করোনা মোকাবিলায় যার দেখানো পথে হাঁটছে বিশ্ব

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ

করোনা মোকাবিলায় যার দেখানো পথে হাঁটছে বিশ্ব

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৭ ৯ মে ২০২০  

ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ

ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ

পাগল, উন্মাদ কিংবা বাড়তি উপদ্রবের স্রষ্টা—কত কিছুই বলা হয়েছিল ইগনাজ স্যামেলওয়াইজকে। অথচ উনিশ শতকে তার দেখানো পথেই এখন হাঁটছে বিশ্ব। বিশেষ করে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তার কথাই উঠে আসছে বারবার।

হয়তো ভাবছেন, উনিশ শতকেই কী এমন করেছেন যে তাকে নিয়ে গুগল ডুডলও করেছে সম্প্রতি! তিনি খুব সহজ একটা কাজ চিকিৎসা বিজ্ঞানে যোগ করেছেন; তা হলো- হাত ধোয়া। যখন জীবাণু সম্পর্কে সামগ্রিক কোনো ধারণা ছিল না, তখনই ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ প্রথম শনাক্ত করেন যে, পরিচ্ছন্নতা হলো জীবন বাঁচানোর উপায়। কিন্তু এই তথ্য প্রতিষ্ঠা করতে তাকে চওড়া মূল্য চোকাতে হয়েছে।

সামান্য হাত ধুতেই তো বলেছেন. এই সময়ে এসেও অনেকে এ কথাটি বলছেন! কিন্তু না, তিনি এর থেকেও বড় কিছু করেছেন, অনেক বড় কিছু! যার মূল্য দিতে হয়েছিল জীবন দিয়ে! সে জন্যই তো তাকে বলা হয়ে থাকে ‘ফাদার অব ইনফেকশন কন্ট্রোল (সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জনক)’ এবং ‘স্যাভিয়ার অফ মাদার্স (মায়েদের ত্রাণকর্তা)’।

উনিশ শতকের হাসপাতালগুলো ছিল সংক্রমণের কেন্দ্র

উনিশ শতকের হাসপাতালগুলো ছিল সংক্রমণের কেন্দ্র। অসুস্থ ও মৃত্যুপথযাত্রীদের সেখানে কেবল সেকেলে চিকিৎসাই দেয়া হতো। তখন প্রকৃতপক্ষে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করাটাকেই মনে করা হতো নিরাপদ। হাসপাতালে চিকিৎসাকালীন মৃত্যুর হার তখন বাসাবাড়িতে রেখে চিকিৎসার তুলনায় ছিল তিন থেকে পাঁচগুণ বেশি। বিশেষ করে সন্তান জন্ম দেয়ার পর মায়েদের মৃত্যুর হার অস্বাভাবিক রকমের বেশি থাকতো। এজন্য স্যামেলওয়াইজ বললেন, গর্ভবতী মায়েদের সংস্পর্শে আসার আগে ডাক্তার ও মেডিকেল কর্মীরা অন্য রোগীদের কাছ থেকে এমন জীবাণুই বহন করে আনছেন, যা সেই মায়েদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

হাঙ্গেরিয়ান এই চিকিৎসক ১৮৪০ সালে ভিয়েনাতে, মেটার্নিটি ওয়ার্ডগুলোতে মৃত্যুহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে হাত ধোয়ার প্রচলন করার উদ্যোগ নেন। এটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ব্যর্থ একটি উদ্যোগ! কারণ তিনি সহকর্মীদের দ্বারা অসহযোগিতার শিকার হয়েছিলেন।

শুধু মাত্র তার ডাক্তারদের হাত ধুইয়ে গর্ভকালীন মৃত্যুর হার ১০ থেকে ১ শতাংশে নামিয়ে ফেললেন ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ। কী ভাবছেন, তাকে খুব সম্মান দেয়া হয়েছে তারপর? ভূষিত করা হয়েছে কোন হায়েস্ট অনারে? না, বরং তাকে পাঠানো হয় মেন্টাল অ্যাসাইলামে! অপরাধ? তিনি মরিয়া হয়ে ডাক্তারদের চিঠি লিখতে শুরু করেছিলেন যেন তারা হাত ধুয়ে কাজ করেন। এতে জীবন বাঁচবে। কিন্তু সবাই তাকে পাগল মনে করেছিল। অ্যাসাইলামে পাঠানোর দুই সপ্তাহে মাথায় গার্ডদের বেধড়ক পিটুনির শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই চিকিৎসক। তখন তার বয়স ছিল ৪৭ বছর।

ইগনাজ স্যামেলওয়াইজের কাছে হাত ধোয়া ছিল ক্রুসেডের মত

ইগনাজ স্যামেলওয়াইজের কাছে হাত ধোয়া ছিল ক্রুসেডের মত। আজ আমরাও খাওয়ার আগে হাত ধুতে বলি, এই কথা বলতেই তিনি পাগল প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনকি তার শেষকৃত্যে আসেন মাত্র তিন-চারজন। তার মৃত্যুর কথা হাংগেরিয়ান মেডিক্যাল সোসাইটি প্রকাশও করেনি তাদের খবরের কাগজে। অথচ তাকে আজ এন্টিসেপসিসের পাইওনিয়ার বলা হয়।

ইগনাজ স্যামেলওয়াইজের দেখানো পথই আজ বিশ্বজুড়ে অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে। এই সময়ে ইগনাজ স্যামেলওয়াইজকে আরো একবার শ্রদ্ধা জানানোই যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে