করোনা মোকাবিলায় ২০ হাজার জার্মান মেডিকেল শিক্ষার্থী

ঢাকা, শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭,   ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনা মোকাবিলায় ২০ হাজার জার্মান মেডিকেল শিক্ষার্থী

আরাফাত হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৭ ৯ এপ্রিল ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জার্মানিজুড়ে হাজার হাজার মেডিকেল শিক্ষার্থী করোনভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছেন। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হয়ে তাদের স্বাস্থ্য খাতকে সাহায্য করছেন। হাসপাতালগুলোও অতিরিক্ত সাহায্য সাদরে গ্রহণ করেছে।

তাদেরই একজন শার্লোট ডাবরাল। চব্বিশ বছর বয়সী এই মেডিকেল শিক্ষার্থী করোনাভাইরাস আঘাত হানার সময় পোল্যান্ডে ইরাসমাস বর্ষ কাটাচ্ছিলেন। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ডাবরাল জার্মানি ফিরে আসেন। এখন ক্রাকোয় ক্লাস লেকচারে অংশ নেয়ার পরিবর্তে কোলোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরোধমূলক মেডিসিন এবং সংক্রামক রোগ বিভাগের পক্ষে কাজ করছেন। যেখানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে কোভিড-১৯ এর জন্য পরীক্ষা করা হয়।

তার বন্ধুরা তাকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ প্রোগ্রামের কথা বললে, সে তাদের সাথে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে।

‘আমি দীর্ঘ সময় বিদেশে থেকে স্পেন এবং ইতালির অনেককে বন্ধু বানিয়েছি। তারা আমাকে তাদের দেশের অবস্থা জানিয়েছিল।’ 

শার্লোট ডিডব্লিওকে বলেন, চিন্তা করছিলাম। আমি কোনোভাবেই এটা জার্মানিতে হতে দিতে পারি না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার।

হাইজিন প্রসিডিউরে একটি ক্র্যাশ কোর্সের মাধ্যমে তাকে শেখানো হয়েছিলো যে কীভাবে সুরক্ষামূলক পোশাক পরা যায় এবং কীভাবে সঠিকভাবে হাত জীবাণুমুক্ত করা যায়।

ডাবরালকে পরীক্ষা করা লোকের লক্ষণগুলি রেকর্ড করার পাশাপাশি সেই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পরে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এলোমেলোভাবে নির্বাচিত রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে সহায়তা করবে।

‘কিন্তু আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম।’

বন ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষামূলক ইমিউনোলজিতে পিএইচডি লিখছেন মরিৎস লেউকে। তিনি এখন বন ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের নিবিড় ওয়ার্ডে নার্সদের সহায়তা দিচ্ছেন। যেখানে তারা একটি বিচ্ছিন্ন ঘরে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

২৩ বছর বয়সী মরিৎস ফোনের ও প্রান্ত থেকে বলেন, ‘শুরুতে আমি কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলাম। প্রথমবারের মতো আমার সুরক্ষামূলক কাপড় পরার প্রয়োজন হয়। আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে, আমি সবকিছু সঠিকভাবে রেখেছি কিনা। আমার মুখোশটি ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করে কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। আমি এটি বলব না যে, এটি আমার  রুটিন হয়ে উঠুক। তবে আমি আরও আত্মবিশ্বাসী মনে করি নিজেকে এখন।

মরিৎস তার শিক্ষাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারায় খুবই খুশি ছিলো। তিনি বলেন, ‘সব প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক ছিলো। এছাড়াও আমরা প্রশিক্ষিত ছিলাম।’

তিনি নিজেই ভাইরাস সংক্রমণ করছেন কিনা এই বিষয়টি সম্পর্কে তিনি খুব সচেতন ছিলেন। তবে এই ঘটনা তাকে বিরক্ত করেনি।

তিনি বলেন, ‘আপনি যখন ওষুধ পরীক্ষার জন্য বেছে নিচ্ছেন, তখন আপনি জানেন যে এটি  ঝুঁকির মধ্যে আছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, আপনাকে এখনই বন্ধ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, এখনও বিশৃঙ্খল হয়নি এমন ওয়ার্ডগুলিতে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি সাহায্যের হাতই আমাদের প্রয়োজন।

মরিৎস এবং ডাবরাল হলো জার্মানি জুড়ে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজন মাত্র। মেডিস বনাম কোভিড-১৯ নামের একটা ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে এটা শুরু হয়েছিলো। যেটার বর্তমান সদস্য বিশ হাজারের বেশি। এরপর শিক্ষার্থীরা নিজেরা মিলে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। ওয়েবসাইটে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা জানতে পারে কোন হাসপাতালে এবং কোন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সাহায্যের প্রয়োজন আছে।

অস্ট্রিয়ার একই রকম একটি গ্রুপে প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে। Match4Healthcare নামের অন্য একটি প্লাটফর্ম মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে।

জার্মান হাসপাতাল ফেডারেশন (ডিকেজি) এর ব্যার্ন্ড মেটজিঞ্জার অতিরিক্ত এই সাহায্যে মোটেই অবাক হননি। তিনি বলেন ‘আমি একজন প্রবীণ চিকিৎসক। আমি আমার সহকর্মী এবং তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে ভালোভাবেই জানি। তারা সকলেই অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা সকলেই কোভিড-১৯ রোগীদের সাহায্য করতে চায়। এবং এটি এমন একটি বিষয় যা সবাইকে যুক্ত হতে আগ্রহী করে তুলবে। সত্যি বলতে, আমি এটিই আশা করেছিলাম।

যদিও এই মুহূর্তে হাসপাতালের পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কর্মীরা অতিরিক্ত সাহায্য ছাড়াই নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট পরিচালনা করতে সক্ষম রয়েছেন।

মেটজিঞ্জার বলেন, এটি খুব শীঘ্রই বদলাতে যাচ্ছে। জার্মান হাসপাতাল ফেডারেশনের পরিসংখ্যান অনুসারে, পহেলা এপ্রিল পর্যন্ত জার্মান হাসপাতালে প্রায় ৫৫০০ জন কোভিড-১৯ রোগী ছিল এবং নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে ছিলো ১৫০০ জন।

সূত্র: ডিডব্লিও

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম