করোনা ঠেকাতে সুইডেনের ‘ব্যতিক্রমী’ ব্যবস্থা

ঢাকা, রোববার   ০৭ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনা ঠেকাতে সুইডেনের ‘ব্যতিক্রমী’ ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০১ ৩০ মার্চ ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বর্তমানে বিশ্বে এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। আর এ ভাইরাস প্রতিনিয়তই কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। তাই প্রতিটা দেশের সরকারই নিজের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য নতুন নতুন নিয়ম বের করছে। তবে এ থেকে ব্যতিক্রমি ব্যবস্থ নিলো সুইডেন। 

ইউরোপের অনেক দেশ যেখানে করোনা ঠেকাতে লকডাউন পন্থা অবলম্বন করছে সেখানে সুইডিশ সরকার হাটলো বিপরীত পায়ে। তারা লকডাউন না করে বরং দেশের জনগণকে সচেতন করছেন। যা দেশটির জনগনের স্বাভাবিক জীবনের অনেক কাছাকাছি। 

ইউরোপের এই দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রামিত হয়েছে এবং মারা গেছেন ১০৫ জন। এ সপ্তাহে শহরের নাইটক্লাবগুলোও খোলা ছিল। তবে রোববার থেকে ৫০ জনের বেশি লোক জড় হওয়া নিষিদ্ধ হয়েছে। অবশ্য এটা বলতেই হবে শহরগুলো কেমন যেন শীতল, লোকজনের হৈচৈ আর ব্যস্ততা বেশ কম।

শহরের গণপরিবহন কোম্পানি এসএল বলছে, ট্রেন আর সাবওয়েতে লোকজন কমে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। শহরের প্রায় অর্ধেক লোক ঘরে বসে কাজ করছে। সুইডেনের কর্মক্ষম জনশক্তি প্রযুক্তির ব্যয়ভার এবং বাড়িতে বসে রিমোট-ওয়ার্কিং করতে অভ্যস্ত।

ব্যবসা-সংক্রান্ত একটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এসবিআর-এর প্রধান নির্বাহী স্টাফান ইংভারসন বলছেন, যে কোম্পানিরই এটা করার ক্ষমতা আছে, তারা এটা করছে, এবং তাতে কাজও হচ্ছে। আসলে এটাই হচ্ছে সুইডেনের সরকারি স্ট্রাটেজির মূল কথা - নিজের দায়িত্ববোধ।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আশা করছে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ না করেও এভাবেই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা যাবে। কঠোর নিয়ম-কানুন না করে এখানে দেয়া হচ্ছে নির্দেশিকা। যেমন-অসুস্থ বা বয়স্ক হলে ঘরে থাকা, বারবার হাত ধোয়া, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করা, বাড়িতে বসে কাজ করা।

প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লফভেন এক টিভি ভাষণে বলেছেন, বড়দের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আতঙ্ক সৃষ্টি করবেন না এবং গুজব ছড়াবেন না। এ সংকটে কেউ একা নয়, সবারই বড় দায়িত্ব আছে।

সুইডিস সরকারের ওপর সেখানকার জনগণের আস্থা অনেক বেশি। ফলে তারা নিজে থেকেই নির্দেশাবলী মেনে চলে। জনসংখ্যার একটি বৈশিষ্ট্যও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলোয় একটি বাড়িতে কয়েক প্রজন্মের লোক বাস করেন। কিন্তু সুইডিশ বাড়ির অর্ধেকেই লোক থাকেন মাত্র একজন। এর ফলে পুরো পরিবারে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক কম।

তা ছাড়া সুইডিশরা বাড়ির বাইরের জীবন ভালোবাসে এবং লোকের শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখাটাকে সরকারি কর্মকর্তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দেন।

করোনাভাইরাস বিস্তারের কারণে বিভিন্ন ব্যবসা সংকটে পড়েছে। ফলে অনেকে বলছেন, সুইডেনকে কৌশল পরিবর্তন করতে হবে, অন্য ইউরোপীয় দেশের মতই লকডাউন আরোপ করতে হবে। এমা ফ্রানজের ভাষায়, ইউরোপের রাজনীতিবিদ ও বিজ্ঞানীরা সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন কীনা তা ইতিহাসই বিচার করবে। কোন পদক্ষেপ যে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে তা কেউই জানে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস