করোনায় কাঁপছে বিশ্ব, ফায়দা লুটছে চীন

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৭,   ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনায় কাঁপছে বিশ্ব, ফায়দা লুটছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৫ ৩০ মার্চ ২০২০   আপডেট: ২০:৫০ ৩১ মার্চ ২০২০

চীনের কাজে ছুটছে মানুষ

চীনের কাজে ছুটছে মানুষ

সর্বনাশা করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। ভাইরাসটির টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে বিশ্বের বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীদের ঘুম হারাম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, কানাডাসহ চিকিৎসা বিজ্ঞানে উন্নত দেশগুলো করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। এরইমধ্যে করোনার সংক্রমণে ৩৯ হাজার ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমিত হয়েছেন আট লাখ চার হাজার ৭৩ জন। কিন্তু চীনে ভাইরাসটিতে মৃত বা সংক্রমণের সংখ্যা নেমে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বানিয়ে রাতারাতি অথনৈতিকভাবে ফায়দা লুটছে দেশটি।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত লোক শনাক্ত হয়। কিন্তু এর আগে করোনাভাইরাসের আক্রমণের বিষয়টি বিশ্ব মিডিয়া তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ মড়কের মতো মারা যেতেই থাকেন। ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, স্পেন, জার্মান, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু ভাইরাসটিকে নানা প্রতিরোধ দিয়ে মোকাবিলার কথা জানিয়েছে বেইজিং।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ব্যবহৃত মেডিকেল সার্জিকেল মাস্ক তৈরিতে ব্যস্ত চীনা কর্মীরা

বিশ্বে এখনো করোনাভাইরাসের টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন। একমাত্র সুরক্ষা ছাড়া ভাইরাস মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই সুরক্ষা সরঞ্জাম, মাস্ক, গ্লাভস অর্থ্যাৎ পিপিই উৎপাদনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে চীন। বিশ্বের অনেক দেশে পিপিই পাঠিয়ে হাজার হাজার ডলার পুঞ্জিভূত করছে দেশটি। তারা বিশ্বব্যাপী পিপিই সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্ব যখন বিপদে, তখন দেদারছে ব্যবসা করছে চীন।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ব্যবহৃত পিপিই প্রস্তুতে ব্যস্ত চীনা কর্মীরা

পিপিই-এর ব্যবসা করে অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী হচ্ছে চীন। আর অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্সে অর্থনৈতিক ধস নামছে। অর্থনৈতিক কৌশলের জন্যই হয়তো চীন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছে। তবে ভাইরাস ছড়ানোর গুঞ্জনটির সত্যতা এখনো পাওয়া যায়নি। 

চীনের তথ্যানুযায়ী, দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে দুই কোটি ১৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এর মধ্যে ৫৬৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তার মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়। সাংহাইয়ে দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষ বসবাস করেন। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হন ৪৮ জন। এর মধ্যে মারা যান পাঁচজন।

পিপিই প্রস্তুতের চূড়ান্ত ধাপে ব্যস্ত চীনা কর্মীরা

করোনার উৎপত্তিস্থল উহানের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ সেখানেই মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। আর অন্যান্য শহরে আক্রান্ত বা মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। এতে রহস্য খোঁজা হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে চীনা ভাইরাস হিসেবে অভিহিত করেছেন। চীন কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানে না বলে দাবি করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনী চীনকে অপদস্ত করতেই দুর্নাম করার দাবি করে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসের জন্য চীনকেই দায়ী করছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ