করোনা মোকাবিলায় এক হতে হবে চীন-যুক্তরাষ্ট্রকে

ঢাকা, সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৭,   ১০ সফর ১৪৪২

করোনা মোকাবিলায় এক হতে হবে চীন-যুক্তরাষ্ট্রকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩০ ৬ আগস্ট ২০২০  

ছবি: ওয়াং ই

ছবি: ওয়াং ই

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দ্বন্দ ভুলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের একসঙ্গে কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই।

বুধবার চীনের সংবাদ মাধ্যম সিনহুয়াকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে একথা বলেন তিনি।

ওয়াং ই বলেন, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির শক্তির বিচারে চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশাল দেশ, আমি মনে করি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় এই দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত। বৈরিতা থেকে সরে সুসম্পর্ক নিয়ে এগিয়ে আসতে এবং বিশ্বের প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা আছে তা পালন করতে হবে।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান চীন আগের সোভিয়েত ইউনিয়ন নয় এবং আরেকটি যুক্তরাষ্ট্র হওয়ার ইচ্ছাও তাদের নেই। চীন কোন ‘ধারণা’ রপ্তানি করে না আবার কোন দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়েও নাক গলায় না।

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ওয়াং ই বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এই মানসিকতা দুই দেশের বিগত দিনের যৌথ অর্জনকে প্রশ্নের মুখেও ফেলেছে। একে ‘রাজনৈতিক ভাইরাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ওয়াং।

অপর এক প্রশ্নে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন-মার্কিন সুসম্পর্ক কোন একটি দেশের ওপর নির্ভর করে না। এটা এমন নয় যে একপক্ষ সুবিধা নিবে আরেক পক্ষ তা নিতে পারবে না। সুসম্পর্ক দুই দেশকেই সুবিধা দিবে, তা না হলে দুই দেশই বঞ্চিত হবে।

এসময় পরিসংখ্যান তুলে ধরে ওয়াং ই জানান, চীন-মার্কিক যৌথ বাণিজ্য ২৬ লাখ মার্কিনীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। চীনের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিটি মার্কিন পরিবারে প্রতিবছর ৮৫০ মার্কিন ডলার সাশ্রয় করে দেয়। চীনে প্রায় ৭০ হাজার মার্কিনীর ব্যবসা-বিনিয়োগ রয়েছে। যেগুলোর ৯৭ শতাংশই লাভজনক। এই যে দুই দেশের দ্বান্দ্বিক অবস্থান এবং করোনা মহামারিতে সৃষ্ট মন্দার মধ্যেও এসব মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চীনে তাদের বাণিজ্য চালিয়ে যেতে চায়।

ওয়াং ই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করে বলেন, বিশ্বায়ন আর মুক্ত বাণিজ্য উন্নয়নের সুবিধা সকলের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু আমেরিকা সে পথে হাঁটে না। তারা অন্য দেশের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরিতে পটু, ভিন দেশের আর্থিক কাঠামো ভেঙে ফেলতে বেশ ওস্তাদ তারা। এটা আসলে সেই অসুস্থ ব্যক্তির মতো যে তার নিজের অসুস্থা সারাতে অন্যকে জোর করে ওষুধ খাওয়াতে চায়। মার্কিন প্রশাসনের এধনের আচরণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সেদেশের জনগণকে মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে ফেলে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী