করোনা থেকে বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা জানালেন ২১ বছরের শিক্ষার্থী

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

করোনা থেকে বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতা জানালেন ২১ বছরের শিক্ষার্থী

আরাফাত হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৫৬ ২১ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৫:১১ ২১ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠেছেন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠেছেন

এই শিক্ষার্থী বয়স ২১ বছর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠেছেন। তার ছদ্মনাম লাইকে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন করোনা আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার কথা। 

গত ৯ মার্চ সোমবার অসুস্থ অনুভব করি। ঘাম হচ্ছিলো। খেয়াল করলাম সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় অস্বাভাবিক লাগছিলো। খুব ঠান্ডা অনুভব হচ্ছিলো। সঙ্গে সঙ্গে এলার্মের ঘণ্টার মতো মনে হলো, এতোদিন উত্তর ইতালিতে শীতকালীন ক্রীড়া অবসরে ছিলাম। এই জন্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয় ছিলো। এরপর ছাত্রাবাসে ফিরে আসি। রেজিস্ট্রেশন ক্যানসেল করার জন্য অনুরোধ করি। মনে হয়েছে বিছানায় মারা যাওয়ার মতো অসুস্থ হইনি, সম্ভবত ভালো হয়ে যাবো।

একদিন পরও সমস্যাগুলো আগের মতোই ছিলো। ডাক্তার জিজিডিতে যেতে বলেন, কারণ তখনও হালকা জ্বর ছিলো। সন্ধ্যায় দুজন ডাক্তার এসে পরীক্ষা করেছেন। একজন ডাক্তার বললেন, আশা করছি আপনাকে করোনাভাইরাস আক্রমণ করেনি। নিরাপত্তার জন্য আমরা পরীক্ষা করছি।

১১ মার্চ বুধবার মনে হয়েছে সমস্যাগুলো আর নেই। চিন্তা  করলাম, এতোদিন মনে হচ্ছে একটু বাড়িয়েই ভেবেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিকেলে জিজিডি রিপোর্টে বলা হয় তার নাকে ও গলায় ভাইরাসটি পাওয়া গেছে। এরপর তাকে বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়। সবাই যোগাযোগ করতে শুরু করে। সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে খবর বেরোয় যে গ্রোনিঞ্জেন করোনায় আক্রান্ত প্রথম দুজনের মধ্যে একজন এই লাইকে।

জিজিডি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও অসুস্থ কাউকে পাওয়া যায়নি। এজন্যই শুক্রবার লাইকেকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয়েছিলো। 

লাইকে বলেন, এটা খুবই অপ্রীতিকর মনে হয়েছিলো। এখনও কোনো কারো কাছে যাওয়ার সাহস পাই না। বাবা আমাকে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। এখনো তারা আমার সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলেন।  

লাইকে আরো বলেন, জিজিডি কেয়ার কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। করোনা আমার শরীরে মারাত্নক আকার ধারণ করেনি। চাইলে করোনা চুপিচুপি সবাইকে আক্রমণ করতে পারে। আসুন আমরা আমাদের মাঝে দুর্বল এবং বৃদ্ধদের যত্ন নেই। বাঁচার জন্য আরআইভিএমের পরামর্শ মেনে চলি।

গ্লোবাল ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্স (জিআইসি) জানায়, গত ১১ মার্চ বুধবার নেদারল্যান্ডের গ্রোনিঞ্জেন প্রদেশে দুজন করোনা আক্রান্ত দুজন রোগী পাওয়া যায়। একজন লাইকে ছিলেন। আরেকজন ইতালি ছুটি কাটিয়ে ফিরেছেন। 

সূত্র: দ্যা নর্দান টাইমস

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম