করোনার সতর্কবার্তা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিচ্ছেন চবি ছাত্র 

ঢাকা, রোববার   ০৭ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনার সতর্কবার্তা গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দিচ্ছেন চবি ছাত্র 

চবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১৫ ৩০ মার্চ ২০২০  

এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে যাই

এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে যাই

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। টিউশন ছুটি দিয়ে শহর থেকে গ্রামে ফিরলেন তিনি। কিন্তু একি! করোনাভাইরাস নিয়ে গ্রামের লোকজন ধর্মীয় এবং নানাবিধ কুসংস্কারে পরিপূর্ণ করে রেখেছে। ভাবনার জায়গায় নাড়া দিলো তার। এর থেকে উত্তরণ দরকার। নিজের পকেটের টাকায় সাবান আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিলেন গ্রামের মসজিদে। বন্ধুদের নিয়ে এলাকার আশপাশ পরিষ্কার করলেন। বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতা মূলক ফেস্টুন লাগিয়ে দিলেন।

একটু পরিবর্তন দেখে ভালো লাগলো। অতঃপর নিজের সাইকেলের সামনে ও পেছনে হাতে লিখে প্ল্যাকার্ড লাগালেন। যেখানে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সচেতনতার কথা লেখা আছে। সেই প্ল্যাকার্ড আর সাইকেল নিয়ে গ্রামের প্রধান সড়ক বেয়ে অলি-গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল ওয়াহেদ। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকুপ ইউনিয়নে। জনসচেতনতায় এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে তার সঙ্গে আলাপ করেছেন রুমান হাফিজ। 

চিন্তা যখন এলো:

করোনায় যখন গোটা পৃথিবী জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এর থেকে বাঁচতে মানুষের কতো চিন্তা। আমাদের ক্যাম্পাসও বন্ধ হয়েছে আগেই। বাড়িতে এসে দেখি মানুষের মাঝে নেই কোনো সচেতনতা। সবাই দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাবান দিয়ে হাত ধোয়া নিয়ে নেই কোনো মাথাব্যাথা। নিজ জন্মভূমির এমন পরিস্থিতি নাড়া বিবেককে। তাই প্রথম কয়েকদিন শখের সাইকেলটা নিয়ে হাতে প্ল্যাকার্ডে সচেতনতার কথা লিখে নেমে পড়লাম।
 
কেমন সাড়া পেলেন জানতে চাইলে বলেন, প্রথম কয়েকদিন মানুষ ভালোভাবে নিলেও এলাকার গুটি কয়েক মানুষ উপহাস শুরু করে। তারপরও থামি নি। এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ছুটে যাই। উপজেলা পরিষদ থেকে দক্ষিণ বাঁশখালী পুরোটা গিয়েছি। সেই সঙ্গে নিজ ইউনিয়ন শীলকূপের প্রতিটি গ্রাম। বাকিটা যাওয়ার তীব্র ইচ্ছে থাকলেও যেতে পারিনি প্রশাসন কিভাবে নেয়। তবে যেখানে মানুষ পেয়েছি বুঝানোর চেষ্টা করেছি করোনা থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

এমন উদ্যোগে কারো সহযোগিতা পেলেন কি না প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগ। কাউকে সহযোগিতার জন্য বলা হয়নি। যদিও ইতিবাচক নেতিবাচক উভয় দিকই ছিলো। মন খারাপ হয় নি কখনো, হয়তো আমার প্রচার দেখে খারাপ বলা লোকদের মধ্য থেকে কারো উপকার আসবে, পরিবর্তন হবে।

হাতে লেখা ‘প্ল্যাকার্ড’ নিয়েই সাধারণ মানুষদের সচেতন করতে প্রতিটি ন গ্রামে গ্রামে ঘুরছে আব্দুল ওয়াহেদ। প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন, বিনা প্রয়োজনে বাইরে যাবেন না, হাত মেলানো ও কুলাকুলি করবেন না,সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধৌত করুন, মাস্ক ব্যবহার করুন, জনসমাগম এড়িয়ে চলুন, কাঁশি দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করুন, প্লিজ সতর্ক হোন, দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াবেন না।

জনসচেতনতার এমন কাজ নিয়ে জানালেন, এটা অব্যাহত থাকবে, যেসব জায়গায় এখনো যাওয়া হয় নি সেগুলো যেতে চাই। আর পরিস্থিতি এখনো বাঁশখালীতে ততোটা খারাপ দেখা যায়নি।যদি এমন কিছু হয়ে থাকে প্রাণপণে কাজ করে যাবো যেভাবে সম্ভব। তবে একেবারে হতদরিদ্র মানুষগুলোর জন্য যদি কাজ করতে পারতাম! আমারতো সামর্থ্য নেই। কেউ আর্থিক সাপোর্ট দিলে সরেজমিনে কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম