করোনার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন এক শিক্ষার্থী 

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

করোনার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন এক শিক্ষার্থী 

আরাফাত হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৪ ১৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৭ ১৭ মার্চ ২০২০

টাইগার ইয়ে

টাইগার ইয়ে

চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে রীতিমতো কাঁপছে গোটা বিশ্ব। বিশ্বের দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে ধস নেমেছে। 

তবে শত সহস্র দুঃসংবাদের ভিড়ে আছে সুখবরও। আক্রান্ত অনেকেই ভালো হতে শুরু করেছে। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে ধীরে ধীরে, কমছে মৃতের সংখ্যাও। তবে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

চীনের উহানে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পথ থেকে ফিরা আসার গল্প জানিয়েছিলেন সেখানকার এক শিক্ষার্থী। করোনায় আক্রান্ত থাকার সময়টা ছিলো ঠিক দুঃস্বপ্নের কোনো দৃশ্য, যেনো ঘুম ভাঙলেই সব নাই হয়ে যাবে। এসময় তাকে নানা হাসপাতালে দৌঁড়াতে হয়েছে। করোনার লক্ষণগুলো এতোই মারাত্মক যে তিনি ভেবেছিলেন পুলিশের নজরদারিতে কেয়ারেন্টাইনে থাকাকালীন অন্যদের মতো তারও মৃত্যু হবে।

টাইগার ইয়ে ছদ্মনামের ২১ বছর বয়সী ঐ শিক্ষার্থী চীনের উহানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। বলে রাখা ভালো যে উহান চীনের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে একটি। এটি বিশেষ করে বাণিজ্যিক কারণে বিখ্যাত। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার ভয় টাইগার এরও ছিলো। তিনি একটু অসুস্থতা বোধ করলে মনে প্রাণে চেয়েছিলেন যেন ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি তার মধ্যে ধরা না পড়ে। গত ২১ জানুয়ারি তার হালকা জ্বর ও সারা শরীরে ব্যাথা অনুভূত হয়। রাতের খাবার শেষ করার পর খুবই দুর্বল অনুভব করলে টাইগার তার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে দেখেন তাপমাত্রা খুব বেশি।

এখন COVID-19 নামে যে ভাইরাসটি বিশ্ব ব্যাপী পরিচিত তখন এটা খুব একটা পরিচিত ছিলো না। কারণ এটা তখন মাত্র ছড়ানো শুরু করেছে। তবে কর্তৃপক্ষ এটা নিশ্চিত করেছিলো যে প্রায় এগারো মিলিয়ন লোকের উহান শহরে এই ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ঐদিন মধ্যরাতে টাইগার যখন উহান শহরের ‘টপটাইর টংজি’ হাসপাতালে পৌঁছেন তখন ঐ হাসপাতালের বিশ্রাম কক্ষে তার মতো অসুস্থ অনেককেই অপেক্ষা করতে দেখেন। তাই তিনি এটা বুঝতে পেরেছিলেন যে তার রোগ পরীক্ষা করতে হলে অসুস্থ শরীরেও এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এরপর তিনি সিদ্ধন্ত নেন উহান পালমোনারী হাসপাতালে যাওয়ার। এবং তার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিলো। কারণ ওখানে গিয়ে তিনি কোনো ভিড় লক্ষ্য করেননি।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২২ জানুয়ারি তাকে সবার থেকে থেকে আলাদা করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, ২৫ জানুয়ারি পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে যায়। আমার প্রচণ্ড শুকনো কাশি হয় এবং সংক্রমণ দুই ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে। ২৬ জানুয়ারি পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। তখন শীতে কাঁপতে থাকি। তাছাড়া শরীরের তাপমাত্রা ছিলো খুব বেশি, ৩৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। 

তিনি বলেন, আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলাম। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অসংখ্য রেগীর তথ্য নথিভুক্ত করা হচ্ছিলো। সব ডাক্তার নিরাপত্তামূলক পোশাক পরে ছিলেন। আমি এরআগে কখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি। এসময় তার মনে হয়েছিলো তার কোনো আধ্যাত্মিক সাহায্যে প্রয়োজন। তাই তিনি তার প্রিয় অভিনেত্রীর অভিনীত মুভি দেখেন। যা তাকে অনুপ্রেণা যুগিয়েছিলো। এরপর ২৮ জানুয়ারি নতুন করে পরীক্ষা করে জানা যায় তার ফুসফুস ভালো হতে শুরু করছে। পরবর্তীতে ৪ ফেব্রুয়ারি আবার পরীক্ষার পর করোনোভাইরাস নেগেটিভ পাওয়া যায়।

তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে তার নিউমোনিয়াজনিত কিছু হয়েছে। এবং ক্রমবর্ধমান ভয়ঙ্কর লক্ষণগুলোর জন্য চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিলো। এভাবে উদ্বেগ আর হতাশা নিয়ে প্রায় দু’সপ্তাহ কেটে গেলো। টাইগার অন্যদের চেয়ে সৌভাগ্যবান ছিলেন। কারণ তার বাবা ছিলেন একজন স্বাস্থকর্মী। তিনি উহানের অন্যান্যদের চেয়ে খুব বেশি সচেতন ছিলেন। টাইগার ইয়ে করোনাকে পরাজিত করতে পেরেছিলো শুধুমাত্র তার বাবার জন্য।

সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন,  দ্য গার্ডিয়ান

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম