করোনা ভেবে মরদেহ ফেলে দিল তিস্তায়, উদ্ধার করল পুলিশ

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনা ভেবে মরদেহ ফেলে দিল তিস্তায়, উদ্ধার করল পুলিশ

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০০:২৭ ২৬ মে ২০২০  

পুলিশের সহায়তায় নিজ গ্রামে মৌসুমীকে দাফন করা হয়

পুলিশের সহায়তায় নিজ গ্রামে মৌসুমীকে দাফন করা হয়

পারিবারিক কবরস্থানে মেয়ের দাফন হবে না; এজন্য অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে দাফনের চুক্তি করেন বাবা। চুক্তি অনুযায়ী টাকাও দেয়া হয়। কিন্তু দাফন না করেই মেয়ের মরদেহ তিস্তা নদীতে ফেলে দেন চালক। দুইদিন পর মরদেহ নদীতে ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের দায়িত্বে দাফন করে।

ঘটনাটি ঘটেছে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউপির গুচ্ছগ্রামে। সোমবার বিকেলে জানাজা শেষে নিজ গ্রামে দাফন করে আদিতমারী ও পাটগ্রাম থানা পুলিশ।

মৃত মৌসুমী আক্তার গুচ্ছগ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে। তিনি গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ছয় মাস আগে একই উপজেলার বাউড়া ইউপির সরকারের হাট এলাকার মিজানুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

স্বজনরা জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে একাই গাজীপুরে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন মৌসুমী। ২১ মে অসুস্থতা বোধ করলে ট্রাকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। রংপুরের তাজহাট এলাকায় পৌঁছালে মৃত দেখে তাকে ফেলে পালিয়ে যান ট্রাকচালক। পরে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় তাজহাট থানা পুলিশ।

২২ মে খবর পেয়ে তাজহাট থানায় গিয়ে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন বাবা গোলাম মোস্তফা। মরদেহ বুঝে নিয়ে বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নিসাদকে মোবাইলে বিষয়টি জানিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের অনুমতি চান। কিন্তু চেয়ারম্যান ওই মরদেহসহ পুরো বাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ মৃতের বাবার।

উপায় না পেয়ে মেয়ের মরদেহ দাফন করতে তাজহাট এলাকার এক অ্যাম্বুলেন্স চালককে পাঁচ হাজার টাকা দেন মোস্তফা। মরদেহ দাফনের আশ্বাস দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে মরদেহটি তিস্তা নদীতে ফেলে দেন চালক। ২৪ মে রাতে উপজেলার মহিষখোচা ইউপির গোবর্দ্ধন গ্রামে তিস্তা নদী থেকে অজ্ঞাত মরদেহটি উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ। সোমবার ঈদের নামাজ শেষে আদিতমারী থানা পুলিশ মরদেহটির জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিতেই পরিচয় শনাক্ত করেন মৃতের বাবা গোলাম মোস্তফা। অবশেষে আদিতমারী ও পাটগ্রাম থানা পুলিশের সহায়তায় নিজ গ্রামে মৌসুমীকে দাফন করা হয়।

মৃতের বাবা গোলাম মোস্তফা বলেন, অনেক আকুতি-মিনতি করলেও মরদেহ গ্রামে নিতে দেননি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নিসাদ। বাধ্য হয়ে দাফন করতে একজন চালককে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। তারাও দাফন না করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। অবশেষে আবারো মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করতে হলো আদিতমারী থানায়।

এ ব্যাপারে বুড়িমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নিসাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও ধরেননি।

আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মৃতের পরিচয় জানার পরে মেয়ের বাবার আকুতি শুনে লালমনিরহাটের এসপির নির্দেশে দুই থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মরদেহ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন মোহন্ত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর