চট্টগ্রামে করোনায় মৃত বাবার কপালে ৭ বছরের শিশুর শেষ পরশ

ঢাকা, শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ২০ ১৪২৭,   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

চট্টগ্রামে করোনায় মৃত বাবার কপালে ৭ বছরের শিশুর শেষ পরশ

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫৮ ২২ মে ২০২০   আপডেট: ১২:২৮ ২২ মে ২০২০

করোনায় মৃত বাবার কপালে শিশু সন্তানের শেষ পরশ। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

করোনায় মৃত বাবার কপালে শিশু সন্তানের শেষ পরশ। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

মহামারি করোনাভাইরাস একে একে জন্ম দিচ্ছে নানান ধরনের দৃশ্য। যেমন- এ ভাইরাসের কারণে ছিন্ন পরিবার কিংবা মাকে রাস্তায় ফেলে আসতেও বুক কাঁপছেনা অনেকেরই। এবার আরেকটি হৃদয়বিদারক দৃশ্য ধরা পড়লো চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের লাশ মূলত দাফন করা হয় সরকারি ব্যবস্থাপনায়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের কেউই এগিয়ে আসে না। কিন্তু চট্টগ্রামে করোনায় মারা যাওয়া বাবাকে অনেকটা লুকিয়েই শেষ বিদায় দিতে এসেছিল তার সাত বছরের একমাত্র সন্তান। প্রাণহীন বাবার কপালে আর দু’গালে শেষবারের মতো আদরের পরশ বুলিয়ে দিয়ে যায় সে।

শুক্রবার সকালে এমনই একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন চিকিৎসক বিদ্যুৎ বড়ুয়া। এরপরই সেটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওর সঙ্গে চিকিৎসক বিদ্যুৎ বড়ুয়া যা লিখেছেন, তা হুবহু প্রকাশ করা হলো-

গত ২০ মে তিনি ৪০ বছরের রোগী জীবনের শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে। তাকে প্রথম দেখাতেই বুঝতে পেরেছিলাম, তার জীবনের সময় ফুরিয়ে এসেছে। তবুও আমরা আমাদের সামর্থ্য নিয়ে চেষ্টা করেছিলাম রোগীকে বাঁচাতে। রোগীর অভিভাবকও বুঝতে পেরেছিলেন  পরিণতি। টেস্ট হয়নি, কিন্তু করোনাভাইরাসের সব লক্ষণ তার মধ্যে আছে। অবশেষে মারাও গেলেন সাড়ে ১৩ ঘণ্টা পর। রোগীর অভিভাবক হিসেবে সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী। তাকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, তাদের ৭ বছরের একটি সন্তান আছে। সাধারণত করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে সিভিল সার্জন অফিসে জানাতে হয়। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দ্রুত দাফন করা হয়।

মৃত ব্যক্তিকে দেখার সুযোগ কিন্তু আত্মীয় স্বজনের হয় না। আমি মৃত রোগীর স্ত্রীকে বললাম, আপনাদের সন্তান তার বাবাকে দেখবে না? উত্তরে বলেন, বাসায় কেউ নেই আর কীভাবে আসবে? সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেলে কিন্তু সন্তান বাবাকে দেখতে পারবে না। আমি বললাম- আপনি বাসায় গিয়ে আপনাদের সন্তানকে আমাদের হাসপাতালের গাড়ি করে নিয়ে আসেন।

তাই হলো। মা তার সন্তানকে কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের গাড়িতে করে নিয়ে আসলো। বাবা তার সন্তানের শেষ স্পর্শ পেল। (তাদের সন্তানের সঙ্গে আলাপে তার বাবা সন্তানের অনেক কিছু জানা হলো। কষ্ট হলো অনেক ৭ বছরের সন্তান তার বাবা কে হারালো)

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে