করোনায় বিপন্ন হতে পারে ইইউ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনায় বিপন্ন হতে পারে ইইউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৩ ৩০ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৪:০০ ৩০ মার্চ ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে রেখেছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপেও। করোনার প্রভাবে ভবিষ্যতে আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর ধ্বংসাত্মক প্রভাবের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন  ইউরোপের কর্মকর্তারা।

করোনা মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যদি কোনো ধরণের ভুল করে তবে ইইউ’র অস্তিত্ব বিপন্ন হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেফ কোঁতে ।

করোনায় যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম করোনা আক্রান্তের দেশ হচ্ছে ইতালি। করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকেও ছাড়িয়েছে ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্র। এরইমধ্যে ইতালির প্রায় ৯২ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে করোনায়।

গত কয়েক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইইউ’র দেশগুলো স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। সেখানকার অবস্থা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি পৃথক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে  ইইউ’র সদস্য দেশগুলো। এ পরিস্থিতি আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে  ইউরোপের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

করোনা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাকোও। এছাড়া করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সব দেশ যদি পরস্পরকে সহযোগিতা না করে তবে ইইউ’র মূল ভিত্তি অর্থাৎ ইইউর দেশগুলোতে অবাধ ভ্রমণের জন্য প্রচলিত 'শেঙ্গেন ভিসা' পদ্ধতিটির বিলুপ্তি ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলার পাশাপাশি ইইউ’র সদস্য দেশগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি করেছে করোনা। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালি ও স্পেন। এ ক্ষেত্রে সহায়তা না করার কারণে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তীব্র সমালোচনা করেছে ওই দুই দেশ।

ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশ করোনা প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরক্ষা সামগ্রী অন্য কোনো দেশে রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দেশের অভ্যন্তরে কোনো সরঞ্জামের যাতে ঘাটতি দেখা না দেয় তাই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের এ নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে মারাত্মকভাবে করোনায় বিপর্যস্ত দেশগুলো।

এ ব্যাপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার প্রভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যকার দূরত্ব ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এছাড়া বিপর্যয় রোধে এ দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেয়া এক ভাষণে করোনা প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ করার জন্য ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে আমাদের সবারই অভিন্ন দায়-দায়িত্ব রয়েছে। কারণ কোনো দেশের একার পক্ষে এ ভাইরাস মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

সূত্র: পার্সটুডে

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ/টিআরএইচ