করোনার ছুটিতে পাল্টে যাচ্ছে ক্যাম্পাসের অভ্যাসগুলো 

ঢাকা, শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

করোনার ছুটিতে পাল্টে যাচ্ছে ক্যাম্পাসের অভ্যাসগুলো 

মঈনুদ্দীন পাঠান, নোবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:০৬ ২৯ মার্চ ২০২০  

একটাই প্রশ্ন জাগে এই অপেক্ষার শেষ কোথায়?

একটাই প্রশ্ন জাগে এই অপেক্ষার শেষ কোথায়?

করোনার ছুটিতে সুনসান নীরবতায় ক্যাম্পাস। যেনো কোথাও কেউ নেই। এক প্রকার থমকে আছে সবকিছু। শিক্ষার্থীরা যে যার বাড়ি বাড়ি। অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। এমন সময় সবার মনে একটাই প্রশ্ন জাগে এই অপেক্ষার শেষ কোথায়? কতদিন পার হলো! ছুটিতে কেটে যাচ্ছে সময়। কতদিন কানে বাজে নাই! ক্যাম্পাসের স্বপ্ন ছোঁয়া দৃশ্যে আড্ডায় গানে মেতে উঠা সুর। কতদিন হয়নি দেখা! অলিতে-গলিতে, ক্যাম্পাসের মোড়ে প্রিয় মুখগুলোর সঙ্গে।নিত্যদিনই চোখের সামনে ভেসে উঠে বন্ধুদের সঙ্গে খোশগল্পে কাটানো সময়গুলো। মনে পড়ে টং দোকানে বাকি দেয়া চাচার গল্প। হয়ত চাচার সঙ্গে আর হবে না শেষ দেখা। হয়তো আর ফিরে আসবে না গেটের সামনে কর্মরত আনসার মামা।

তাই বদলে যাচ্ছে ক্যাম্পাসে থাকা নিয়মের অভ্যাসগুলো। সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লাসে যাওয়া, দুপুরে হলের ডাইনিংয়ে খাওয়ার সিরিয়াল ধরা, বিকেল বাসে সিট রাখার প্রতিযোগিতায় শামিল হওয়া, গানের সুরে বাসের আড্ডার দৃশ্য এসব কথা ভাবতেই ফিরে যেতে ইচ্ছে হয় প্রিয় ক্যাম্পাসে। বাসায় থেকে গুনতে হচ্ছে অপেক্ষার প্রহর। কবে ফির আসবে হারানো পরিবেশ? আর কতদিন পার হলে ফিরে পাবো পূর্বের অবস্থা। 

কিন্তু এসময়গুলোতে কিভাবে কাটছে ক্যাম্পাসিয়ানদের সময়! এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য বেশি দূর যেতে হয় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধিকাংশ সময় কাটিয়ে দিচ্ছে। যারা অন্য সময় ফেসবুকে সপ্তাহে একটা পোস্ট শেয়ার দিত তারা আজ প্রতিনিয়ত ফেসবুকে সক্রিয়। করোনার সর্বশেষ অবস্থা জানতে সবাই অনলাইনে সময় পার করছে কেউ আবার ফেসবুকে শেয়ার করছে। দেশের এই দুঃসময়ে কিছু শিক্ষার্থী সেচ্ছাসেবায় নিয়োজিত হয়ে গরীব দুঃখী মানুষের পাশে দাড়িয়েছে। আবার কেউ হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানিয়ে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। 

সময় কাটছে কিভাবে এমন প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল আলম মারুফ বলেন, প্রতিদিন স্বপ্নে দেখি ক্যাম্পাসের টিএসসিতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি। কিন্তু ঘুম থেকে উঠতেই খারাপ লাগে আর কতদিন এভাবে স্বপ্ন দেখে যাবে? কতদিন হয়ে গেল ক্যাম্পাস ছেড়ে এসেছি? বাড়িতে এসেও ঘর থেকে বের হতে পারছি না। সময় কাটছেনা খুব ইচ্ছে করে আবার চলে যাই ক্যাম্পাসে। 

ক্যাম্পাসের স্মৃতিচারণ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল পাঠান বলেন, জীবনটাকে জীবনের মতো গড়ে তোলার  জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া, আর সেই জীবন যখন মহামারি থেকে দূরে থাকার জন্য প্রানের ক্যাম্পাস ছেড়ে বাসায় থাকায় ভালোবাসার মানুষগুলোকে মিস করে তখন মনে পড়ে বন্ধুদের সঙ্গে পার করা সময়গুলোর কথা ৷ সাইকেল দিয়ে ক্যাম্পাস ঘুরা। মনে পড়ে কৃষিতত্ত্ব মাঠের মাঝে নারকেল গাছের নিচে বসে থাকা। চা এর কাপে চুমুক দিয়ে জীবনটাকে নিয়ে ভাবা৷  চা এর থেকে ধোয়া উঠে যায় আর স্মরণ করিয়ে দেয় জীবন থেকে ও স্মরণীয় সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। মনে পড়ে আদর স্নেহময় ছোটদের কথা ভালোবাসার ভাইদের কথা। 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আরাফাত বলেন, ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বর, স্নান চত্বর, ইবলিশ চত্বর, লিচুতলা, লিপু চত্বর, জারজিজ চত্বর, পরিসংখ্যান চত্বর, সায়েন্স ক্লাব চত্বর, আমতলা, সিনেট চত্বরসহ ক্যম্পাসের বিভিন্ন ভবনের সামনের চায়ের দোকানগুলোকে ঘিরে প্রায় পঞ্চাশটির মতো চত্বর গড়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখরিত থাকে চত্বরগুলো। কিন্তু আজ সেই চত্বর গুলো জনশূন্য। নেই কোনো কোলাহল, নেই বন্ধুদের আড্ডায় মেতে উঠা জনসমাগম। শুূধু জানতে ইচ্ছা করে এই অপেক্ষার সময় কতদিন? 

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী দিগন্ত ইসলাম বলেন, করোনা আতংকে ক্যাম্পাস বন্ধের পর থেকে সময় কাটছে না। সারাদিন বাড়িতে বসে থাকলেও ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে বসে আড্ডা দেওয়ার মূহূর্তটি, নীলদিঘির পাড়ে চড়ুইভাতি, হতাশার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা, লন্ডন রোডে ছবি তুলতে যাওয়া, কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে যাওয়া এই বিষয় গুলো খুব বেশি মিস করছি। 

বিষন্ন মনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আলাউদ্দিন রাকিব বলেন, ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়িতে আসার পর সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে প্রতিদিনকার যাতায়াত সঙ্গী ক্যাম্পাসের প্রাণের শাটল, সকালে ঘুম থেকে উঠলেই কানে বাজে এই বুঝি মিস করলাম শাটল, তারপরেই আসে ক্লাসের ফাকে ঝুপড়ীর (ছোট দোকান) আড্ডা, নিরিবিলি প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্যের ফরেস্ট্রি রোড আরো আছে সন্ধ্যার সোডিয়াম লাইটের নিচে  জিরো পয়েন্ট বসে গল্পে আড্ডায় জমে উঠা মুহূর্তগুলো। আবার মনে পড়ে সেন্ট্রাল ফিল্ডে সূর্যাস্ত দেখার সঙ্গে দিব্যি রাত অবধি আড্ডা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম