করোনা: ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর পক্ষে-বিপক্ষে মত

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনা: ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর পক্ষে-বিপক্ষে মত

আহমেদ তানভীর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৮ ১ মে ২০২০   আপডেট: ১৫:০৯ ১ মে ২০২০

হাইকোর্ট

হাইকোর্ট

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে দেশের সব আদালত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এ সময়ে মানুষের নাগরিক অধিকার, কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির জন্য ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনজীবীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সময় পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরইমধ্যে ভার্চুয়াল আদালত গঠন করে বিচার ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।

তবে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করে, দেশে ভার্চুয়াল কোর্টের পূর্ববর্তী কোন ধারণা নেই। মহামারি প্রাদুর্ভাবের সময় এটা চালু করা কতটা জরুরি সেটা গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।

আইনজীবীদের কয়েকটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে আদালত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। তাই এ বিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তি জারিও করেছিল কোর্ট প্রশাসন। এতে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্ট এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে সব অধিক্ষেত্রের অতি জরুরি বিষয়গুলো কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তবে সীমিত পরিসরে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলেও করোনার ঝুঁকি থেকে যায়, যা অনুধাবন করতে পেরে আইনজীবীদের একাংশ কোর্ট খোলার বিপক্ষে যুক্তি দেখান।

কোর্ট খোলার পক্ষে-বিপক্ষে আইনজীবীদের এসব মতামত প্রধান বিচারপতির দফতর পর্যন্ত পৌঁছায়। আইনজীবীরা কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে কোর্ট বন্ধ করতে প্রধান বিচারপতিকে লিখিত আবেদন জানান।

পাশাপাশি কয়েকটি আবেদনে প্রধান বিচারপতিকে ভার্চুয়াল কোর্ট পদ্ধতি চালু করতেও অনুরোধ জানান আইনজীবীরা। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অন্তত একটি কোর্ট অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনা করতে সর্বপ্রথম প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন মানবাধিকার সংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের (সিসিবি ফাউন্ডেশন) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম ও সংগঠনের পরিচালক অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। এরপর বিভিন্নভাবে আরো বেশকিছু আইনজীবী অনলাইনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার বিষয়ে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, সংবিধানে দেশের নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই স্বল্প পরিসরে হলেও কোর্ট খোলা রাখা জরুরি। তবে করোনা পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় রাখতে হবে। সেজন্য করোনাকালীন সময়ের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে এক বা একাধিক ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা হওয়া দরকার। ভার্চুয়াল কোর্ট নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ রয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে সীমিত পরিসরে কোর্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় বসে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্যরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যোগ দেন। ওই সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান কমিটি মনে করে, প্রচলিত পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনা করা হলে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা ছাড়াও বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এরইমধ্যে করোনা পরিস্থিতিও খারাপের দিকে যাচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই দৈহিক উপস্থিতি ছাড়া জরুরি বিষয়গুলো শুনানির সহজগম্য ভার্চুয়াল কোর্ট ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে কমিটি অভিমত ব্যক্ত করে।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হটাৎ করেই ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা যাবে না। ভার্চুয়াল কোর্টে একজন বিচারক থাকবেন, তারসঙ্গে অন্যান্য স্টাফরাও থাকবেন। তাই এটা চালু করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে ভার্চুয়াল কোর্টের পূর্ববর্তী কোন ধারণা নেই। বিচার ব্যবস্থায় এ পদ্ধতি সংযুক্ত করতে হবে। দেশের এই মহামারি প্রাদুর্ভাবের সময় এটা চালু করা কতটা জরুরি সেটা গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিনউদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল কোর্ট গঠন সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে সাধারণ আইনজীবীদের যেন এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয় এবং তারা যেন এটা ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে বিচারপ্রার্থীরা লাভবান হবেন। সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগের পাশাপাশি নিম্ন আদালতও এই অনলাইন বিচার ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস