করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বিসিজি ভ্যাকসিন কি সত্যিই কার্যকরী?

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৭,   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বিসিজি ভ্যাকসিন কি সত্যিই কার্যকরী?

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪১ ২ এপ্রিল ২০২০  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এক প্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এরইমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে এ ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরি নিয়ে নানা প্রতিবেদন। তবে প্রতিষেধকের কার্যকরী ফল না পাওয়া পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদনই ভরসার স্থান নিতে পারছে না।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, বিসিজি ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি সম্ভাব্য নতুন হাতিয়ার হতে পারে। বিশ্বে বিভিন্ন দেশ থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এমনটি জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন দেশে করোনা যেভাবে প্রভাব ফেলেছে তা পরীক্ষা করে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন বিসিজি বা ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুউরিন যা যক্ষ্মা রোগের (টিবি) ভ্যাকসিন হিসাবে মূলত ব্যবহৃত হয় তা করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি সম্ভাব্য নতুন হাতিয়ার হতে পারে।

এ বিষয়ে নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পৃথিবীর যে সব দেশে বিসিজি টিকাদান কর্মসূচি নেই যেমন ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে দীর্ঘস্থায়ী টিকাদান কর্মসূচি যে সব দেশে চালু আছে ওইসব দেশের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম।

গবেষণায় দাবি করা হয়, বিসিজি টিকা আসার পর থেকে বিশ্বে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। যেমন- মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় ১৯৮৪ সালে বিসিজি কার্যক্রম শুরু করে ইরান। দেশটিতে বিসিজি টিকা দেয়া মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি তেমন একটা পাওয়া যায়নি।

অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের কিছু দেশ এটির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করে দেখতে চাচ্ছে যে, এটি কোভিড-১৯ এর উপসর্গের বিস্তার ও তীব্রতা হ্রাসে সাহায্য করতে পারে কিনা। তারা এই গবেষণায় বয়স্ক রোগীসহ বিভিন্ন হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করছে। যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস এবং গ্রিসও এমন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করার কাজ শুরু করেছে।

নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন বলছে, যেসব দেশে বিসিজি টিকাদান কর্মসূচি নেই যেমন ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র; এসব দেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে টিকাদান কর্মসূচি যেখানে আছে সেখানে করোনায় আক্রান্তের প্রবণতা কম।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস