করোনার মতো প্রাণী থেকে মানবদেহে আসা রোগ বাড়ার শঙ্কা!
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=192602 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনার মতো প্রাণী থেকে মানবদেহে আসা রোগ বাড়ার শঙ্কা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫৯ ৭ জুলাই ২০২০  

ভাইরাসের প্রতীকী ছবি।

ভাইরাসের প্রতীকী ছবি।

বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষা করতে না পারলে জুনটিক রোগের (প্রাণী থেকে যেসব রোগ মানুষের শরীরে আসে) সংখ্যা আরো বাড়তেই থাকবে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

করোনাভাইরাসের মতো ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়ানোর ক্ষেত্রে কৃষিকাজ ও জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ক্ষেত্রে আমিষের তীব্র চাহিদা, পরিবেশের কথা বিবেচনা করছেন না তারা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, করোনাভাইরাসের মতো অনেক রোগের ব্যাপারে নজর দেয়া হয় না। কিন্তু সারাবিশ্বে একই ধরনের প্রাণঘাতী ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাসের কারণে আগামী দুই বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। করোনার মতো রোগগুলোর কারণে আর্থিক ক্ষতিও কম নয়।

ইবোলা, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস, সার্সও জুনটিক রোগ। এগুলোর শুরু প্রাণী দেহে, পরে ছড়িয়েছে মানবদেহে। তবে প্রাণীর দেহ থেকে মানবদেহে এসব রোগ আপনা-আপনি আসে না।

জাতিসংঘের পরিবেশ ও গবাদিপশু সংক্রান্ত গবেষণা ইন্সটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাকৃতিক পরিবেশে হস্তক্ষেপের কারণে এসব ভাইরাস মানবদেহে আসে। হস্তক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে জমির ক্ষতি, বন্যপ্রাণীর ব্যবহার, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও জলবায়ুর পরিবর্তন।
হস্তক্ষেপের ফলে মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্কে পরিবর্তন ঘটছে।

জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব ও পরিবেশ কর্মসূচির প্রধান নির্বাহী ইঙ্গার এন্ডারসেন বলেন, গত শতাব্দীতে অন্তত ছয় বার নোভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখেছি আমরা। কোভিড-১৯ এর আগে গত দুই দশকে জুনটিক রোগের কারণে ১০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের রোগে প্রত্যেক বছর নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যানথ্রাক্স, বোভাইন যক্ষা ও জলাতঙ্ক।

তিনি বলেন, গবাদিপশুর ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীলতা ও বন্যপ্রাণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই বিপদ ডেকে এনেছে। গত ৫০ বছরে মাংসের উৎপাদন ২৬০ শতাংশ বেড়েছে। আমরা কৃষিকাজ বাড়ানোর পাশপাশি বনাঞ্চলে অবকাঠামোর সম্প্রসারণ করে সম্পদ আহরণ করছি।

ইঙ্গার এন্ডারসেন বলেন, মানুষের শরীরে যতো সংক্রামক রোগ হয় তার ২৫ শতাংশের সঙ্গে বাঁধ, সেচ, কারখানা, খামারের সম্পর্ক রয়েছে। ভ্রমণ, পরিবহন ও খাদ্য সরবরাহের চক্রে সীমান্ত ও দূরত্ব মুছে গেছে। জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার পেছনে জলবায়ুর পরিবর্তনও দায়ী।

প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে করোনার মতো মহামারি মোকাবিলায় কৌশল নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরামর্শে জমির পরিকল্পিত ব্যবহার, জীব বৈচিত্র বাড়ানো ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আরো বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

ইঙ্গার এন্ডারসেন বলেন, বন্যপ্রাণীর যথেচ্ছ ব্যবহার ও পরিবেশ ধ্বংস করায় মানবদেহে জুনটিক রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

তিনি বলেন, এসব বন্ধ না হলে সামনের দিনে প্রাণী থেকে মানবদেহে আরো রোগের প্রবাহ বাড়বে। তাই ভবিষ্যতে এসব রোগের প্রকোপ প্রতিরোধে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় আমাদের আরো বেশি সচেষ্ট হতে হবে।

-বিবিসি বাংলা

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ