেউ কোয়ারেন্টাইনে।

করোনাভাইরাস বর্তমানে মহামারি রূপ ধারণ করেছে। এর উপসর্গগুলো সম্পর্কে সবাই অবগত থাকলেও তা সাধারণ ফ্লু এর মতো হওয়ায় করোনা শনাক্তে দেরি হয়ে যাচ্ছে।

কোভিড-১৯ এর লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি বা ফ্লুর মতো। আর তাই জ্বর, ঠাণ্ডা ও কাশি এই স্বাভাবিক লক্ষণগুলোই করোনার কারণ হতে পারে। তবে করোনাভাইরাস হলে রোগীর কাশির ধরন সাধারণত শুকনো হয়ে থাকে অর্থাৎ খুশখুশে কাশি। আপনি জানেন কি? শুকনো ও ভেজা কাশির মধ্যে পার্থক্য কী?

কাশি শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক কাজ করে। ধোঁয়া, ধূলাবালি বা ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদান যাতে আমাদের নাক ও গলা দিয়ে প্রবেশ করতে পারে সেটি সুনিশ্চিত করে কাশি। তবে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীর ৬০ শতাংশই গুরুতরভাবে শুকনো কাশিতে ভুগেছে।

শুকনো কাশি তখনই হয় যখন বুকে বা শ্বাসনালির মধ্যে জ্বালা অনুভূত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ফুসফুসে শ্লেষ্মা তৈরি হয় না। এজন্য শুকনো কাশি হলে আপনি যতই কাশি দিবেন ততই আরো কাশি উঠবে। এক্ষেত্রে কোনো শ্লেষ্মা বা কফ গলা দিয়ে উঠবে না।

অন্যদিকে ফুসফুসে যখন মিউকাস বা শ্লেষ্মা জমে তখন যে কাশি হয় তখন সামান্য কাশি দিলেই কিন্তু কফ উঠে আসে। এটি ভেজা কাশি। করোনায় আক্রান্ত রোগী ভেজা নয় বরং শুকনো কাশিতে ভোগেন। 

করোনায় আক্রান্ত অনেক রোগীর প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে উঠে এসেছে শুকনো কাশির কথা। তাদের অনেকের মতে, কাশি এতোটাই মারাত্মক রূপ ধারণ করত যে অনেক সময় তাদের দম বন্ধ হয়ে যেত। আবার অনেকে তীব্র বুক ব্যথাও অনুভব করেছে।

চীনের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সেখানে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ রোগীর শুকনো কাশিতে ভুগেছিল। অন্যদিকে গলা ব্যথায় ভুগেছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ রোগী। করোনাভাইরাসের প্রধান লক্ষণ হলো জ্বর আর দ্বিতীয় লক্ষণটি হলো শুকনো কাশি।

কখন চিন্তার কারণ?

শুকনো কাশি অনেক কারণেই হতে পারে। যারা ধূমপায়ী তারাও এ ধরনের কাশিতে ভুগে থাকেন। তবে আপনার যদি কাশির সঙ্গে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যা থাকে তবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। প্রয়োজনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকুন। 

এরই মধ্যে আপনার যদি কাশির সমস্যা হয়েই থাকে তবে শুকনো কাশির চিকিৎসা হিসেবে ঘরোয়া টোটকায় ভরসা রাখুন। লবণ পানিতে গার্গেল করুন, মধু ও আদার রস মিশিয়ে পান করুন। কিংবা আদা পানিতে ফুটিয়ে মধু মিশিয়ে চায়ের মতো পান করুন। ঘুমের সময় যদি কাশি হয় তবে সামান্য একটু উঁচু বালিশ ব্যবহার করুন।

সূত্র: টাইমসঅবইন্ডিয়া

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস