করোনা থেকে বাঁচতে কুনুতে নাজেলার আমল 

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২২ ১৪২৬,   ১১ শা'বান ১৪৪১

Akash

করোনা থেকে বাঁচতে কুনুতে নাজেলার আমল 

হাবীবুল্লাহ সিরাজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:২১ ২৩ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৪:২৫ ২৩ মার্চ ২০২০

হে আল্লাহ! হেদায়েত কর আমায়, যাদের তুমি হেদায়েত করেছ তাদের সাথে। শান্তি-স্বস্তি দান করো আমায়, যাদের তুমি শান্তি স্বস্তি দান করেছ।

হে আল্লাহ! হেদায়েত কর আমায়, যাদের তুমি হেদায়েত করেছ তাদের সাথে। শান্তি-স্বস্তি দান করো আমায়, যাদের তুমি শান্তি স্বস্তি দান করেছ।

বর্তমান দুনিয়াতে করোনাভাইরাস একটি জীবন্ত মহামারিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এরইমধ্যে নভেল করোনাভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে মানুষ কতটা অসহায় আরেকবার এই পৃথিবী দেখলো। এই অসহায় সময়ে মহামারি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। তাওবাহ ইস্তেগফার জিকির আজকারেই মহামারি থেকে পরিত্রাণ মিলবে। নববী যুগেও যদি কোনো বিশাল বালামুসিবত আসতো তখন মানুষ তওবা বাড়িয়ে দিতো, আল্লাহ আল্লাহ জিকির বাড়িয়ে দিতো।

এই সময় আমাদেরও উচিৎ সাহাবিদের মতো আল্লাহমুখী হওয়া। তওবা ইস্তেগফারসহ আরো যত রোগমুক্তির আমল আছে বাড়িয়ে দেয়া। মুসলমানদের ওপর যখন কোনো বড় বালামুসিবত আসে তখন দোয়া, তওবা, ইস্তেগফারের সঙ্গে কুনুতে নাজেলা পড়ার কথাও হাদিস শরিফে এসেছে।

কুনুতে নাজেলা হলো নামাজের ভেতরের দোয়া। নামাজের ভেতরে দুই ধরণের দোয়া আছে একটি কুনুতে নাজেলা অন্যটি কুনুতে রাতেবা।

একটি হলো সবসময় নামাজের অজিফা হিসেবে পড়া, যাকে কুনুতে রাতেবা বলা হয়। আর অপর হলো কখনো কখনো প্রচন্ড বিপদ মহামারি ও ব্যাপক দুর্যোগকালে নামাজে একধরনের কুনুত পড়া, যাকে কুনুতে নাজেলা বলা হয়। এই দু ধরনের কুনুতের ব্যাপারে ইমামদের মতবিরোধ রয়েছে।
হজরত ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় সব সময় নামাজের অজিফা হিসেবে ফজরের নামাজে আর রমজান মাসের শেষ অর্ধেকে বিতের নামাজে কুনুতে রাতেবা পড়া হবে। আর প্রচন্ড দুর্যোগ মহামারি ও অন্য কোনো বৈশ্বিক কারণে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে কুনুতে নাজেলা পড়া হবে। আবার দুর্যোগ শেষ হয়ে গেলে তা বর্জন করে দেবে।

কুনুতে নাজেলা পড়ার নিয়ম-

কুনুতে নাজেলা পড়ার নিয়ম হলো নামাজের শেষ রাকাতে রুকু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে কুনুতে নাজেলা পাঠ করতে হবে; এরপর সিজদায় যেতে হবে। রুকু থেকে উঠে রাব্বানা লাকাল হামদ বলার পর তাকবির দিতে হবে না সরাসরি দোয়া শুরু করবে। রুকুর সময় হাত তুলবেন কি তুলবেন না তা আপনার মাজহাবের ওপর নির্ভর করে।

কুনুতে নাজেলার নির্দিষ্ট কোনো দদোয়া নেই। ইসলামে বিভিন্ন দোয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন,

اللَّهُمَّ اهْدِنَا فِيمَنْ هَدَيْتَ ، وَعَافِنَا فِيمَنْ عَافَيْتَ ، وَتَوَلَّنَا فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ ، وَبَارِكْ لَنَا فِيمَا أَعْطَيْتَ ، وَقِنَا شَرَّ مَا قَضَيْتَ ، إِنَّكَ تَقْضِى وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ ، إِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا ، وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ ، وَأَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ ، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِهِمْ ، وَانْصُرْهُمْ عَلَى عَدُوِّكَ وَعَدُوِّهِمْ ، اللَّهُمَّ الْعَنْ كَفَرَةَ أَهْلِ الْكِتَابِ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ ، وَيُكَذِّبُونَ رُسُلَكَ ، وَيُقَاتِلُونَ أَوْلِيَاءَكَ اللَّهُمَّ خَالِفْ بَيْنَ كَلِمَتِهِمَ ، وَزَلْزِلْ أَقْدَامَهُمْ ، وَأَنْزِلْ بِهِمْ بَأْسَكَ الَّذِى لاَ تَرُدُّهُ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُثْنِى عَلَيْكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ ، وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ ، وَلَكَ نُصَلِّى وَنَسْجُدُ ، وَلَكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ ، نَخْشَى عَذَابَكَ الْجَدَّ ، وَنَرْجُو رَحْمَتَكَ ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكَافِرِينَ مُلْحَقٌ.

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাহদিনা ফিমান হাদাইতা, ওয়া আফিনা ফিমান আফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানা ফিমান তাওয়াল্লাইতা ওয়া বারিকলানা ফিমা আত্বাইতা, ওয়া ক্বিনা সাররি মা ক্বাদাইতা, ইন্নাকা তাক্বদি ওয়া লা ইউক্বদা আলাইকা, ইন্নাহু লা ইয়াজিল্লু মান ওয়ালাইতা ওয়ালা ইয়াইজ্জুমান আদাইতা তাবারাকতা রাব্বানা ওয়াতাআলাইতা।’ ‘আল্লাহুম্মাগফিরলানা, ওয়া লিলমুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাতি, ওয়া আল্লিফ বাইনা কুলুবিহিম, ওয়া আসলিহ জাতা বাইনিহিম, ওয়াংচুরহুম আলা আদুয়্যিকা ওয়া আদুয়্যিহিম। আল্লাহুম্মালআন কাফারাতা আহলিল কিতাবিল্লাজিনা ইয়াচুদ্দুনা আন সাবিলিকা, ওয়া ইউকাজ্জিবুনা রুসুলাকা, ওয়া ইউক্বাতিলুনা আওলিয়াআকা আল্লাহুম্মাখলিফ বাইনা কালিমাতিহিমা, ওয়া যালযিল আক্বদামাহুম, ওয়া আংযিল বিহিম বাসাকাল্লাজি লা তারুদ্দুহু আনিল ক্বাওমিল মুঝরিমিনা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমি আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা ওয়ানাসতাগফিরুকা ওয়া নুছনি আলাইকা ওয়া লা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাইয়্যাফঝুরুকা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমি আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা নাবুদু, ওয়া লাকা নুসাল্লি ওয়া নাসঝুদু, ওয়া লাকা নাসআ ওয়া নাহফিদু, নাখশা আজাবাকাল ঝাদ্দা, ওয়া নারঝু রাহমাতাকা, ইন্না আজাবাকা বিলকাফিরিয়না মুলহাক্ব।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! হেদায়েত কর আমায়, যাদের তুমি হেদায়েত করেছ তাদের সাথে। শান্তি-স্বস্তি দান করো আমায়, যাদের তুমি শান্তি স্বস্তি দান করেছ তাদের সাথে। অভিভাবকত্ব গ্রহণ করো আমার, যাদের তুমি অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছ তাদের সাথে। বরকত দান করো আমায়, যা তুমি দান করেছ আমায় তাতে এবং রক্ষা করো আমায় পর অনিষ্ট হতে, যা তুমি নির্ধারণ করেছ (আমার জন্য)। কেননা তুমি নির্দেশ দান করো, তোমার ওপর নির্দেশদান করা চলে না। বস্তুত সে ব্যক্তি অপমানিত হয় না যাকে তুমি মিত্র ভেবেছ। আর সম্মানিত হয় না সেই ব্যক্তি, যাকে তুমি শত্রু ভেবেছ। বরকতময় তুমি হে আমাদের প্রতিপালক আর তুমিই সুউচ্চ। আমরা তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তোমার দিকে রুজু হই। হে আল্লাহ! ক্ষমা করো আমাদেরকে এবং মুমিন নর ও মুমিন নারীদেরকে আর মুসলমান নর ও মুসলমান নারীদেরকে তাদের অন্তরসমূহ জুড়িয়ে দাও আর তাদের মাঝে মীমাংসা করে দাও। সাহায্য করো তাদেরকে তোমার শত্রু ও তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে। হে আল্লাহ! লানত বর্ষণ করো কাফেরদের প্রতি, যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তোমার পথে এবং অস্বীকার করে তোমার রাসূলদেরকে আর যুদ্ধবিগ্রহ করে তোমার অলিদের সঙ্গে। হে আল্লাহ! বিভেদ সৃষ্টি করে দাও তাদের কথার মাঝে এবং কম্পন সৃষ্টি করে দাও তাদের পদযুগলে আর নাজিল করো তোমার এমন শাস্তি যা তুমি অপরাধীদের থেকে অপসারণ করো না।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে/জেডআর